ঢাকা , সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিসেম্বরে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের প্রাথমিক কার্যক্রম: মাহ্দী আমিন Logo কুবিতে গবেষণা বিষয়ক ‘আনোয়ার হোসাইন মেমোরিয়াল গণিত সেমিনার’ অনুষ্ঠিত Logo প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ভাষণের প্রশংসায় সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ Logo দিনভর প্রশাসনের তৎপরতা, জলাবদ্ধতায় থামেনি নগরবাসীর দুর্ভোগ Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন কতজন Logo জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান Logo ওসির পর এবার সরানো হলো গুলশানের ডিসিকে: গুলশান মিছিলের পর প্রশাসনে নড়াচড়া Logo ৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার করেছে পল্লবী থানা পুলিশ Logo রাজধানীতে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন হত্যা: ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার, মোটরসাইকেল ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার Logo আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের ফাঁসির আদেশ

দিন খাওয়া মানুষেরা চরম বিপদে

Newsvob.com.: অনলাইন ডেস্কঃ  লকডাউনে বাংলাদেশে রাজধানীর দিন আন দিন খাওয়া মানুষেরা চরম বিপদে পড়েছেন৷ কাজ নেই আবার কোনো সহায়তাও পচ্ছেন না৷ রিকশা চললেও যাত্রী না থাকায় চালকরা দিশেহারা, কাজহীন দিনমজুর ও নির্মাণ শ্রমিকরা৷ বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার থেকে সাত দিনের জন্য ‘কঠোর লকডাউন’ শুরু হয়েছে৷ জরুরি সেবা, শিল্প কারখানা, পণ্য পরিবহনের যানবাহন ও রিকশা ছাড়া আর সব কিছু বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া নিষেধ৷ তবে লকডাউনের চতুর্থ দিনে রাস্তায় ব্যক্তিগত যানবাহন একটু বেশি দেখা গেছে৷ লোকজনও কিছুটা বেশি৷ দুপুরে বৃষ্টি থামার পর শ্রমজীবী মানুষকে কাজের আশায় সড়কের মোড়ে মাড়ে দঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়৷ রিকশা চালকরা বিভিন্ন মোড়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করলেও যাত্রী তেমন মিলছে না৷ আড়াই ঘণ্টা রিকশা চালিয়ে মাত্র ৫০ টাকা রোজগার করেছেন৷ কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না৷ রিকশা চালক জানান, তার চারজনের পরিবারের খাবারসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ-ছয়শো টাকা লাগে৷ স্বাভাবিক সময়ে তিনি প্রতিদিন ছয়-সাতশো টাকা আয় করতে পারেন৷ কিন্তু এখন তিন-চারশো ঢাকার বেশি হয় না৷ এরমধ্যে মালিককে দিতে হয় ১০০ টাকা৷ ‘‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও যাত্রী পাই না৷ সরকারের দিক থেকে কেনো সহায়তাও পাইনি৷ লকডাউনে কীভাবে সংসার চালাব জানি না৷ সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে,’’ বলেন তিনি৷
নির্মাণ শ্রমিকসহ আরো যারা দিন মজুরের কাজ করেন তারাও পড়েছেন চরম বিপাকে৷ সোনারগাঁও রোডে এরকম কয়েকজন দুপুরে দাঁড়িয়ে ছিলেন কাজের আশায়৷ তাদেরই একজন বলেন, ‘‘লকডাউনেও বের হচ্ছি কাজের আশায়৷ কিন্তু কাজ পাচ্ছি না৷ পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচেছ৷’’

লকডাউনের সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ৩৩৩-এ ফোন করলে সহায়তা পাওয়ার কথা৷ কিন্তু তাদের কেউই এই খবর জানেন না, ফোন করা তো দূরের কথা৷ তারা বলেন, এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছেও গিয়েছিলেন কোনো সহায়তা পাননি৷

হোটেল খোলা আছে৷ কিন্তু সেখান থেকে খাবার নেয়া যাবে, বসে খাওয়া যাবে না৷ ‘‘সব কিছু বন্ধ থাকায় ক্রেতা নাই৷ যা বিক্রি হয় তা দিয়ে কর্মচারীদের বেতন দেয়া সম্ভব নয়৷ আবার সামনে কোরবানি৷ বোনাস দেব কীভাবে বুঝতে পারছি না৷’’ কষ্টে আছেন পরিবহন শ্রমিকরাও৷

