Newsvob.com. ইমাম হাসান: মানব জীবনে ধর্ম বিশ্বাসের গুরুত্ব অপরিসীম আর এ ধর্ম বিশ্বাসের কোন বিকল্প নেই। সাধারণ ভাবে দ্বীন অর্থ ধর্ম আর ঈমান অর্থ বিশ্বাস হিসেবে আমরা বুঝে থাকি। মৌলিক ভাবে দ্বীন ধর্মের ভিত্তি তিন ভাগে বিভক্ত হিসেবে বিশ্বনবীর বানী হাদিসে জিবরাঈলে পাওয়া যায়। আর তা হলো ঈমান ইসলাম ও এহসান। অর্থাৎ এই তিন বিষয়ের সমষ্টিকে একত্রে দ্বীন ধর্ম বলে। ধর্মের দুটি দিক রয়েছে একটি হা বাচক আদেশ আমর আর একটি না বাচক নিষেধ নাহি। আমর আবার চার প্রকার ফরজ,ওয়াজিব, সুন্নত,নফল। নাহি না বাচক নিষেধ আবার দুই প্রকার হারাম মাকরুহ। মাকরূহ আবার দুই প্রকার মাকরূহ তাহরিমি এবং মাকরূহ তানজিহি। এ সব বিধি বিধান মেনে চলা একজন মুমিনের অতিব জরুরি। মহান আল্লাহ বলেন পৃথিবীতে মানুষ ধর্ম হিসেবে তিন ভাগে বিভক্ত, মুমিন, কাফের ও মোনাফেক। মুমিন হচ্ছে তারা যারা দ্বীন শরিয়তের বানী অন্তরে বিশ্বাস করে এবং মূখে স্বীকার করে তারা মুমিন। কাফের হচ্ছে যারা দ্বীন শরিয়তের বানী অন্তরে বিশ্বাস করে না এবং মূখে প্রকাশ করে যে তারা শরিয়ত মানে না তারা কাফের। আর মোনাফেক হচ্ছে যারা শরিয়তের বানী অন্তরে বিশ্বাস করে না কিন্তু মূখে স্বীকার করে তারা মোনাফেক। এই মোনাফেক এর গুণাবলী তিন ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণীর মোনাফেক হচ্ছে যারা আলেম না হয়ে আলেম সাজে পীর মাশায়েক না হয়ে পীর সাজে তারা স্বার্থ সিদ্ধির জন্য পরহেজগারির চরম সিমায় আরোহন করে কিন্তু স্বার্থ নষ্ট হওয়ার ভয় থাকলে ফরজ তরফ করতে দ্বীধাবোধ করে না। তাদেরকে হাদিসের ভাষায় দাজ্জাল এ কাজ্জাব মিথ্যাবাদী বলা হয় এরা সবাই প্রথম শ্রেণীর মোনাফেক। তারা নিজের মনগড়া ভুল বক্তব্য দিয়ে মানুষকে গোমরা করছে এবং নিজেও গোমরা হচ্ছে। তাদেরকে যদি বলা হয় তোমারা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করিও না। বরং তখন তারা বলে আমরা শান্তি সৃষ্টি করছি কিন্তু তারাই যে ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারি তারা তা বোঝেনা। আর এদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব। দ্বিতীয় শ্রেণীর মোনাফেক হচ্ছে যারা স্বীয় স্বার্থ সিদ্ধির জন্য রাষ্ট্রকে ধংষের পথে পরিচালিত করে তারা সবাই দ্বিতীয় শ্রেণীর মোনাফেক। তৃতীয় শ্রেণীর মোনাফেক হচ্ছে সর্বসাধারণের মধ্যে থেকে কতকলোক যখন তাদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে আমরা তোমাদের সাথে আছি আবার যখন মুমিনদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে আমরা তোমাদের সাথে আছি এরা সবাই তৃতীয় শ্রেণীর মোনাফেক। আল্লাহ বলেন তোমরা জাতে মুমিন হলে চলবে না মুমিনের গুণাবলী অর্জন করতে হবে তবেই সফলতা আসবে জান্নাত লাভ হবে। ক্কদ আফলাহা মান তাঝাক্ক। যে আত্মশুদ্ধি লাভ করেছে সেই সফলতা লাভ করেছে।