ঢাকা , বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে চীনের ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকার ঋণ Logo মোদি সরকারের মাথাব্যথা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, কংগ্রেসের বাইরেও বাড়ছে চাপ Logo ১৫ বছর পর আবারও একসঙ্গে শাহরুখ-কারিনা, ‘কিং’-এ বিশেষ চমক Logo একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন Logo কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিসেম্বরে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের প্রাথমিক কার্যক্রম: মাহ্দী আমিন Logo কুবিতে গবেষণা বিষয়ক ‘আনোয়ার হোসাইন মেমোরিয়াল গণিত সেমিনার’ অনুষ্ঠিত Logo প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ভাষণের প্রশংসায় সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ Logo দিনভর প্রশাসনের তৎপরতা, জলাবদ্ধতায় থামেনি নগরবাসীর দুর্ভোগ Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন কতজন Logo জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

নিতিন গড়কড়ির ফের চমক

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ১১:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১৯
  • ১৩১ বার পঠিত হয়েছে

দলকে ফের বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি। গত রোববার মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যে রাজনৈতিক নেতারা স্বপ্ন দেখান মানুষ, তাঁদের ভালোবাসে। কিন্তু সেই স্বপ্ন মিথ্যে হলেও তা পূরণ না করলে জনতা ছেড়ে দেবে না। নেতাকে ধরে পেটাবে। অতএব সেই প্রতিশ্রুতিই দেওয়া উচিত যেটুকু পূরণ করা যায়।’

নিজের মন্তব্যের কোনো ব্যাখ্যা নিতিন দেননি। তবে মোদিবিরোধীরা উল্লসিত। কংগ্রেসের মুখপাত্র মিম আফজল সরাসরিই বলেছেন, ‘নিতিন গড়কড়ি এমন ধরনের কথা আগেও বলেছেন। স্বপ্ন তো দেখিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে। বিজেপির মধ্যে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়েছে।’ মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে টুইট করে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীকে রাজনৈতিক আক্রমণ করছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মোদিজি, জনতা আসছে।’ হায়দরাবাদের সাংসদ অল ইন্ডিয়া মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন নেতা আসাউদ্দিন ওয়েইসি টুইট করে বলেছেন, ‘নিতিন গড়কড়ি মোদির সামনে আয়না ধরেছেন।’ যদিও বিজেপির মুখপাত্র জি ভি এল নরসিমা সোমবার বলেছেন, নিতিনের মন্তব্যের লক্ষ্য কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। অন্য মুখপাত্র শাহনওয়াজ হোসেন বলেছেন, ‘নিতিনজি কংগ্রেসের মুখেই আয়না ধরেছেন। কংগ্রেস একটাও স্বপ্ন সার্থক করতে পারেনি বলেই তারা গত ভোটে ৪৪-এ নেমে গিয়েছে।’ এ কথা বললেও বিজেপির মধ্যে নিতিনকে নিয়ে অস্বস্তি বেড়ে চলেছে। কারণ, এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, যা বিজেপির পক্ষে যথেষ্টই বিড়ম্বনার।
নিতিনের প্রথম বিতর্কিত মন্তব্য ছিল মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও রাজস্থানে বিজেপির হারের পর। বলেছিলেন, দলের নেতারা জয়ের কৃতিত্ব যখন নেন, তখন হারের দায়িত্বও তাঁদের নিতে হবে। আমি দলের দায়িত্বে থাকলে দায় নিতাম।
নিতিনকে নিয়ে দলে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে কিছুদিন ধরেই। এমন জল্পনাও শোনা যাচ্ছে, ২০১৯ সালের ভোটের পর বিজেপিকে যদি সরকার গড়তে জোট শরিকদের ওপর নির্ভর করতে হয়, তা হলে শরিকেরা মোদির বদলে নিতিনকে পছন্দ করবে। মোদির বিকল্প হিসেবে নিতিনের পরই রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নাম।
নিতিন মহারাষ্ট্রের নেতা। তা ছাড়া তিনি আরএসএসের আস্থাভাজন। দলের সভাপতির দায়িত্বও একটা সময় তাঁর হাতে ছিল। রাজনাথ সিংও অমিত শাহর আগে বিজেপির সভাপতি ছিলেন। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীও হয়েছিলেন তিনি। মোদির কট্টর বিরোধীরা সরাসরি এই দুই নেতার প্রশংসা করতেও ছাড়ছেন না।

সম্প্রতি কলকাতায় বিরোধী দলনেতাদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিতিন গড়কড়ি, রাজনাথ সিং, সুষমা স্বরাজের নাম করে বলেছিলেন, এঁদের মতো নেতাদেরও নরেন্দ্র মোদি অবজ্ঞা, উপেক্ষা ও অবহেলা করেন। তাঁদের গুরুত্ব দেন না।