বাংলাদেশে করোনার সময় দারিদ্র্য বেড়ে গেছে৷ এখন কমপক্ষে সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করছেন৷ নতুন দরিদ্রদের অধিকাংশই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী , হোটেল কর্মচারী, রিকশা চালক ও ভাসমান শ্রমিক৷ এই লকডাউনে তারাই সবচেয়ে বিপদে আছেন৷ অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘‘তাদের খাদ্য সহায়তা খুবই জরুরি৷ নগদ সহায়তাও প্রয়োজন৷ তা না হলে এই লকডাউনে তারা বিপন্ন হয়ে পড়বেন৷’’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News VOB

কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিসেম্বরে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের প্রাথমিক কার্যক্রম: মাহ্দী আমিন

দিন খাওয়া মানুষেরা চরম বিপদে

আপডেট এর সময় : ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুলাই ২০২১

Newsvob.com.: অনলাইন ডেস্কঃ  লকডাউনে বাংলাদেশে রাজধানীর দিন আন দিন খাওয়া মানুষেরা চরম বিপদে পড়েছেন৷ কাজ নেই আবার কোনো সহায়তাও পচ্ছেন না৷ রিকশা চললেও যাত্রী না থাকায় চালকরা দিশেহারা, কাজহীন দিনমজুর ও নির্মাণ শ্রমিকরা৷ বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার থেকে সাত দিনের জন্য ‘কঠোর লকডাউন’ শুরু হয়েছে৷ জরুরি সেবা, শিল্প কারখানা, পণ্য পরিবহনের যানবাহন ও রিকশা ছাড়া আর সব কিছু বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া নিষেধ৷ তবে লকডাউনের চতুর্থ দিনে রাস্তায় ব্যক্তিগত যানবাহন একটু বেশি দেখা গেছে৷ লোকজনও কিছুটা বেশি৷ দুপুরে বৃষ্টি থামার পর শ্রমজীবী মানুষকে কাজের আশায় সড়কের মোড়ে মাড়ে দঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়৷ রিকশা চালকরা বিভিন্ন মোড়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করলেও যাত্রী তেমন মিলছে না৷ আড়াই ঘণ্টা রিকশা চালিয়ে মাত্র ৫০ টাকা রোজগার করেছেন৷ কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না৷ রিকশা চালক জানান, তার চারজনের পরিবারের খাবারসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ-ছয়শো টাকা লাগে৷ স্বাভাবিক সময়ে তিনি প্রতিদিন ছয়-সাতশো টাকা আয় করতে পারেন৷ কিন্তু এখন তিন-চারশো ঢাকার বেশি হয় না৷ এরমধ্যে মালিককে দিতে হয় ১০০ টাকা৷ ‘‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও যাত্রী পাই না৷ সরকারের দিক থেকে কেনো সহায়তাও পাইনি৷ লকডাউনে কীভাবে সংসার চালাব জানি না৷ সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে,’’ বলেন তিনি৷
নির্মাণ শ্রমিকসহ আরো যারা দিন মজুরের কাজ করেন তারাও পড়েছেন চরম বিপাকে৷ সোনারগাঁও রোডে এরকম কয়েকজন দুপুরে দাঁড়িয়ে ছিলেন কাজের আশায়৷ তাদেরই একজন বলেন, ‘‘লকডাউনেও বের হচ্ছি কাজের আশায়৷ কিন্তু কাজ পাচ্ছি না৷ পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচেছ৷’’

লকডাউনের সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ৩৩৩-এ ফোন করলে সহায়তা পাওয়ার কথা৷ কিন্তু তাদের কেউই এই খবর জানেন না, ফোন করা তো দূরের কথা৷ তারা বলেন, এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছেও গিয়েছিলেন কোনো সহায়তা পাননি৷

হোটেল খোলা আছে৷ কিন্তু সেখান থেকে খাবার নেয়া যাবে, বসে খাওয়া যাবে না৷ ‘‘সব কিছু বন্ধ থাকায় ক্রেতা নাই৷ যা বিক্রি হয় তা দিয়ে কর্মচারীদের বেতন দেয়া সম্ভব নয়৷ আবার সামনে কোরবানি৷ বোনাস দেব কীভাবে বুঝতে পারছি না৷’’ কষ্টে আছেন পরিবহন শ্রমিকরাও৷

বাংলাদেশে করোনার সময় দারিদ্র্য বেড়ে গেছে৷ এখন কমপক্ষে সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করছেন৷ নতুন দরিদ্রদের অধিকাংশই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী , হোটেল কর্মচারী, রিকশা চালক ও ভাসমান শ্রমিক৷ এই লকডাউনে তারাই সবচেয়ে বিপদে আছেন৷ অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘‘তাদের খাদ্য সহায়তা খুবই জরুরি৷ নগদ সহায়তাও প্রয়োজন৷ তা না হলে এই লকডাউনে তারা বিপন্ন হয়ে পড়বেন৷’’