Newsvob.com.: নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের পর আজ সোমবার (৩১ অক্টোবর ২০২২ খ্রি.) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘কমিশনার’স মিট দ্য প্রেস’-এ সকলের উদ্দেশ্যে একথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, পলিটিক্যাল পার্টি তাদের কাজ করবে। সেখানে আমাদের (পুলিশ) কোনো কাজ নেই। আমাদের কাজ হলো আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ছাড়া সবাই কর্মসূচি পালন করতে পারবে। তবে কেউ যদি রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে আগুন দেওয়া, গাছ কাটাসহ ফৌজদারি অপরাধ করে তাহলে সেটি দেখার দায়িত্ব অবশ্যই পুলিশের রয়েছে।
থানার সেবার মান বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণ যেকোনো সমস্যায় আগে থানায় যায়। আর তাই থানাকে গণমুখী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন সকালে থানায় যেসব জিডি হচ্ছে সেইগুলো আমরা মনিটরিং করছি। কেউ হয়রানির শিকার হলে সেই অফিসারদের আমরা শাস্তি দিয়ে থাকি।থানায় কেউ গেলে প্রথমে সেইন্ট্রি ও মুন্সির কাছে অনেকে হয়রানির শিকার হয়। সেটিও প্রতিরোধে আমরা বডি ক্যামেরার ব্যবস্থা করেছি। যাতে সহজেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি থানা এলাকার প্রতিটি মসজিদে ওসি সাহেব একদিন করে খুতবার সময় কথা বলবেন। তাদের বক্তব্য দিতে হবে, বলতে হবে আমার থানায় আসবেন, কোনোরকম হয়রানি ও পয়সা ছাড়াই সেবা পাবেন।
মাদক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে আমরা কাজ করছি। এখানে দুটি বিষয় কাজ করে। সাপ্লাইন লাইন ও ডিমান্ড লাইন। শুধু সাপ্লাইন বন্ধ করলে হবে না। ডিমান্ড লাইন থাকলে সাপ্লাই লাইন বন্ধ করলেও যেকোনো উপায়ে সাপ্লাই হবে। কাজেই ডিমান্ড লাইন বন্ধেও কাজ করতে হবে। রংপুর রেঞ্জে দায়িত্বে থাকাকালীন সময় মাদক নিয়ে কাজ করার সফলতা এখানেও কাজে লাগানো হবে। আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহযোগিতা নিবো। যাতে ঢাকা শহরের মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলো যেন উন্নত করা হয়।
থানার সেবার মান নিয়ে করা সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সেবার মান বৃদ্ধির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। রুজু করা জিডি ও মামলা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। থানায় সেবাপ্রার্থীদের সাথে কেউ খারাপ আচরণ করলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক থানায় আমরা সিসিটিভি স্থাপন করেছি যাতে থানার সেবার মান মনিটরিং করা যায়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের কোন ভূমিকা নেই। আমাদের কাজ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা। রাজনীতির নামে কেউ সহিংসতা ছড়ালে বা ফৌজদারি অপরাধ করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদক নির্মূলেও আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি। মাদক নিয়ন্ত্রণে সাপ্লাই লাইন ও ডিমান্ড লাইন বন্ধ করতে হবে। মাদকসেবীদের চিকিৎসার মাধ্যমে পুনর্বাসন করে ডিমান্ড লাইন বন্ধ করলে মাদক ব্যবসায়ীদের সাপ্লাই লাইন এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, পুলিশের সর্ববৃহত ইউনিট ঢাকা মহানগর পুলিশের ৩৫ তম কমিশনার হিসেবে গত ২৯ আগস্ট দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে আমার ৩২ বছরের চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতা ও মেধা এবং প্রচেষ্টা সর্বোচ্চ প্রয়োগে সচেষ্ট থাকবো। রাষ্ট্র সংবিধান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে চেতনাকে সমুন্নত রেখে আমরা দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব, সতত ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
পুলিশ ও সাংবাদিকতা পেশার মধ্যে যথেষ্ঠ মিল রয়েছে। আমরা উভয়ে সত্যের সন্ধানে কাজ করি। আমরা পারস্পারিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ ও সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে দেশ সেবায় একত্রে কাজ করবো। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, ডিএমপি সবসময়ই আপনাদের পাশে থাকবে। আমি সকল নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করছি। এটা হলে আমরা নিরাপদ ঢাকা নগরী উপহার দিতে পারবো।
জে/র