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের মূল অনুষ্ঠানে এসেছিলেন নিতিন। বসেছিলেন রাহুল গান্ধীর ঠিক পাশের আসনে। ক্যামেরার নজর তা এড়ায়নি। বারবার দেখা গেছে, রাহুল ও নিতিন ঘনিষ্ঠভাবে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলছেন। বিজেপির অন্দরে নিতিনকে নিয়ে জল্পনা ও আগ্রহ বেড়েই চলেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে চীনের ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকার ঋণ

নিতিন গড়কড়ির ফের চমক

আপডেট এর সময় : ১১:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১৯

দলকে ফের বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি। গত রোববার মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যে রাজনৈতিক নেতারা স্বপ্ন দেখান মানুষ, তাঁদের ভালোবাসে। কিন্তু সেই স্বপ্ন মিথ্যে হলেও তা পূরণ না করলে জনতা ছেড়ে দেবে না। নেতাকে ধরে পেটাবে। অতএব সেই প্রতিশ্রুতিই দেওয়া উচিত যেটুকু পূরণ করা যায়।’

নিজের মন্তব্যের কোনো ব্যাখ্যা নিতিন দেননি। তবে মোদিবিরোধীরা উল্লসিত। কংগ্রেসের মুখপাত্র মিম আফজল সরাসরিই বলেছেন, ‘নিতিন গড়কড়ি এমন ধরনের কথা আগেও বলেছেন। স্বপ্ন তো দেখিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে। বিজেপির মধ্যে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়েছে।’ মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে টুইট করে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীকে রাজনৈতিক আক্রমণ করছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মোদিজি, জনতা আসছে।’ হায়দরাবাদের সাংসদ অল ইন্ডিয়া মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন নেতা আসাউদ্দিন ওয়েইসি টুইট করে বলেছেন, ‘নিতিন গড়কড়ি মোদির সামনে আয়না ধরেছেন।’ যদিও বিজেপির মুখপাত্র জি ভি এল নরসিমা সোমবার বলেছেন, নিতিনের মন্তব্যের লক্ষ্য কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। অন্য মুখপাত্র শাহনওয়াজ হোসেন বলেছেন, ‘নিতিনজি কংগ্রেসের মুখেই আয়না ধরেছেন। কংগ্রেস একটাও স্বপ্ন সার্থক করতে পারেনি বলেই তারা গত ভোটে ৪৪-এ নেমে গিয়েছে।’ এ কথা বললেও বিজেপির মধ্যে নিতিনকে নিয়ে অস্বস্তি বেড়ে চলেছে। কারণ, এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, যা বিজেপির পক্ষে যথেষ্টই বিড়ম্বনার।
নিতিনের প্রথম বিতর্কিত মন্তব্য ছিল মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও রাজস্থানে বিজেপির হারের পর। বলেছিলেন, দলের নেতারা জয়ের কৃতিত্ব যখন নেন, তখন হারের দায়িত্বও তাঁদের নিতে হবে। আমি দলের দায়িত্বে থাকলে দায় নিতাম।
নিতিনকে নিয়ে দলে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে কিছুদিন ধরেই। এমন জল্পনাও শোনা যাচ্ছে, ২০১৯ সালের ভোটের পর বিজেপিকে যদি সরকার গড়তে জোট শরিকদের ওপর নির্ভর করতে হয়, তা হলে শরিকেরা মোদির বদলে নিতিনকে পছন্দ করবে। মোদির বিকল্প হিসেবে নিতিনের পরই রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নাম।
নিতিন মহারাষ্ট্রের নেতা। তা ছাড়া তিনি আরএসএসের আস্থাভাজন। দলের সভাপতির দায়িত্বও একটা সময় তাঁর হাতে ছিল। রাজনাথ সিংও অমিত শাহর আগে বিজেপির সভাপতি ছিলেন। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীও হয়েছিলেন তিনি। মোদির কট্টর বিরোধীরা সরাসরি এই দুই নেতার প্রশংসা করতেও ছাড়ছেন না।

সম্প্রতি কলকাতায় বিরোধী দলনেতাদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিতিন গড়কড়ি, রাজনাথ সিং, সুষমা স্বরাজের নাম করে বলেছিলেন, এঁদের মতো নেতাদেরও নরেন্দ্র মোদি অবজ্ঞা, উপেক্ষা ও অবহেলা করেন। তাঁদের গুরুত্ব দেন না।

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের মূল অনুষ্ঠানে এসেছিলেন নিতিন। বসেছিলেন রাহুল গান্ধীর ঠিক পাশের আসনে। ক্যামেরার নজর তা এড়ায়নি। বারবার দেখা গেছে, রাহুল ও নিতিন ঘনিষ্ঠভাবে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলছেন। বিজেপির অন্দরে নিতিনকে নিয়ে জল্পনা ও আগ্রহ বেড়েই চলেছে।