1. rajubdnews@gmail.com : admin :
  2. newsvob57@gmail.com : News VOB : News VOB
বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় মোদির উদ্বেগ, সহায়তার প্রস্তাব অভিনব কায়দায় ইয়াবা বহনকালে ৭৮০০ পিস ইয়াবাসহ চার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ বিডিআর হত্যাকাণ্ডে দলগতভাবে জড়িত আওয়ামী লীগ, মূল সমন্বয়কারী তাপস: কমিশন MTFE কেলেঙ্কারির তথ্য জানতে চাইছে CID ভুক্তভোগীদের রিপোর্ট করার জন্য বেশ কয়েকটি চ্যানেল উপলব্ধ সাইবার পুলিশ সেন্টার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা উচিত আজ আমার প্রিয় মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। সিআইডি পরিচয়ে অপহরণ–চাঁদাবাজি: চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সনের সৌজন্য সাক্ষাৎ দেশীয় খাদ্য-সংস্কৃতি ও প্রথাগত উৎপাদন ব্যবস্থা রক্ষা করতে হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, বাসায় ঢুকে বিচারকের ছেলেকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

দুদকের নামে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে দুদক সদস্যসহ চারজন গ্রেফতার: নগদ টাকা ডকুমেন্টস উদ্ধার।

প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : শনিবার, ২৪ জুন, ২০২৩
  • ২২৫ বার পঠিত হয়েছে

Newsvob.com.:  নিজস্ব প্রতিবেদক :  অদ্য শনিবার   দুপুরে ডিএমপি মিডিয়াসেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে  জানা যায়  আশিকুজ্জামান একজন সি এন্ড এফ ব্যবসায়ী। বায়তুল মোকাররম মসজিদের কার্পেটের দোকানে ইমপোর্ট করা কার্পেট ও জায়নামাজ সরবরাহ করে থাকেন। গত ১৯.০৬.২০২৩ তারিখে তার স্ত্রী সন্তান প্রসব করা সংক্রান্তে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। ২০. ৬.২০২৩  তারিখ সকালে আশিকুজ্জামানের উত্তরাস্হ বাসায় দুদুকের মনোগ্রাম সম্বলিত খাকি রঙের খামে ১টি নোটিশ নিয়ে একজন অফিসার হাজির হয়। কার্পেটের ব্যবসার আড়ালে স্বর্ণের চোরাচালান এবং মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তুলেন আশিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে। স্ত্রীর হসপিটালে অবস্হান এবং দুদকের এই ভয়ানক অভিযোগ শুনে ঘাবরে যান আশিকুজ্জামান। তখন দুদকের সে অফিসার আশিকুজ্জামানকে একটু সহানুভূতি দেখানোর ভান করে তাকে তখনই মোবাইল বন্ধ করে দিয়ে আত্মগোপনে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়। ভয় দেখায় ডিবি, সিআইডি, বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক এবং এনএসআই নাকি দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয় তাকে ধন্য হয়ে খুজছে। দুদকে তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে।

নোটিশ বহনকারী ব্যক্তিটি হোয়াটসঅ্যাপে দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আশিকুজ্জামানকে কথা বলিয়ে দেয়। হোয়াটসঅ্যাপে দুদকের ঐ কর্মকর্তা মোবাইলে কথা বলা সমীচীন নয় মর্মে ডিটেইল্স জানার জন্য তাকে দুদক অফিসে  স্বশরীরে হাজির হতে বলে।

দুদকের নোটিসে বিভিন্ন অভিযোগের পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়” শূন্য থেকে সে আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। তাকে দুদকের জিম্মায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সকল প্রমাণ পাওয়া যাবে। এমতাবস্থায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন”। কারণ দর্শানোসহ ব্যক্তিগত শুনানির জন্য ১০-৭-২০২৩ তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

ঘাবড়ে যাওয়া আশিকুজ্জামানকে দফায় দফায় ফোন দেয়া হয় হোয়াটসঅ্যাপে। ভয় দেখানো হয় সম্পত্তি ক্রোক করা, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করা, প্রিন্টেড ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে বেজ্জতি করাসহ সিআইডি, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনএসআই, ডিবি পুলিশ এবং দুদকের দ্বারা গ্রেফতার করিয়ে কঠোর শাস্তির ভয় দেখানো হয়। একটা পর্যায়ে আশিকুজ্জামানকে মতিঝিলের হিরাঝিল হোটেলের দ্বিতীয় তলায় এসে সমঝোতার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। সমঝোতা অনুসারে প্রথমে দুই কোটি টাকা দিতে বলা হলেও পরবর্তীতে দিতে বলা হয় এক কোটি টাকা।

