Newsvob.com.: নিজস্ব প্রতিবেদক : অদ্য ০৬/০৪/২০২২ইং তারিখে সিআইডি এক প্রেস ব্রিফিং এ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্ত ধর বলেন, খুলনার ফুলতলা উপজেলার এমএম (মোজাম মহলদার) কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী (সমাজকর্ম) সৈয়দ আলিফ রোহান (২০) পিতা- সৈয়দ আবু তাহের, সাং- পায়গ্রাম কসবা, থানা- ফুলতলা, জেলা- খুলনা গত ইং ৩১/০৩/২০২২ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকায় উক্ত কলেজের উত্তর পাশের গেইট সংলগ্ন কলেজ মাঠে ১। তাছিন মোড়ল (২২), ২। সাব্বির ফারাজী (২৩) এবং অপর কয়েকজন শিক্ষার্থী কর্তৃক হত্যাকান্ডের শিকার হয়।
উক্ত ঘটনায় মৃতের পিতা সৈয়দ আবু তাহের (৫১) কর্তৃক ১। তাছিন মোড়ল (২২), ২। সাব্বির ফারাজী (২৩)সহ এজাহারনামীয় ৫ জন ও অজ্ঞাতনামা ৪/৫জন আসামীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফুলতলা থানার মামলা নং- ০১, তারিখঃ ০১/০৪/২০২২ খ্রিঃ, ধারাঃ ৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।
উক্ত ঘটনার প্রতিবাদে, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচার পূর্বক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী ইং ০৩/০৪/২০২২ তারিখ রবিবার সকাল ১১:০০ ঘটিকা হতে দুপুর ১২:০০ ঘটিকা পর্যন্ত এমএম কলেজের সামনে খুলনা-যশোর মহাসড়কের পাশে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে।
উক্ত ঘটনাটি দেশজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে সিআইডি ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে।
এলআইসির বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মুক্তা ধর পিপিএম-বার এর সার্বিক তত্তাবধানে ও নির্দেশনায় সিআইডির এলআইসি শাখা কর্তৃক উক্ত হত্যার ঘটনাটি রাজনৈতিক কোন কোন্দল/ কলেজের আধিপত্য বিস্তার/ কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রন/ প্রেমঘটিত কোন বিষয়ে বিরোধের জেরে সংগঠিত হয়েছে নাকি অবৈধ লাভের আশায় বাধাগ্রস্থ হয়ে হত্যা করা হয়েছে ইত্যাদি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ভিকটিমের পরিবার, ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকার বিভিন্ন উৎস হতে সরেজমিনে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সাথে রি-ইউনিয়ন স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যয়নরত ১। তাছিন মোড়ল (২২), ২। সাব্বির ফারাজী (২৩)সহ বেশ কয়েকজনের ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
এলআইসি’র একটি চৌকস টীম তাদের গ্রেফতারের জন্য সম্ভাব্য সকল স্থানে গ্রেফতারী অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন গাজীর চট এলাকা হতে তাদেরকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা হত্যার দায় স্বীকার করে। জানা যায় যে, ফুলতলা থানাধীন পায়গ্রাম কসবা সাকিনস্থ ভিক্টিম সৈয়দ আলিফ রোহান (২০) এর বাড়ীর পাশে “রহমানিয়া এলিমেন্টারী স্কুল” নামীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অত্র ঘটনার আসামী পক্ষ উক্ত অনুষ্ঠানে যেয়ে বিভিন্ন মেয়েকে উত্যক্ত করাসহ অনুষ্ঠানে হট্রগোল করতে থাকলে আলিফ রোহান এলাকার অন্যান্য ছেলেদের নিয়ে তার প্রতিবাদ করে।
এরই ধারাবাহিকতায় আসামী- ১। তাছিন মোড়ল (২২), ২। সাব্বির ফারাজী (২৩), ৩। শান্ত গাজী (২১)সহ অন্যান্যরা সুযোগ বুঝে আলিফ রোহানকে দেখে নেবে মর্মে হুমকি প্রদান করে। ইং ৩১/০৩/২০২২ তারিখ সকাল ১১:৩০ ঘটিকার সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামীগন ভিক্টিম আলিফ রোহানকে এমএম কলেজ মাঠে একা পাইয়া ২ নং আসামী সাব্বির ফারাজীর হুকুমে ১ নং আসামী তাছিন মোড়ল তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ভিক্টিমের বুকের ডান পাশে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
এছাড়া উক্ত কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী অপরাপর সদস্যরাও বিভিন্নভাবে তাকে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় কলেজের শিক্ষার্থীরা তাকে সিএনজিযোগে দ্রুত ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করলে সেখানে নেয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষনা করে।
আসামী শান্ত গাজী (২১) এর সাথে ভিক্টিম রোহান এর ক্রীড়া অনুষ্ঠানে ইভটিজিং ও হট্রগোলের প্রতিবাদের কারণে সৃষ্ট শত্রুতার জের ধরেই ভিক্টিম রোহানকে শায়েস্তা করার জন্য আসামী শান্ত গাজী তার সহযোগী হিসেবে রি-ইউনিয়ন স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র আসামী ১। তাছিন মোড়ল (২২), ২। সাব্বির ফারাজী (২৩)দেরকে মামলার ঘটনাস্থলে নিয়ে এসে উক্ত হত্যাকান্ড সংঘঠিত করে।
এরূপ মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার এজাহারনামীয় প্রধান দুইজন আসামীকে দ্রুততম সময়ে চিহ্নিতপূর্বক গ্রেফতার সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
নিউজ ভয়েস অফ বাংলাশে- জে/ রশীদ