ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

নিজেদের ৫ প্রার্থীকে শোকজ করল বিএনপি!

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯
  • ৯১ বার পঠিত হয়েছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীকে নির্বাচন করা দলের প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দোলোয়ার হোসেনের ছেলে খন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুসহ ৫ প্রার্থীকে শোকজ করেছে বিএনপি।

এসব আসনে যাদের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে তারা আইনগতভাবে হাইকোর্ট থেকে প্রার্থী বৈধতার রায় নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত শোকজের চিঠিতে, কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ২ জানুয়ারি শোকজের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মানিকগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু ছাড়াও যাদের শোকজ করা হয়েছে তারা হলেন, নাটোর-১ আসনের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের স্ত্রী কামরুন্নাহার শিরীন, ময়মনসিংহ-১ আসনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি টিএইচ খানের ছেলে অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খান।

তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। রাজশাহী-৫ আসনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান।

শোকজের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পাঁচজনকে দল শোকজ করেছে। ইতিমধ্যে আবদুল হামিদ ডাবলুসহ আরও একজন শোকজের জবাবও দিয়েছেন। খন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার দল একটি সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। আমি শোকজের উত্তর দিয়েছি।’

তবে আফজাল এইচ খান চিঠি পাননি জানিয়ে বলেন, ‘আমাকে কেন শোকজ করা হবে? ময়মনসিংহ-১ আসনে প্রার্থী ছিল না বলেই তো আমাকে কেন্দ্র থেকে দলের নমিনেশন চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। পরে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি।’ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শোকজের কথা শুনেছি। তবে চিঠি এখনও হাতে পাইনি।’

কামরুন্নাহার বলেন, ‘আসন শূন্য হওয়ার ঝুঁকি থেকে নাটোর-১ আসনকে মুক্ত করার জন্য দলের স্বার্থে আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। আমাকে ১০ জানুয়ারির (আজ) মধ্যে শোকজের উত্তর দিতে বলা হয়েছে। কালকেই (আজ) উত্তর দেব।’

মোস্তাফিজুর রহমানকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে ফোন রিসিভ করেননি। এসব প্রার্থীর দাবি, তাদেরকেও ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। মনোনয়নপত্র জমাও দেন তারা। তবে চূড়ান্ত মনোনয়নের যে চিঠি নির্বাচন কমিশনে দেয়া হয় তাতে তাদের নাম ছিল না।

৯ ডিসেম্বর দলের আসনভিত্তিক চূড়ান্ত মনোনয়নের একটি চিঠি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে দেয় বিএনপি। দলটির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে মানিকগঞ্জ-১ আসনে এসএম জিন্নাহ কবির, নাটোর-১ আসনে ঐক্যফ্রন্টের শরিক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মনজুরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপির আলী আজগর, রাজশাহী-৫ আসনে নাদিম মোস্তফা ও নওগাঁ-১ আসনে মো. ছালেক চৌধুরীকে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

সূত্র জানায়, দলের হাইকমান্ডের পরামর্শেই পাঁচ প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জবাব পেলে তা দলের নীতিনির্ধারকদের জানানো হবে। পরে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

নিজেদের ৫ প্রার্থীকে শোকজ করল বিএনপি!

আপডেট এর সময় : ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীকে নির্বাচন করা দলের প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দোলোয়ার হোসেনের ছেলে খন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুসহ ৫ প্রার্থীকে শোকজ করেছে বিএনপি।

এসব আসনে যাদের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে তারা আইনগতভাবে হাইকোর্ট থেকে প্রার্থী বৈধতার রায় নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত শোকজের চিঠিতে, কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ২ জানুয়ারি শোকজের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মানিকগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু ছাড়াও যাদের শোকজ করা হয়েছে তারা হলেন, নাটোর-১ আসনের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের স্ত্রী কামরুন্নাহার শিরীন, ময়মনসিংহ-১ আসনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি টিএইচ খানের ছেলে অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খান।

তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। রাজশাহী-৫ আসনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান।

শোকজের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পাঁচজনকে দল শোকজ করেছে। ইতিমধ্যে আবদুল হামিদ ডাবলুসহ আরও একজন শোকজের জবাবও দিয়েছেন। খন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার দল একটি সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। আমি শোকজের উত্তর দিয়েছি।’

তবে আফজাল এইচ খান চিঠি পাননি জানিয়ে বলেন, ‘আমাকে কেন শোকজ করা হবে? ময়মনসিংহ-১ আসনে প্রার্থী ছিল না বলেই তো আমাকে কেন্দ্র থেকে দলের নমিনেশন চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। পরে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি।’ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শোকজের কথা শুনেছি। তবে চিঠি এখনও হাতে পাইনি।’

কামরুন্নাহার বলেন, ‘আসন শূন্য হওয়ার ঝুঁকি থেকে নাটোর-১ আসনকে মুক্ত করার জন্য দলের স্বার্থে আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। আমাকে ১০ জানুয়ারির (আজ) মধ্যে শোকজের উত্তর দিতে বলা হয়েছে। কালকেই (আজ) উত্তর দেব।’

মোস্তাফিজুর রহমানকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে ফোন রিসিভ করেননি। এসব প্রার্থীর দাবি, তাদেরকেও ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। মনোনয়নপত্র জমাও দেন তারা। তবে চূড়ান্ত মনোনয়নের যে চিঠি নির্বাচন কমিশনে দেয়া হয় তাতে তাদের নাম ছিল না।

৯ ডিসেম্বর দলের আসনভিত্তিক চূড়ান্ত মনোনয়নের একটি চিঠি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে দেয় বিএনপি। দলটির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে মানিকগঞ্জ-১ আসনে এসএম জিন্নাহ কবির, নাটোর-১ আসনে ঐক্যফ্রন্টের শরিক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মনজুরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপির আলী আজগর, রাজশাহী-৫ আসনে নাদিম মোস্তফা ও নওগাঁ-১ আসনে মো. ছালেক চৌধুরীকে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

সূত্র জানায়, দলের হাইকমান্ডের পরামর্শেই পাঁচ প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জবাব পেলে তা দলের নীতিনির্ধারকদের জানানো হবে। পরে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।