ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারে চাঞ্চল্যকর তথ্য, উঠে এলো ১১ জনের নাম Logo প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন কাল Logo জুলাই যোদ্ধাদের পাশে প্রধানমন্ত্রী, উপহার দিলেন অটোরিকশা-রিকশা Logo মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে : ডা. জুবাইদা রহমান Logo ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য: প্রধানমন্ত্রী Logo মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি চক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেফতার; বিপুল আলামত উদ্ধার Logo জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী Logo মিরপুর মডেল থানার অভিযানে ৯০ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার Logo ২৮ লাখ টাকার জাল নোটসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে গুলশান থানা পুলিশ Logo যেকোনো সময় বেনজীরের প্রত্যাবর্তন

কালবৈশাখী ঝড়ে রাজধানীসহ সারাদেশে নিহত ১৩

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০১৯
  • ১০৮ বার পঠিত হয়েছে

কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুসহ ১৩ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৮, মৌলভীবাজারে ২, নেত্রকোনায় ১, সুনামগঞ্জে ১ ও কিশোরগঞ্জে ১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ঝড়ের কবলে পড়ে আহত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ২০ জন।

রবিবার ( ৩১ মার্চ) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাজধানী ঢাকার ওপর দিয়ে বয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড়। কয়েক মিনিটের ঝড়ে গাছপালা ভেঙে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড ও ওভারহেড বোর্ড ভেঙে পড়ে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়।

বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ চলে যায়। ঝড়ের আগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্র ও প্রচণ্ড ধূলিঝড় বয়ে যায়। এরপরই শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়। তখন বাতাসের গতি ছিল ৭৪ কিলোমিটার। পরে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হয়।

মাত্র ২০ মিনিটে আবহাওয়া বিভাগ ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করে। রাজধানীর কিছু কিছু এলাকায় বজ্র বৃষ্টির সঙ্গে বড় বড় শিলা পড়ে। ঝড় স্বল্পস্থায়ী হলেও এর দু’ঘণ্টা পরও রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন।

ঝড়ের সময় রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে মল্লিক কমপ্লেক্সের ওপর থেকে ইট ও ফুলের টব মো. হানিফ (৫০) নামে এক পথচারীর মাথায় পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। পথচারীরা ধরাধরি করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হানিফের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুল লতিফ। তিনি ঢাকায় পরিবারসহ দক্ষিণ মুগদায় বসবাস করতেন। মল্লিক কমপ্লেক্সের কোন তলা থেকে ইট ও ফুলের টব পড়েছে তার অনুসন্ধান চলছে।

শেরে বাংলা নগরে ঝড়ের সময়ে গাছে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন মিলি ডি কস্তা (৬০)। তার বাসা মণিপুরীপাড়ায়। তিনি সংসদ ভবন এলাকায় হাঁটতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন বলে জানান শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম।

মিরপুর থানার পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় নির্মাণাধীন একটি দেয়াল থেকে ইট পড়ে নিহত হন এক গাড়িচালক। তার নাম দুলাল মিয়া (৪০)। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক।

তার লাশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। মিরপুর মডেল থানার এসআই আসিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজধানীর কদমতলীর পলাশপুরে দেয়ালচাপা পড়ে মো. হাসান (৪০) নামে এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কদমতলী থানার ওসি জামালউদ্দীন মীর। তিনি জানান, পলাশপুর ৫ নম্বর সড়কে একটি বাড়ির সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দেয়ালচাপা পড়ে তিনি মারা যান।

ঝড়ের মধ্যে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা ডুবে এক নারী ও তার পাঁচ বছরের ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- রুমি আক্তার, তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আরিফ হোসেন, তুহিন এবং সাব্বির হোসেন।

ঝড়ের সময়ে মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের একটি দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের ডিউটি অফিসার আতাউর রহমান।

গুলশান-২-এর ১১৩ নম্বর রোডে প্রকৌশলী সালাউদ্দিনের গাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে গাড়িটির সামনের কাচ ভেঙে চৌচির হয়ে যায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। একই এলাকায় একটি সিএনজির ওপরও গাছ ভেঙে পড়ে বলে জানা গেছে।

