সু-প্রভাত বাসের চাপায় আবরার আহমেদ চৌধুরী নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ১২ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক গেট এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে অবরোধকারী শিক্ষার্থীদের কাছে যান ঢাকা সিটি উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া যত দ্রুত সম্ভব মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। সেইসঙ্গে লিখিতভাবে দাবিগুলো উত্থাপনের অনুরোধ জানান।
মেয়রের অনুরোধে বিইউপি শিক্ষার্থীরা লিখিতভাবে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে :
১) ১০ দিনের মধ্যে সুপ্রভাত বাসের চালক, হেলপার ও মালিকের ফাঁসি
২) সু-প্রভাত ও জাবালে নূরসহ যেসব বাস আজ ও এর আগে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে সেসব বাসের রুট পারমিট বাতিল
৩) চালক হেলপারের ডোপ টেস্ট
৪) বাসসহ গণপরিবহনের চালক-হেলপারের আইডি কার্ড ভিজিবল করা
৫) বসুন্ধরা আবাসিক/যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে জেব্রা ক্রসিংসহ নিহত আবরারের নামে ফুটওভার ব্রিজ করতে হবে দুই মাসের মধ্যে।
৬) শিক্ষার্থীদের হাফ পাস অথবা আলাদা বাস সার্ভিস চালু ইত্যাদি।
মেয়র বলেন, আগামী দুই মাস কিংবা সর্বোচ্চ ৩ মাসের মধ্যে এই জায়গায় আবরার চৌধুরীর নামে ফুটওভার ব্রিজ করে দেবো। আপনারা আমাকে একটু সময় দেন। এ ঘটনায় আপনাদের মাঝে থেকে ২/৫ জনকে নিয়ে আমরা একটি কমিটি গঠন করবো। প্রয়োজনে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো। আপনাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করবো।
এছাড়া রাজধানীতে সুপ্রভাত পরিবহনের কোনও বাস চলবে না বলে জানিয়েছেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘আমি অলরেডি বলে দিয়েছি এ বাস বন্ধ করতে। এ ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বাসের মালিকদের সযুক্ত করা হবে। এছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব না। এ কাজটি আমরা খুব দ্রুত করবো।’
মেয়র আরও বলেন, ‘সড়ক সংশ্লিষ্ট যতগুলো সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানে তোমরা আমাদের সঙ্গে থাকো। আমরা একটি একটি করে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে কাজ করবো। আমি এখান থেকে যাচ্ছি না। আমি তোমাদের সঙ্গে বসে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো। প্রয়োজনে আমরা এখনই সমাধানের জন্য মুভ করবো।’
ঘাতক বাসচালকের বিচারের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ঘাতক চালকের বিচার করতেই হবে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ বিচার হবে।