ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo যেকোনো সময় বেনজীরের প্রত্যাবর্তন Logo নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের মূর্তমান প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া : তথ্যমন্ত্রী Logo যে ভাবে ডেভিড ইমনের কাছে মিলল ভারতীয় আধার কার্ড, নাম ‘আজহার খান’ Logo অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের চার শিশু আটক Logo ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ Logo বিজ্ঞাপনের চুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে শারিরীক নির্যাতন, মামলা করতে থানায় মডেল স্নিগ্ধা Logo জরুরি সতর্কবার্তা দিল পুলিশ Logo তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬১ জন গ্রেফতার Logo জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় ১১.২৫ লাখ ইউরোর প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি করলো বাংলাদেশ-আইওএম Logo রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার

এরশাদের চমক

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮
  • ৭৫ বার পঠিত হয়েছে

মহাজোটে জুটেছে ২৬ আসন, আর উন্মুক্ত ১৪৬ আসনে লড়ছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। আর এই উন্মুক্ত আসনগুলোকে শাপে বর মনে করছে জাতীয় পার্টি।

জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, প্রায় ২৫টির মতো আসনে তাদের প্রার্থীরা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হবেন। এসব আসনে জাপার প্রার্থীরা হয় জয়ী হবেন, না হলে অল্প ব্যবধানে হেরে যেতে পারেন। যে কারণে উন্মুক্ত এই আসনগুলোকে সৌভাগ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। জিতলে তো কথাই নেই, জিততে না পারলে, অন্তত ১৪৬ আসনে সংগঠনও চাঙ্গা হয়ে উঠবে সেটাই বা কম কিসে।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল সূত্র জানিয়েছে, ১৪৬ আসনে জাপার প্রার্থীরা লড়ছেন যেখানে কোনো জোট হয়নি। নৌকাও রয়েছে আবার লাঙ্গলও রয়েছে। এমন ২৫টি আসন রয়েছে যেখানে প্রার্থীদের একটু নার্সিং করা গেলে জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব। কিছু কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থী নেই, আবার অনেক আসনে প্রার্থী মাঠে না থাকায় ভোটাররা বিকল্প হিসেবে জাতীয় পার্টিকে বিবেচনা করছেন।

জাপা সূত্র দাবি করছে, ‘দেশে ভোটারদের স্বভাব হচ্ছে, ভোটারদের মধ্যে একটি বড় অংশ সরকারবিরোধী। অর্থাৎ তারা সব সময় শাসক দলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। ১৯৯১, ৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।’

বিএনপির প্রার্থী মাঠে না থাকায় সরকারের নেগেটিভ ভোটগুলো লাঙ্গল প্রতীকে পড়বে। আবার আওয়ামী লীগ, বিএনপির প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ নয় এমন লোকও লাঙ্গলের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। সে কারণে বেশ কিছু আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বিজয় সম্ভাবনা উজ্জ্বল দেখা যাচ্ছে। এটাই হবে এরশাদের চমক।

সম্ভাবনাময় আসনগুলো হচ্ছে ঠাকুরগাঁও-৩ সাবেক এমপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, দিনাজপুর-৪ মোনাজাত চৌধুরী, দিনাজপুর-৬ দেলোয়ার হোসেন, রংপুর-৫ এসএম ফখর-উজ-জামান, কুড়িগ্রাম-১ একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ ডা. আক্কাস আলী সরকার, নওগাঁ-৩ অ্যাড. তোফাজ্জল হোসেন, নাটোর-৪ অধ্যাপক আলাউদ্দিন মৃধা, সিরাজগঞ্জ-৫ মোক্তার হোসেন ও কুষ্টিয়া-১ শাহারিয়ার জামিল জুয়েল।

যশোর-৫ এমএ হালিম, খুলনা-১ সুনীল শুভরায়, সাতক্ষীরা-১ সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত, বরিশাল-৩ সাবেক এমপি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া টিপু, জামালপুর-২ মোস্তফা আল মাহমুদ, মানিকগঞ্জ-৩ জহিরুল আলম রুবেল, ঢাকা-৫ মীর আব্দুস সবুর আসুদ, নরসিংদী-৪ নেওয়াজ আলী ভূইয়া, সিলেট-৩ উছমান আলী চেয়ারম্যান, কুমিল্লা-৭ লুৎফর রেজা, নোয়াখালী-২ হাসান মঞ্জুর ও কক্সবাজার-৪ মাস্টার আবুল মঞ্জুর।

নরসিংদী-৪ আসনের প্রার্থী নেওয়াজ আলী ভূইয়া বাংলা ভয়েস কে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা বেলাবো ও মনোহরদী। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রার্থী দু’জনেরই বাড়ি মনোহরদীর। তাদের ভোট ভাগাভাগি হবে। আবার বেলাবো উপজেলার এক লাখ ৩৮ হাজার আঞ্চলিক ভোট আমাকে বাড়তি সুবিধা দিবে।

নেওয়াজ আলী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এলাকার উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। মানুষ তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আবার তার দলের মধ্যে অনেক গ্রুপিং।

ঢাকা-৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক ফুটবলার মীর আব্দুস সবুর আসুদ বাংলা ভয়েস কে বলেন, ‘আমি এই এলাকার মাটি মানুষের পাশে থেকে বড় হয়েছি। আমি এই এলাকার মাটি মানুষকে চিনি। তারাও আমাকে ও আমার পরিবারকে ভালো জানে।’

