Newsvob.com. বিশেষ প্রতিবেদন: রাজধানীর বাড্ডা থানা এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিক্সা নিয়ে চলছে ব্যাপক নৈরাজ্য, চাদাবাজের কবলে পেটের দায়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় রিক্সা চালককেরা আতিষ্ট ও দিশেহারা”যেন দেখার কেউ নেই। কত দিন এই হালে যাবে বহিতে পাপের তরনি তা উপর ওয়ালাই মালুম। প্রযুক্তির উৎকর্ষের উন্নয়নের যুগে সারা পৃথিবী যখন প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল তখন আমাদের সমাজেও তার প্রভাব রয়েছে। দেশের গরিব দুখি খেটে খাওয়া মেহনতি অভাবি মানুষ তার অধিকার, বেচে থাকার তাগিদে জীবিকার জন্য প্যাডেলে ভর দিয়ে রিক্সা চালিয়ে আয় রোজগার করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন ধারন করছে। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশে সেখানে অর্থাৎ প্যাডেল এর স্থলে ইলেক্ট্রিক মটর ও ব্যাটারি চার্জার প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাচ্ছন্দে চলাচল করে জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ জনক ব্যাপার হল প্রযুক্তির ব্যবহার এর উপর চলছে নিদারুন কুঠারাঘাত চাদাবাজি অন্যায় অবিচার জুলুম নির্জাতন ও গরীবের পেটে লাথি। খোঁজ নিয়ে জানা যায় সরকারি দলের রাজনৈতিক ছদ্দবেশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে একশ্রেণীর পরধনলোভী লুটেরা সন্ত্রাসী চাদাবাজ সিন্ডিকেট যার নেপথ্যে রয়েছে। তারা স্থানীয় থানা পুলিশ প্রসাশনের মদদে প্রতিটি ব্যাটারিচালিত রিক্সা থেকে মাসে লাইন খরচ এর জন্য পনেরশত টাকা চাদা আদায় করছে। সে হিসেবে পুরো বাড্ডা থানা এলাকায় হাজারের ও বেশি এই প্রযুক্তির রিক্সা রয়েছে। প্রিয় পাঠক বিষয়টি ভেবে দেখুন কি পরিমান টাকা চাদাবাজি করে ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে তারা আত্তসাত করছে। আর এ চাদাবাজীকে কেন্দ্র করে মাঝে মাঝে ওই এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। ইতিপূর্বে উত্তর বাড্ডায় এই রিক্সা চাদাবাজীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দের জেরে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ফরহাদ অকালে নৃশংসভাবে খুন হন। আজো তার কোন কিনারা হয়নি স্মৃতির পাতায় হারিয়ে গেছে তার জীবন। শুধু তাই নয় এর সাথে রয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশের কতক অসাধু অফিসার কর্মকর্তা । তারা উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে বিনা কারনে অহেতুক বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদে রিক্সা আটক করে হয়রানি ও ঘুষের চাদা আদায় করছে। বিল আদায়ের নামে নুন্যতম সাতশত টাকা থেকে শুরু করে অবস্থা ভেদে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বখরা আদায় করছে। চাদাবাজী আরো বেগবান করতে এমনকি তারা ওই এলাকার প্রতিটি গ্যারেজে হানা দিয়ে সমস্ত চার্জারগুলো নিয়ে যায়। এ ঘটনায় অনেক পরিবারের একমাত্র উপার্জনসক্ষম ব্যাক্তি রিক্সায় চার্জ থাকায় কোন রোজগার করতে না পেরে তাদের অনাহারে কষ্টের মধ্যে দিন কেটেছে। এর চেয়ে বড় জুলুম নির্জাতন অমানবিকতা আর কি হতে পারে। হায় আফসোস ! রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থানা পুলিশ জনতার রক্ষক সেবক যখন ভক্ষক খিয়ানতকারীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মানুষের হাড় ভাংগা কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে ঘামে ভেজা অর্জিত অর্থ অর্থাৎ গরিবের রক্ত চুষে নেয়। তখন সমাজে সুশাসন বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। সর্বস্তরে দুর্বলের উপর সবলের পৈশাচিক অন্যায় অত্যাচার অবিচার জুলুম নির্জাতন অরাজকতায় সমাজ পরিপূর্ণ হয়ে একেবারে সয়লাভ হয়ে যায়। তখন আরসে আযিম এর মালিক মহান আল্লাহ তায়ালা আর সহ্য করেন না আসমানী বালা মুসিবত আজাব গজব নাজিল করে এক ভয়ংকর বীভিসিকাময় পরিস্থিতির অবতারণা করে ওই জাতিকে শিক্ষা দেন। সেই ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের আমল থেকে গরীবের রক্তচোষা স্বভাব আর পরিবর্তন হলো না। স্বাধীনতার প্রায় তিন যুগ অতিবাহিত হলে ও সেই রক্তচোষা উপনিবেশিক ধ্যান ধারনার আগ্রাসনের নিষ্পেষণের কবল থেকে জাতি আজও পরিত্রান পায়নি। এরা শাসনের নামের আড়ালে জাতীর রক্তমাংস শোষণ করে চলেছে। নেতা নয় চাই নীতির পরিবর্তন। নীতিহীন রাজনীতি বৃথা আস্ফালন বৈকি। জাতীরজনক বঙ্গবন্ধু এক অনুষ্ঠানে কর্মরত চাকুরীজীবি সকল অফিসারদের ও নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, তোমাদেরকে শ্রোদ্ধা অর্জন করতে হবে আর শ্রোদ্ধা অর্জন করতে হলে তোমাদেরকে শ্রিঙ্খলা শিখতে হবে। নিজকে সত থাকতে হবে চরিত্র ও ঠিক রাখতে হবে। তা না হলে ভাল কিছু করা যায় না। সাত কোটি মানুষের মূখ কালা করোনা আমার মূখ কালা কোরো না। তোমরা আদর্শবান হও, মনে রেখ মুখে হাসি বুকে বল তেজে ভরা মন মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন। মাঝে মাঝে আমরা অমানুষ হয়ে যাই। এত রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি এখনও চরিত্রের পরিবর্তন অনেকের হয়নি। কতক ঘুষখোর দূর্নীতিবাজ চোরাকারবারি দেশের গরীব দুখি মেহনতি মানষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আমি তাদেরকে অনুরোধ করেছি হুমকি দিয়েছি কিন্তু চোরা নাহি শোনে ধর্মের কাহিনী। কিন্তু আর না, এ জন্যই শহীদেরা রক্ত দিয়ে যায়নি। কতক ঘুষখোর দূর্নীতিবাজ মুনাফাখোর চোরাকারবারি দেশের সম্পদ বিদেশে বার করে দিয়ে মানুষকে না খাওয়াইয়া মারে। উৎখাত করতে হবে এদেরকে। এই ঘুনে ধরা সমাজ ব্যাবস্থাকে চরম আঘাত করতে হবে। দেখি কতদুর তারা টিকতে পারে। এবার প্রমান হয়ে যাবে চোরের শক্তি বেশী না ইমান্দারের শক্তি বেশী। আর তা না হলে স্বাধীনতার প্রকৃত অর্জন রক্ষা করা যাবে না। স্বাধীনতার নামে পুঁজিবাদীদের দ্বারা আজন্ম পরাধিনতার গ্লানি বয়ে বেড়াতে হবে। আর ক্ষমতার রাজত্ব যাবে অমানুষের হাতে। তখন শ্রোদ্ধা অর্জন বলে আর কিছু থাকে না। আর বাকি সব লোকদেখানো গোমরাহি ও ভওতাবাজী ছাড়া আর কিছুই না।