ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo ফটিকছড়িতে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী Logo আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী Logo টানা ভারি বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী Logo সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo আলী খামেনির জানাজায় কেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ছিলেন না Logo আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় তিন ছেলে, আসতে পারলেন না মোজতবা খামেনি Logo ৩৪ সচিবের পদোন্নতিতে জনপ্রশাসন সচিবকে কৃতজ্ঞতা জানালো সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস এসোসিয়েশন Logo ইকরার আত্মহত্যা: রিমান্ডে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ জানিয়েছেন আলভী Logo উত্তাপ ছড়াচ্ছেন নুসরাত ফারিয়া Logo প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন কাল

চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে চলছে জাটকা নিধন

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ১০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল ২০১৯
  • ৯৯ বার পঠিত হয়েছে

মমিনুল ইসলাম: সরকার মেঘনা নদীতে ১০০ কিলোমিটার ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষনা করেছে। ফলে মার্চ – এপ্রিল দু’মাস নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল হতে লক্ষিপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ’ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশের ইলিশ সম্পদ রক্ষায় জাটকা নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় ২০০৬ সাল থেকে চাঁদপুরের মেঘনাসহ দেশের ৪টি অঞ্চলে দু’ মাস ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়।

এ সময় জেলেরা কোনো প্রকার জাল নিয়ে নদীতে নামতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য চাল ও উপকরণ দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এতো কিছু দেয়ার পর   নিষেধজ্ঞা মানছে না মতলব উত্তর উপজেলার জেলেরা। অবাধে নিধন করছে জাটকা।সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে,মেঘনা নদীতে নৌকা নিয়ে জেলেরা জাটকা  মাছ শিকার করছে। বিশেষ করে ষাটনল, এখলাছপুর, জহিরাবাদ, আমিরাবাদ এলাকায় মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করছে। মতলব উত্তরের মাছের আড়ত গুলোতে প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি হচ্ছে।শুধু তাই নয় একধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ভোরে বিভিন্ন গ্রামে ও রাস্তায় প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি করছে।

মতলব উত্তর উপজেলা  মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় তালিকাভূক্ত জেলের সংখ্যা ৮হাজার ৮শ ৯৪ জন । সরকার প্রতি জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দিচ্ছে। তারা ১৬০ কেজি করে চাল পাবে।এ ছাড়া ও সাবলম্বী হওয়ার জন্য বিভিন্ন উপকরণ দিচ্ছে। মার্চ-এপ্রিল দু’ মাস নিষেধাঞ্জার সময় নদী তীরবর্তী মৎস্য আড়ৎগুলো বন্ধ থাকার কথা। জেলেরা  নদীতে আর আড়ৎদাররা প্রকাশ্যে জাটকাসহ অন্য মাছ বিক্রি করছে।  অভয়াশ্রমে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে  উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ অভিযানে অংশগ্রহণ করছেন।

ষাটনল মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি ওমর আলী জানান, প্রকৃত জেলেরা অনেকেই সাজা ও জরিমানার ভয়ে  নদীতে নামে না। এক শ্রেনীর অসাধু, লোভী যারা নিয়মিত জেলে না  তারা  জাটকা শিকার করে। তিনি জানান,নৌবাহিনী সহায়তা করলে জাটকা ধরা বন্ধ হবে।

মতলব উত্তর  উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, মার্চ-এপ্রিল দূ’ মাস জেলেরা  ১৬০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন। এ ছাড়াও ছাগল পালন সহ বিভিন্ন উপকরন দেয়া হয়েছে।

মতলব উত্তর  উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)শারমিন আক্তার বলেন, উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে জাটকা, কারেন্ট জাল ও জেলেদের আটক করা হয়েছে। আটককৃত জেলেদের  ভ্রাম্যমান আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হচ্ছে। আইন অমান্য কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ফটিকছড়িতে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে চলছে জাটকা নিধন

আপডেট এর সময় : ১০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল ২০১৯

মমিনুল ইসলাম: সরকার মেঘনা নদীতে ১০০ কিলোমিটার ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষনা করেছে। ফলে মার্চ – এপ্রিল দু’মাস নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল হতে লক্ষিপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ’ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশের ইলিশ সম্পদ রক্ষায় জাটকা নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় ২০০৬ সাল থেকে চাঁদপুরের মেঘনাসহ দেশের ৪টি অঞ্চলে দু’ মাস ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়।

এ সময় জেলেরা কোনো প্রকার জাল নিয়ে নদীতে নামতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য চাল ও উপকরণ দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এতো কিছু দেয়ার পর   নিষেধজ্ঞা মানছে না মতলব উত্তর উপজেলার জেলেরা। অবাধে নিধন করছে জাটকা।সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে,মেঘনা নদীতে নৌকা নিয়ে জেলেরা জাটকা  মাছ শিকার করছে। বিশেষ করে ষাটনল, এখলাছপুর, জহিরাবাদ, আমিরাবাদ এলাকায় মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করছে। মতলব উত্তরের মাছের আড়ত গুলোতে প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি হচ্ছে।শুধু তাই নয় একধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ভোরে বিভিন্ন গ্রামে ও রাস্তায় প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি করছে।

মতলব উত্তর উপজেলা  মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় তালিকাভূক্ত জেলের সংখ্যা ৮হাজার ৮শ ৯৪ জন । সরকার প্রতি জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দিচ্ছে। তারা ১৬০ কেজি করে চাল পাবে।এ ছাড়া ও সাবলম্বী হওয়ার জন্য বিভিন্ন উপকরণ দিচ্ছে। মার্চ-এপ্রিল দু’ মাস নিষেধাঞ্জার সময় নদী তীরবর্তী মৎস্য আড়ৎগুলো বন্ধ থাকার কথা। জেলেরা  নদীতে আর আড়ৎদাররা প্রকাশ্যে জাটকাসহ অন্য মাছ বিক্রি করছে।  অভয়াশ্রমে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে  উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ অভিযানে অংশগ্রহণ করছেন।

ষাটনল মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি ওমর আলী জানান, প্রকৃত জেলেরা অনেকেই সাজা ও জরিমানার ভয়ে  নদীতে নামে না। এক শ্রেনীর অসাধু, লোভী যারা নিয়মিত জেলে না  তারা  জাটকা শিকার করে। তিনি জানান,নৌবাহিনী সহায়তা করলে জাটকা ধরা বন্ধ হবে।

মতলব উত্তর  উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, মার্চ-এপ্রিল দূ’ মাস জেলেরা  ১৬০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন। এ ছাড়াও ছাগল পালন সহ বিভিন্ন উপকরন দেয়া হয়েছে।

মতলব উত্তর  উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)শারমিন আক্তার বলেন, উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে জাটকা, কারেন্ট জাল ও জেলেদের আটক করা হয়েছে। আটককৃত জেলেদের  ভ্রাম্যমান আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হচ্ছে। আইন অমান্য কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।