জাতীয় পার্টির নির্বাচন মনিটরিং সেলের প্রধান প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান বাংলা ভয়েস কে বলেন, ‘মানুষ দু’টি দলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অনেক আসনে আমাদের প্রার্থীর পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এরশাদের সেই স্বর্ণযুগে ফিরে যেতে চায়।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

যেকোনো সময় বেনজীরের প্রত্যাবর্তন

এরশাদের চমক

আপডেট এর সময় : ০৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮

মহাজোটে জুটেছে ২৬ আসন, আর উন্মুক্ত ১৪৬ আসনে লড়ছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। আর এই উন্মুক্ত আসনগুলোকে শাপে বর মনে করছে জাতীয় পার্টি।

জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, প্রায় ২৫টির মতো আসনে তাদের প্রার্থীরা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হবেন। এসব আসনে জাপার প্রার্থীরা হয় জয়ী হবেন, না হলে অল্প ব্যবধানে হেরে যেতে পারেন। যে কারণে উন্মুক্ত এই আসনগুলোকে সৌভাগ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। জিতলে তো কথাই নেই, জিততে না পারলে, অন্তত ১৪৬ আসনে সংগঠনও চাঙ্গা হয়ে উঠবে সেটাই বা কম কিসে।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল সূত্র জানিয়েছে, ১৪৬ আসনে জাপার প্রার্থীরা লড়ছেন যেখানে কোনো জোট হয়নি। নৌকাও রয়েছে আবার লাঙ্গলও রয়েছে। এমন ২৫টি আসন রয়েছে যেখানে প্রার্থীদের একটু নার্সিং করা গেলে জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব। কিছু কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থী নেই, আবার অনেক আসনে প্রার্থী মাঠে না থাকায় ভোটাররা বিকল্প হিসেবে জাতীয় পার্টিকে বিবেচনা করছেন।

জাপা সূত্র দাবি করছে, ‘দেশে ভোটারদের স্বভাব হচ্ছে, ভোটারদের মধ্যে একটি বড় অংশ সরকারবিরোধী। অর্থাৎ তারা সব সময় শাসক দলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। ১৯৯১, ৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।’

বিএনপির প্রার্থী মাঠে না থাকায় সরকারের নেগেটিভ ভোটগুলো লাঙ্গল প্রতীকে পড়বে। আবার আওয়ামী লীগ, বিএনপির প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ নয় এমন লোকও লাঙ্গলের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। সে কারণে বেশ কিছু আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বিজয় সম্ভাবনা উজ্জ্বল দেখা যাচ্ছে। এটাই হবে এরশাদের চমক।

সম্ভাবনাময় আসনগুলো হচ্ছে ঠাকুরগাঁও-৩ সাবেক এমপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, দিনাজপুর-৪ মোনাজাত চৌধুরী, দিনাজপুর-৬ দেলোয়ার হোসেন, রংপুর-৫ এসএম ফখর-উজ-জামান, কুড়িগ্রাম-১ একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ ডা. আক্কাস আলী সরকার, নওগাঁ-৩ অ্যাড. তোফাজ্জল হোসেন, নাটোর-৪ অধ্যাপক আলাউদ্দিন মৃধা, সিরাজগঞ্জ-৫ মোক্তার হোসেন ও কুষ্টিয়া-১ শাহারিয়ার জামিল জুয়েল।

যশোর-৫ এমএ হালিম, খুলনা-১ সুনীল শুভরায়, সাতক্ষীরা-১ সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত, বরিশাল-৩ সাবেক এমপি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া টিপু, জামালপুর-২ মোস্তফা আল মাহমুদ, মানিকগঞ্জ-৩ জহিরুল আলম রুবেল, ঢাকা-৫ মীর আব্দুস সবুর আসুদ, নরসিংদী-৪ নেওয়াজ আলী ভূইয়া, সিলেট-৩ উছমান আলী চেয়ারম্যান, কুমিল্লা-৭ লুৎফর রেজা, নোয়াখালী-২ হাসান মঞ্জুর ও কক্সবাজার-৪ মাস্টার আবুল মঞ্জুর।

নরসিংদী-৪ আসনের প্রার্থী নেওয়াজ আলী ভূইয়া বাংলা ভয়েস কে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা বেলাবো ও মনোহরদী। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রার্থী দু’জনেরই বাড়ি মনোহরদীর। তাদের ভোট ভাগাভাগি হবে। আবার বেলাবো উপজেলার এক লাখ ৩৮ হাজার আঞ্চলিক ভোট আমাকে বাড়তি সুবিধা দিবে।

নেওয়াজ আলী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এলাকার উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। মানুষ তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আবার তার দলের মধ্যে অনেক গ্রুপিং।

ঢাকা-৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক ফুটবলার মীর আব্দুস সবুর আসুদ বাংলা ভয়েস কে বলেন, ‘আমি এই এলাকার মাটি মানুষের পাশে থেকে বড় হয়েছি। আমি এই এলাকার মাটি মানুষকে চিনি। তারাও আমাকে ও আমার পরিবারকে ভালো জানে।’

জাতীয় পার্টির নির্বাচন মনিটরিং সেলের প্রধান প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান বাংলা ভয়েস কে বলেন, ‘মানুষ দু’টি দলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অনেক আসনে আমাদের প্রার্থীর পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এরশাদের সেই স্বর্ণযুগে ফিরে যেতে চায়।’