Newsvob.com.: বিনোদন ডেস্ক : বলিউড অভিনেতা দিলীপ কুমার আর নেই । তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত, বর্তমান পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত পেশোয়ারে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯২২ সালের ১১ ডিসেম্বর। বাবা লালা গোলাম সারওয়ার, মা আয়েশা বেগম। বাবা ছিলেন ফল ব্যবসায়ী। ১৯৩০ সালে পরিবার নিয়ে মুম্বইয়ে চলে আসেন তাঁরা। কর্মজীবনের শুরুতে দিলীপ কুমার ছিলেন ক্যান্টিন মালিক, পাশাপাশি শুকনো ফল সরবরাহকারী। ১৯৪৪ সালে ‘জোয়ার ভাটা’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ। ১৯৪৭ ও ১৯৪৮ সালে যথাক্রমে ‘জুগনু’ ও ‘শহিদ’ সিনেমা বাণিজ্যসফল হওয়ার পর আর পিছন ফিরে তাকাননি। ১৯৭৬ পর্যন্ত চুটিয়ে অভিনয় করেন। কয়েক বছর বিরতির পর আবার পুরোদমে। ১৯৯৮ সালে তাঁর শেষ ছবি ‘কিলা’।
দিলীপ কুমার অভিনীত অর্ধশতাধিক ছবির কয়েকটি— ‘শবনম’, ‘আন্দাজ’, ‘বাবুল’, ‘দিদার’, ‘অমর’, ‘দেবদাস’, ‘মধুমতি’, ‘মুঘল-ই-আজম’, ‘গঙ্গা যমুনা’, ‘রাম অর শ্যাম’।
দিলীপ কুমারের আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ ‘দ্য সাবস্ট্যান্স অ্যান্ড দ্য শ্যাডো’ (অনুলেখক উদয় তারা নায়ার) এক আশ্চর্য জীবনের আলেখ্য।ভালোবেসে ১৯৬৬ সালে ২২ বছরের ছোট সায়রা বানুর সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন দিলীপ কুমার। দাম্পত্য জীবনে ৫৪টি বসন্ত একসঙ্গে কাটিয়েছেন এই তারকা দম্পতি। সবসময় একে অপরের ছায়া হয়ে ছিলেন দু’জনের। স্বামী শেষ নিশ্বা:স পর্যন্ত তাকে নিস্বার্থভাবে সেবা করে গিয়েছেন সায়রা।কিন্তু এই তারকা দম্পতির মনে হয়তো একটাই কষ্ট ছিলো। আর সেটি হলো- তাদের কোনো সন্তান ছিলো না। যদিও বা দিলীপ কুমার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ‘আমাদের নিজের বাচ্চা থাকলে দুর্দান্ত হতো। তবে আমাদের কোনও আক্ষেপ নেই। আমরা ঈশ্বরের ইচ্ছার বশীভূত। আমাদের সুখ ও হতাশা ভাগাভাগি করার জন্য পরিবার রয়েছে। এটিই আমাদের পক্ষে যথেষ্ট।’
সায়রার গর্ভে এসেছিল সন্তান। তবে সন্তানধারনের পর সায়রা অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসক বাঁচাতে পারেনি দিলীপ-সায়রার সন্তানকে। ঠিক এই ঘটনার পরেই দিলীপ কুমার ১৯৮১ সালে আসমা রেহমানকে বিয়ে করেন। যা টিকে ছিলো মাত্র দুবছর। প্রেমের টানে ফের সায়রার কাছেই ফিরে এসেছিলেন তিনি। আর দ্বিতীয় বিয়ে করা কিংবদন্তি এই তারকার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো সেটি নিজে মুখে স্বীকারও করেছেন।দিলীপ-সায়রার নিজেদের কোনো সন্তান না থাকলেও শাহরুখ খানকে নিজের ছেলের মতোই ভালোবাসতেন এই তারকা দম্পতি। এমনকি তাদের ‘মুহ বোলা বেটা’ বলিউডের এই অভিনেতা।হেমা মালিনী পরিচালিত ‘দিল আশনা হ্যায়’ ছবির মহরতে গিয়েছিলেন তিনি আর দিলীপ কুমার। যে ছবিতে শাহরুখের কাজ করার কথা ছিলো। তখনই কিং খানের সঙ্গে দিলীপ কুমারের প্রথম আলাপ হয়। সে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে সায়রা বানু বলেছিলেন,“’আমি সবসময়ই বলি, আমাদের যদি ছেলে থাকতো, তাহলে সে দেখতে শাহরুখের মতোই হতো। শাহরুখ ও দিলীপ সাহেবের চুল একদম একই রকম। আমি ওর (শাহরুখ) চুলে হাত বুলিয়ে দিয়েছিলাম। পরে যখন শাহরুখের সঙ্গে আমাদের দেখা হয় ও জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘আজ আপনি আমার চুলে হাত বুলিয়ে দেবেন না?’ ওর কথা শুনে আমি খুব খুশি হয়েছিলাম।”
দিলীপ কুমার ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘পদ্মভূষণ’ এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ পদকেও ভূষিত হয়েছেন। এছাড়া ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারও পেয়েছেন খ্যাতিমান এই তারকা।
দিলীপ কুমার আজ বুধবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। শেষ সময়ে স্ত্রী সায়রা বানু তার পাশে ছিলেন। দিলীপ কুমারের মৃত্যুর মাধ্যমে বলিউডের সবচেয়ে উজ্জ্বল একটি তারকার পতন হলো। কিন্তু চলে গিয়েও দিলীপ কুমার থেকে যাবেন বলিউডের ইতিহাসের পাতায়