Newsvob.com.: অনলাইন ডেস্কঃ লকডাউনে বাংলাদেশে রাজধানীর দিন আন দিন খাওয়া মানুষেরা চরম বিপদে পড়েছেন৷ কাজ নেই আবার কোনো সহায়তাও পচ্ছেন না৷ রিকশা চললেও যাত্রী না থাকায় চালকরা দিশেহারা, কাজহীন দিনমজুর ও নির্মাণ শ্রমিকরা৷ বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার থেকে সাত দিনের জন্য ‘কঠোর লকডাউন’ শুরু হয়েছে৷ জরুরি সেবা, শিল্প কারখানা, পণ্য পরিবহনের যানবাহন ও রিকশা ছাড়া আর সব কিছু বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া নিষেধ৷ তবে লকডাউনের চতুর্থ দিনে রাস্তায় ব্যক্তিগত যানবাহন একটু বেশি দেখা গেছে৷ লোকজনও কিছুটা বেশি৷ দুপুরে বৃষ্টি থামার পর শ্রমজীবী মানুষকে কাজের আশায় সড়কের মোড়ে মাড়ে দঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়৷ রিকশা চালকরা বিভিন্ন মোড়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করলেও যাত্রী তেমন মিলছে না৷ আড়াই ঘণ্টা রিকশা চালিয়ে মাত্র ৫০ টাকা রোজগার করেছেন৷ কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না৷ রিকশা চালক জানান, তার চারজনের পরিবারের খাবারসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ-ছয়শো টাকা লাগে৷ স্বাভাবিক সময়ে তিনি প্রতিদিন ছয়-সাতশো টাকা আয় করতে পারেন৷ কিন্তু এখন তিন-চারশো ঢাকার বেশি হয় না৷ এরমধ্যে মালিককে দিতে হয় ১০০ টাকা৷ ‘‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও যাত্রী পাই না৷ সরকারের দিক থেকে কেনো সহায়তাও পাইনি৷ লকডাউনে কীভাবে সংসার চালাব জানি না৷ সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে,’’ বলেন তিনি৷
নির্মাণ শ্রমিকসহ আরো যারা দিন মজুরের কাজ করেন তারাও পড়েছেন চরম বিপাকে৷ সোনারগাঁও রোডে এরকম কয়েকজন দুপুরে দাঁড়িয়ে ছিলেন কাজের আশায়৷ তাদেরই একজন বলেন, ‘‘লকডাউনেও বের হচ্ছি কাজের আশায়৷ কিন্তু কাজ পাচ্ছি না৷ পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচেছ৷’’
লকডাউনের সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ৩৩৩-এ ফোন করলে সহায়তা পাওয়ার কথা৷ কিন্তু তাদের কেউই এই খবর জানেন না, ফোন করা তো দূরের কথা৷ তারা বলেন, এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছেও গিয়েছিলেন কোনো সহায়তা পাননি৷
হোটেল খোলা আছে৷ কিন্তু সেখান থেকে খাবার নেয়া যাবে, বসে খাওয়া যাবে না৷ ‘‘সব কিছু বন্ধ থাকায় ক্রেতা নাই৷ যা বিক্রি হয় তা দিয়ে কর্মচারীদের বেতন দেয়া সম্ভব নয়৷ আবার সামনে কোরবানি৷ বোনাস দেব কীভাবে বুঝতে পারছি না৷’’ কষ্টে আছেন পরিবহন শ্রমিকরাও৷
বাংলাদেশে করোনার সময় দারিদ্র্য বেড়ে গেছে৷ এখন কমপক্ষে সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করছেন৷ নতুন দরিদ্রদের অধিকাংশই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী , হোটেল কর্মচারী, রিকশা চালক ও ভাসমান শ্রমিক৷ এই লকডাউনে তারাই সবচেয়ে বিপদে আছেন৷ অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘‘তাদের খাদ্য সহায়তা খুবই জরুরি৷ নগদ সহায়তাও প্রয়োজন৷ তা না হলে এই লকডাউনে তারা বিপন্ন হয়ে পড়বেন৷’’