Newsvob.com.: অদ্য সিআইডি এক প্রেস ব্রিফিং এ গত ০১/১০/২০২১ তারিখ শুক্রবার ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন জামগড়াস্থ পলমল গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর সামনে রমজান মিয়া (১৯) পিতা- চাঁন মিয়া, সাং- মির্জানগর, থানা- রায়পুরা, জেলা- নরসিংদী রাত আনুমানিক ১২.০০ ঘটিকা হতে ১২:৩০ ঘটিকার মধ্যে কতিপয় দুর্বৃত্তদের দ্বারা ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়। ৯৯৯ এর মাধ্যমে থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় নিকটস্থ নারী ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে ডিউটি ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। রমজান মিয়া তার আপন খালার সাথে আশুলিয়ার জামগড়ার মোল্লা বাজার এলাকার জনৈক আব্দুর রশিদের বাসায় ভাড়া থেকে শিমুলতলাস্থ দি ভাই ভাই ফার্নিচার” নামীয় একটি দোকানে কাজ করতেন। উক্ত ঘটনায় মৃতের খালা মোসাম্মৎ কুলসুম বেগম (২৩) কর্তৃক অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আশুলিয়া থানার মামলা নং- ০৩, তারিখ- ০১/১০/২০২১ইং ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ রুজু হয়।
উপরোক্ত ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে তা সিআইডি’র নজরে আসে। সিআইডি ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে।
এলআইসির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর পিপিএম এর দায়িত্বে ঘটনার বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ ও গভীরভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতদের অবস্থান সনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর নির্দেশে এলআইসির একাধিক চৌকস টিম দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে গত ১৭/১০/২০২১ইং তারিখ দিবাগত রাতে উক্ত ছিনতাইকালে হত্যার ঘটনায় সরাসরি নেতৃত্বদানকারী আসামী- ১। আমিনুল (২৮) পিতা- জাকির হোসেন, সাং- আলগী, থানা- মাধবদী, জেলা- নরসিংদীকে জামগড়া এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়।
ধৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত ঘটনায় তার সহযোগী আসামী ২। সাগর মোল্লা (২৮) পিতা- কিবরিয়া মোল্লা, সাং- বালিয়াডাঙ্গা, থানা- ফকিরহাট, জেলা- বাগেরহাটকে একই তারিখ রাতে ডিএমপি’র মুগদা এলাকা হতে এবং আসামী- ৩। মোঃ ইউনুছ (৩৫) পিতা- নুরুল ইসলাম, সাং- চর নলছিয়া, থানা- মাদারগঞ্জ, জেলা- জামালপুরকে আশুলিয়ার জিরানী এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়। গ্রেফতারকৃতদের নিকট হতে মৃতের ব্যবহৃত লুন্ঠিত মোবাইল এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা স্বীকার করে যে, তারা মূলতঃ সক্রিয় ছিনতাইকারী দলের হোতা ও সহযোগী। উক্ত এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় গভীর রাত হতে ভোর পর্যন্ত রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীদের টার্গেট করে তারা তাদের অপরাধ কর্ম চালিয়ে থাকে। কেউ তাদের এহেন কার্যকলাপে বাধা প্রদান করলে তাদের সাথে থাকা ধারালো ছুরি, লোহার রড দিয়ে আঘাত করে দ্রত স্থান ত্যাগ করে। ঘটনার তারিখ ও সময়ে রমজান মিয়া শিমুলতলাস্থ দি ভাই ভাই ফার্নিচার হতে কাজ শেষে মোল্লা বাজারস্থ তার ভাড়া বাসায় ফেরার সময় পলমল গার্মেন্টস এর সামনে পৌছালে তার কাছে থাকা মোবাইল ও নগদ টাকা আসামীরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। রমজান মিয়া (১৯) তার কষ্টার্জিত টাকায় কেনা মোবাইল ও টাকা না দিয়ে তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আসামীরা তাদের নিকট থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রমজানের বুকে, পেটে এবং সরু রড দিয়ে গলায় ঘাই মেরে মৃত্যু নিশ্চিত করে ফেলে রেখে দ্রত পালিয়ে যায়।
মৃত রমজান মিয়া ৪ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে ২য়। আর্থিক অনটনের সংসারে জীবিকার সন্ধানে প্রায় ৬ বছর পূর্বে শিশু অবস্থায় ঘর ছাড়তে বাধ্য হয় রমজান। খালার পরিবারের সাথে ভাড়া বাসায় থেকে আশুলিয়ার শিমুলতলাস্থ রানা মিয়ার ফার্নিচারের দোকানে ৬,০০০/= টাকা বেতনে প্রায় ৩ বছর কাজ করে। পরবর্তীতে একই এলাকার দি ভাই ভাই ফার্নিচার দোকানে ১১,০০০/= টাকা বেতনে প্রায় ৩ বছর যাবৎ কাজ করে আসছিল।
অতি অল্প সময়ের মধ্যে এরূপ চাঞ্চল্যকর ক্ললেস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন পূর্বক ঘটনায় জড়িত ৩ জন আসামীকে গ্রেফতার সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।