নিজস্ব প্রতিবেদক : অদ্য ৩০/০৩/২০২২ইং তারিখে সিআইডি এক প্রেস ব্রিফিং এ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্ত ধর বলেন নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানাধীন দুর্গাপুর ইউনিয়নের মধ্যমবাগান সাকিনস্থ “হাবিব ভ্যারাইটিজ স্টোর” নামীয় মুদি ও জ্বালানী তেলের দোকানে ইং ২০/০৩/২০২২ তারিখ রাত ১০:০০ ঘটিকা থেকে ২১/০৩/২০২২ তারিখ রাত আনুমানিক ০১:৪০ ঘটিকার মধ্যবর্তী যেকোন সময় আসামী- মাসুদ মিয়া (২২) পিতা- জালাল উদ্দিন, সাং- মধ্যমবাগান, থানা- দুর্গাপুর, জেলা- নেত্রকোনা ও তার সহযোগী কর্তৃক দস্যুতা সংঘঠনকালে বাধার সম্মুখীন হলে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত প্রদান করে একই সাকিনস্থ হেকমত আলী (৬২) পিতা- মৃত মেহের আলী নামীয় এক তেল ও মুদি ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ভিকটিমের ছেলে মাহাবুব আলম (৩২) কর্তৃক বিবাদী মাসুদ মিয়া (২২) পিতা- জালাল উদ্দিন, সাং- মধ্যমবাগান, থানা- দুর্গাপুর, জেলা- নেত্রকোনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানার মামলা নং- ১৮, তারিখ- ২১/০৩/২০২২ ইং ধারা- ৩৯৪/৩০২ পেনাল কোড- ১৮৬০ রুজু করা হয়।
ঘটনাটি দেশব্যাপী বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়।
উক্ত ঘটনা সংগঠিত হওয়ার সাথে সাথেই বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার পাশাপাশি সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার, জনাব মুক্তা ধর পিপিএম (বার) এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় সিআইডির এলআইসি শাখা ছায়া তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন উৎস হতে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই করে ঘটনার সাথে ১। মাসুদ মিয়া (২২) পিতা- জালাল উদ্দিন, সাং- মধ্যমবাগান, থানা- দুর্গাপুর, জেলা- নেত্রকোনার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এলআইসি’র একটি চৌকস টীম তাকে গ্রেফতারের জন্য সম্ভাব্য সকল স্থানে গ্রেফতারী অভিযান পরিচালনা করে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী থানা এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী স্বীকার করে যে, সে পেশায় একজন ড্রাম ট্রাকের চালক। দৈনিক ১৫০০/= টাকা হাজিরায় সপ্তাহে ৩ দিন ট্রাক চালিয়ে প্রায় ৪,৫০০/= টাকা করে মাসিক ১৮,০০০/= টাকা আয় করতো। হঠাৎ অজ্ঞাত কারণে তার চাকরি চলে যাওয়ায় সম্পূর্ন বেকার হয়ে যাওয়ায় সে “হাবিব ভ্যারাইটিজ স্টোর” নামীয় মুদি ও জ্বালানী তেলের দোকানের মালিক হেকমত আলী (৬২) সহ বেশ কয়েকজনের নিকট সে বাকিতে পন্যক্রয় করায় ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ে।
এদিকে পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য বিভিন্ন মানুষের উপস্থিতিতে হেকমত আলী মাসুদ মিয়াকে চাপ প্রয়োগ করলে সে অপমানিতবোধ করে। প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তার সঙ্গীয় লোকজনসহ উক্ত দোকানে দস্যুতার বৃত্তির মাধ্যমে নগদ টাকা নেয়ার জন্য পরিকল্পনা করে এবং ব্যবসায়ী হেকমত আলী তাদের চিনে ফেললে ও কাজে বাধা প্রদান করলে তাকে হত্যা করা হবে মর্মেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
পরবর্তীতে পরিকল্পনা অনুযায়ী ইং ২০/০৩/২০২২ তারিখ দিবাগত রাত অর্থ্যাৎ ২১/০৩/২০২২ তারিখ রাত আনুমানিক ০১:৪০ ঘটিকার সময় আসামী- মাসুদ মিয়া (২২) তার সঙ্গীয় অপরাপর আসামীসহ হেকমত আলীর দোকানে যেয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে মারপিট করতে থাকে। এক পর্যায়ে হেকমত মিয়া আসামীদের চিনে তাদের নাম ধরে ডাকলে এবং উক্ত বিষয়টি এলাকার সবাইকে বলে দেবে বলে জানালে আসামী- মাসুদ মিয়া পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার মাথা লক্ষ্য করে
কাঠের ডাসা দিয়ে আঘাত করলে সে গুরুতর রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে এবং উক্ত দোকানে তেল নেওয়ার জন্য অন্যান্য লোকজন আসলে মাসুদ মিয়া সঙ্গীয় লোকজনসহ দোকানের ক্যাশ বাক্সে থাকা তেল বিক্রয়ের নগদ ১০,০০০০০/= (দশ লক্ষ) টাকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে আত্মগোপনে চলে যায়।
পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় প্রতিশোধ নেয়ার উদ্দেশ্যে ভয় ভীতি দেখিয়ে দোকানের ক্যাশ বাক্সে রক্ষিত টাকা ছিনিয়ে নেয়ার সময় বাধা প্রদান করায় গলায় প্লাস্টিকের রশি পেঁচিয়ে ও কাঠের ডাসা দিয়ে এরূপ নির্মমভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার আসামীকে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবস্থান সনাক্ত পূর্বক গ্রেফতার সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
নিউজ ভয়েস অফ বাংলাশে- জে/ রশীদ