বিনিময়ে সমস্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতির নিশ্চয়তা দেয়া হয়।  এক কোটি টাকার ভিতর ২৩-৬-২০১৩ তারিখ জুম্মার আগে ২০ লক্ষ টাকা প্রদান করতে বলা হয়। বাকি টাকা আগামী রবিবার ব্যাংক আওয়ারে পরিশোধের সমঝোতা হয়। ভিকটিম বিষয়টি বিষয়টি গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগককে অবহিত করলে গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ দুদকের সাথে যোগাযোগ করে এবং দুদকের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলামকে সহ হোটেল হিরাঝিলের আশেপাশে অবস্থান নেয়।

সমঝোতা অনুসারে ভিকটিম আশিকুজ্জামান চারটি মিষ্টির প্যাকেটে তার স্বাক্ষরিত দেড় লক্ষ টাকা ভরে হোটেল বহিরাঝিলে যান। তার কাছ থেকে মিষ্টির প্যাকেটে সংরক্ষিত টাকা গ্রহণ করা কালে আশেপাশে অবস্থান নিয়ে থাকা ডিবি পুলিশ তাদেরকে হাতে গ্রেফতার করে। ডিবি লালবাগ বিভাগের এডিসি রাকিবের নেতৃত্বে গ্রেফতারকৃতরা হলো – ১. গৌতম ভট্টাচার্য (৪২),  ২. হাবিবুর রহমান (৪২), ৩. পরিতোষ মন্ডল (৬৩),  ৪. মোঃ এসকেন আলী খান (৫৭)। গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে মিষ্টির ৪টি প্যাকেট, নগদ দেড় লক্ষ টাকা, ৪টি মোবাইল ফোন, দুদকের মনোগ্রাম সম্বলিত খাকি রঙের ১টি খাম ও  দুদকের একটি নোটিস উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে গৌতম ভট্টাচার্য দুদকের ডিজি মানি লন্ডারিং এর পিএ হিসেবে কর্মরত, বাড়ি মৌলভীবাজার। এসকেন আলী খান চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য, বাড়ি গোপালগঞ্জ। অপর দুইজন গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এবং পেশাগত ভাবে দালাল ও প্রতারক।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে গৌতম ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে দুদকের বিভিন্ন মহাপরিচালকদের পিএ হিসেবে কাজ করে আসছে।  সে কখনো দুদকের ডিজি (তদন্ত), ডিজি (এডমিন), ডিজি (প্রসিকিউশন), ডিজি (মানি লন্ডারিং) এর অফিসের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (পিএ) হিসেবে কাজ করে আসছে। গৌতম ভট্টাচার্য কর্ম সূত্রে ই জানে দুর্নীতি সংক্রান্তে কিভাবে মানুষকে নোটিশ পাঠাতে হয়, কিভাবে তাদের কাছ থেকে আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক ব্যাখ্যা নেয়া হয় এবং কিভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। এই অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সে তার দুষ্কর্মের সহযোগীদেরকে দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং চাকুরীজীবীকে টার্গেট করে তাদের ব্যক্তিগত নানা তথ্য সংগ্রহ করে দুদকের চিঠির খাম ও  প্যাড/ ফরমেট ব্যবহার করে অভিযোগের নোটিশ পাঠাতো। পরবর্তীতে কখনো মোবাইল হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলে, কখনো শিল্পকলা একাডেমীর ভিতরে বসে, কখনো আশেপাশের বিভিন্ন হোটেলে টার্গেটের টাকায় খেতে খেতে তাদেরকে অভিযোগের দায় হতে অব্যাহতি দান/ সমঝোতার নামে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে  নিয়েছে।

এদের সাথে দুদুক কার্যালয়ের দায়িত্বশীল আরো কেহ জড়িত আছে কিনা – খতিয়ে দেখার জন্য আসামিদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে।

জে,রশীদ

 

 

আপনার স্যোশাল মিডিয়ায় সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © News Voice of Bangladesh
Theme Customized BY LatestNews