ঢাকা ছাড়াও বৃহত্তর সিলেটসহ দেশের কয়েকটি এলাকায়ও চলে কালবৈশাখীর তাণ্ডব। কোথাও কোথাও বজ্রপাতও হয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের নাম সাদিয়া আক্তার (৬) ও মুন্নী আক্তার (৪)।

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা সদরে বজ্রপাতে রাব্বি মিয়া (১৮) নামের একজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে রোকন মিয়া (২১) নামের একজন। নিহত রাব্বি মিয়া ইটনা সদরের নয়ানন্দী হাটি গ্রামের কাদির মিয়ার ছেলে। জানা যায়, রোববার ধনু নদীর বলদা ঘাটে স্টিল বডি নৌকা থেকে তীরে পাথর নামানোর কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক।

দুপুর ১২টার দিকে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। শ্রমিকরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাড়ির দিকে রওনা হন। দাসপাড়া গ্রামের সামনের রাস্তায় পৌঁছলে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে রাব্বি মিয়া ও একই গ্রামের রোকন মিয়া আহত হন। এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডা. নাদিরুল আলম রাব্বিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রোকন মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা। তার বাবার নাম শুক্কুর আলী। ইটনা থানার ওসি মুর্শেদ জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় রবিবার দুপুর ১টার দিকে বজ্রপাতে দেলোয়ার হোসেন (১৭) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দেলোয়ার উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের জুহুর মিয়ার ছেলে। জামালগঞ্জ থানার ওসি আবুল হাসেম জানান, দেলোয়ার হোসেন বাড়ির পাশের হাওরে ঘাস কাটতে গিয়েছিল। দুপুর ১টার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। দেলোয়ারের হোসেনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে দুপুরের পর থেকে জেলার বিভিন্ন হাওরে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

অপরদিকে, নেত্রকোনা সদর উপজেলার কচু ডোয়ারি এলাকায় বজ্রপাতে মো. আছর উদ্দিন নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আছর উদ্দিন সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

নেত্রকোনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মানিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঝড়ো বাতাসে শুরু হওয়া গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে ধান ক্ষেতে কাজ করছিলেন আছর উদ্দিন। এ সময় বজ্রপাত হলে পুরো শরীর ঝলসে যায় তার। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আল-মজিদ জানান, বজ্রপাতে মারা যাওয়া বৃদ্ধের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারে চাঞ্চল্যকর তথ্য, উঠে এলো ১১ জনের নাম

কালবৈশাখী ঝড়ে রাজধানীসহ সারাদেশে নিহত ১৩

আপডেট এর সময় : ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০১৯

কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুসহ ১৩ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৮, মৌলভীবাজারে ২, নেত্রকোনায় ১, সুনামগঞ্জে ১ ও কিশোরগঞ্জে ১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ঝড়ের কবলে পড়ে আহত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ২০ জন।

রবিবার ( ৩১ মার্চ) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাজধানী ঢাকার ওপর দিয়ে বয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড়। কয়েক মিনিটের ঝড়ে গাছপালা ভেঙে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড ও ওভারহেড বোর্ড ভেঙে পড়ে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়।

বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ চলে যায়। ঝড়ের আগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্র ও প্রচণ্ড ধূলিঝড় বয়ে যায়। এরপরই শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়। তখন বাতাসের গতি ছিল ৭৪ কিলোমিটার। পরে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হয়।

মাত্র ২০ মিনিটে আবহাওয়া বিভাগ ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করে। রাজধানীর কিছু কিছু এলাকায় বজ্র বৃষ্টির সঙ্গে বড় বড় শিলা পড়ে। ঝড় স্বল্পস্থায়ী হলেও এর দু’ঘণ্টা পরও রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন।

ঝড়ের সময় রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে মল্লিক কমপ্লেক্সের ওপর থেকে ইট ও ফুলের টব মো. হানিফ (৫০) নামে এক পথচারীর মাথায় পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। পথচারীরা ধরাধরি করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হানিফের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুল লতিফ। তিনি ঢাকায় পরিবারসহ দক্ষিণ মুগদায় বসবাস করতেন। মল্লিক কমপ্লেক্সের কোন তলা থেকে ইট ও ফুলের টব পড়েছে তার অনুসন্ধান চলছে।

