এ রকমই নানা নাটকীয়তা আর ঘটন-অঘটনের মধ্য দিয়ে শুক্রবার শেষ হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। কিন্তু মৌসুমীর সেই স্বপ্নকে ভেঙে দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েন চলচ্চিত্র অভিনেতা মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান। কিন্তু কেন এমন হলো। মৌসুমীকে হারিয়ে মিশা কিভাবে ফের সভাপতি হলেন- নির্বাচন শেষে এ রকম অসংখ্য কৌতুহল ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মনে। কেউ কেউ আবার দুই-দুই চার মেলানোর চেষ্টা করছেন। অভিযোগের আঙুলও তুলছেন কেউ কেউ।
এ ছাড়া নারী সভাপতি হিসেবে মৌসুমীর প্রতি আস্থাও ছিল না বেশিরভাগ সাধারণ ভোটারদের। যিনি সমিতির জন্য সময় দিতে পারবেন, সব সময় শিল্পীদের পাশে থাকবেন- এমন মানুষকেই চেয়েছিলেন তারা। মৌসুমী নির্বাচিত হলে স্বামী ওমর সানীই সভাপতির চেয়ার দখলে রেখে সমিতির রাজত্ব করবেন- এমনই ভয় ছিল ভোটারদের মধ্যে। নির্বাচন নিয়ে তার নানা অভিযোগ ছিল, কিন্তু সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিল্পী সমিতির নির্বাচনে মিশা-জায়েদ খানের প্যানেলে ডিপজলের মতো একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন। যারা সমিতিকে সুন্দর করে চালাতে পারবেন। তারা সবাই ঘোষণা দিয়েছেলেন, যদি মৌসুমী নির্বাচনে জয়ী হন, তাহলে সবাই পদত্যাগ করবেন। এই ঘোষণায় ভোটাররা মত বদল করেন।
নির্বাচন নিয়ে মৌসুমীর স্বামী ওমর সানী বলেছেন, ‘আমার একটাই প্রশ্ন, সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে সোহেল রানার মতো অভিনেতাকে মোবাইল নিতে দিল না। তার মোবাইল নিতে দিল না বা কারও মোবাইলই নিতে দিল না। কিন্তু বিকাল ৩টার পর ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ঢুকল কিভাবে?’
এদিকে ভোটের এই ব্যবধানকে একটা ‘ম্যাকানিজম’ বলে মন্তব্য করেছেন মৌসুমী। তিনি বলেন, ‘ফলাফল আমি মেনে নিয়েছি এবং তাদের সবাইকে আমার শুভ কামনা, তারা ভালো কাজ করুক। তবে নির্বাচনের এই ম্যাকানিজম কিছুটা রোধ করা যেত আমাদের কাঞ্চন ভাই (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) যদি এটা বলতেন যে, একেবারেই কেউ মোবাইল নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। তাহলে কিন্তু আমরা এই ম্যাকানিজম প্রতিরোধ করতে পারতাম। মানে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা তো দিতে হবে। ভোটারের তো এই স্বাধীনতা ছিল না। এ কারণে আকাশ-পাতাল পার্থক্য চলে আসছে।’