Newsvob.com. বিশেষ প্রতিবেদক: অদ্য 22/১২/২০২১ইং সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর পিপিএম এর এক প্রেস ব্রিফিং এ জানায় বগুড়া জেলার সোনাতলা থানাধীন ৬ নং তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের অর্ন্তগত চর সরলিয়া গ্রাম হতে ইং ০১/১১/২০২১ তারিখ সকালে সোনাতলা থানা পুলিশ জনৈক মোঃ হাছেন আকন্দ (৪০) পিতা- আঃ জলিল আকন্দ, সাং- ভাঙারগাছা পোঃ তেলিগাড়ী, ইউনিয়ন- চালুয়াবাড়ী, থানা- সারিয়াকান্দি, জেলা- বগুড়া এর গামড় গাছে গলায় গামছা পেচানো লাশ উদ্ধার করে। উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনায় মৃতের স্ত্রী মোছাঃ আঙ্গুর বেগম (৩৫) কর্তৃক অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বগুড়া জেলার সোনাতলা থানার মামলা নং- ০১, তারিখঃ ০১/১১/২০২১ খ্রিঃ, ধারাঃ ৩০২/৩৪ পেনাল কোড- ১৮৬০ রুজু হয়।
উক্ত ঘটনাটি দেশজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে সিআইডি ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর পিপিএম এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় উক্ত হত্যার ঘটনাটি কেন এবং কিভাবে সংগঠিত হয়েছে, ঘটনায় কে বা কারা জড়িত, কারো সাথে পারিবারিক/ব্যবসায়িক পূর্ব কোন বিরোধ ছিল কিনা ইত্যাদি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ভিকটিমের পরিবার, ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকার বিভিন্ন উৎস হতে সরেজমিনে সংগ্রহ করা হয়।
পরবর্তীতে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত বিচার বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে, মৃত হাছেন আকন্দ ৩ ছেলে ও স্ত্রীসহ মোট ৫ জনের মুখের অন্ন সংস্থানের জন্য কৃষি কাজের পাশাপাশি গরুর ব্যবসা করতো। তিনি প্রায় ১০/১২ বছর যাবৎ স্থানীয় কলেজ হাট, নাটিয়ার পাড়া, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী গরুর হাটসহ বিভিন্ন গ্রাম হতে গৃহস্থের গরু ক্রয় করে নিজের বাড়ীতে লালন পালন করে বিক্রয় উপযোগী হলে বিভিন্ন হাটে নিয়ে বিক্রয় করতো। এর পাশাপাশি সারিয়াকান্দি বাঙ্গালী নদীর চরে বর্গা নেওয়া প্রায় দেড় বিঘা জমিতে সে বাদাম, পিয়াজ, কলাই ও মাটি ভালো হলে ধান উৎপাদন করে সংসার চালাতো। বর্ষার সময় চরাঞ্চলে পানি এসে ক্ষেতের সীমানা/আইল প্রায় বিনষ্ট হয়ে যায়।
ঘটনার সপ্তাহ খানেক আগে শিমুলতাইড় গ্রামের জনৈক ব্যক্তি তার জমিসহ হাছেন আকন্দের জমিতে বাদাম গাছ লাগাতে থাকে। বিষয়টি ভিক্টিম হাছেন আকন্দ লোক মারফত সংবাদ পেয়ে নিজের জমির সীমানা ছাড়িয়ে তার ক্ষেতে কেন বাদাম চাষাবাদ করছে মর্মে জনৈক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করে।
এতে উক্ত ব্যক্তি, তার ছোট ভাই শুক্কুর আলী ও প্রতিবেশী হযরত আলী ক্ষিপ্ত হয়ে হাছেন আকন্দ এর উপর মারমুখী আচরণ করে এবং জোর পূর্বক চাষাবাদ করতে থাকে। পরবর্তীতে শুক্কর আলী (২২) ও তার ঘনিষ্ট বন্ধু হযরত আলী (২০) পরস্পর যোগসাজশে চাষাবাদে বাধা দেওয়ার কারণে ইং ৩১/১০/২০২১ তারিখ রাত অনুমান ২০:০০ ঘটিকায় সোনাতলা থানাধীন ৬ নং তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের অর্ন্তগত চর সরলিয়া গ্রামস্থ জনৈক মনসুর মন্ডল (৭০) পিতা- মৃত আহম্মদ মন্ডল এর ভুট্রা ক্ষেতে হাছেন আকন্দকে কৌশলে ডেকে এনে তার গলায় গামছা পেচিয়ে হত্যা করে গামর গাছের সাথে লাশটি ঝুলিয়ে রেখে আত্মগোপনে চলে যায়।
এলআইসির একাধিক চৌকস টীম উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত আসামী- ১। হযরত আলী (২০) পিতা- মোঃ সোলেমান মুসল্লি, সাং- শিমুলতাইড়, থানা- সারিয়াকান্দি, জেলা- বগুড়াকে গ্রেফতারের জন্য সম্ভাব্য সকল স্থানে অভিযান পরিচালনা করে।
পরবর্তীতে এলআইসি’র পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোহাম্মদ আবুল বাশার এর নেতৃত্বে একটি টীম জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জের দুর্গম চরাঞ্চলে টানা তিন দিন অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার অজ্ঞাতনামা আসামীকে চিহ্নিতপূর্বক গ্রেফতার সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
জে/র

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে চীনের ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকার ঋণ
প্রতিনিধির নাম : 