শেরে বাংলা নগরে ঝড়ের সময়ে গাছে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন মিলি ডি কস্তা (৬০)। তার বাসা মণিপুরীপাড়ায়। তিনি সংসদ ভবন এলাকায় হাঁটতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন বলে জানান শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম।

মিরপুর থানার পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় নির্মাণাধীন একটি দেয়াল থেকে ইট পড়ে নিহত হন এক গাড়িচালক। তার নাম দুলাল মিয়া (৪০)। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক।

তার লাশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। মিরপুর মডেল থানার এসআই আসিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজধানীর কদমতলীর পলাশপুরে দেয়ালচাপা পড়ে মো. হাসান (৪০) নামে এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কদমতলী থানার ওসি জামালউদ্দীন মীর। তিনি জানান, পলাশপুর ৫ নম্বর সড়কে একটি বাড়ির সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দেয়ালচাপা পড়ে তিনি মারা যান।

ঝড়ের মধ্যে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা ডুবে এক নারী ও তার পাঁচ বছরের ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- রুমি আক্তার, তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আরিফ হোসেন, তুহিন এবং সাব্বির হোসেন।

ঝড়ের সময়ে মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের একটি দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের ডিউটি অফিসার আতাউর রহমান।

গুলশান-২-এর ১১৩ নম্বর রোডে প্রকৌশলী সালাউদ্দিনের গাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে গাড়িটির সামনের কাচ ভেঙে চৌচির হয়ে যায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। একই এলাকায় একটি সিএনজির ওপরও গাছ ভেঙে পড়ে বলে জানা গেছে।

ঢাকা ছাড়াও বৃহত্তর সিলেটসহ দেশের কয়েকটি এলাকায়ও চলে কালবৈশাখীর তাণ্ডব। কোথাও কোথাও বজ্রপাতও হয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের নাম সাদিয়া আক্তার (৬) ও মুন্নী আক্তার (৪)।

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা সদরে বজ্রপাতে রাব্বি মিয়া (১৮) নামের একজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে রোকন মিয়া (২১) নামের একজন। নিহত রাব্বি মিয়া ইটনা সদরের নয়ানন্দী হাটি গ্রামের কাদির মিয়ার ছেলে। জানা যায়, রোববার ধনু নদীর বলদা ঘাটে স্টিল বডি নৌকা থেকে তীরে পাথর নামানোর কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক।

দুপুর ১২টার দিকে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। শ্রমিকরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাড়ির দিকে রওনা হন। দাসপাড়া গ্রামের সামনের রাস্তায় পৌঁছলে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে রাব্বি মিয়া ও একই গ্রামের রোকন মিয়া আহত হন। এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডা. নাদিরুল আলম রাব্বিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রোকন মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা। তার বাবার নাম শুক্কুর আলী। ইটনা থানার ওসি মুর্শেদ জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় রবিবার দুপুর ১টার দিকে বজ্রপাতে দেলোয়ার হোসেন (১৭) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দেলোয়ার উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের জুহুর মিয়ার ছেলে। জামালগঞ্জ থানার ওসি আবুল হাসেম জানান, দেলোয়ার হোসেন বাড়ির পাশের হাওরে ঘাস কাটতে গিয়েছিল। দুপুর ১টার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। দেলোয়ারের হোসেনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে দুপুরের পর থেকে জেলার বিভিন্ন হাওরে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

অপরদিকে, নেত্রকোনা সদর উপজেলার কচু ডোয়ারি এলাকায় বজ্রপাতে মো. আছর উদ্দিন নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আছর উদ্দিন সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

নেত্রকোনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মানিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঝড়ো বাতাসে শুরু হওয়া গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে ধান ক্ষেতে কাজ করছিলেন আছর উদ্দিন। এ সময় বজ্রপাত হলে পুরো শরীর ঝলসে যায় তার। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আল-মজিদ জানান, বজ্রপাতে মারা যাওয়া বৃদ্ধের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।