Newsvob.com.: নিজস্ব প্রতিবেদক গত ২০/০৫/২০২৩ খ্রিঃ তারিখ মেছের আলী নামক এক ব্যক্তি তিনি তার বাড়ী থেকে সবজি বিক্রি করার জন্য ভ্যানযোগে বের হন এবং বের হওয়ার পরবর্তীতে তিনি রাতে সবজি বিক্রি করে বাসায় ফেরেন। বাসায় ফেরার পর তিনি রাত প্রায় ১১.০০ ঘটিকার সময় তার নাতি মোঃ নাইমকে বলে বাসার বাহিরে যান এবং তিনি তার নাতিকে বলেন আজকে বাসায় ফিরবেন না। নাতি যেন বাসায় তালা লাগিয়ে ঘুমিয়ে থাকে। গত ২০/০৫/২০২৩ খ্রিঃ তারিখ রাতে এই ঘটনার পরবর্তীতে মেছের আলী আর বাসায় ফিরেন নি। প্রায় ০২ (দুই) বছর পূর্বেও কয়েকবার তিনি এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন।
বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর তিনি আর বাসায় ফেরেন নি। তাই মেছের আলীর পরিবারের কাছে এই ঘটনাটি প্রথমে একটি স্বাভাবিক ঘটনা বলে প্রতিয়মান হয়। যেহেতু পরিবারের লোকজনের কাছে এটি স্বাভাবিক ঘটনা মনে হয়েছিল তাই তারা ঘটনার বিষয়ে থানাকে অবগত করেন নি। পরবর্তীতে গত ২৩/০৫/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে মেছের আলীর পরিবারের লোকজন আনুমানিক বিকাল ৪.০০ ঘটিকার সময় জানতে পারে বরুয়ার বোয়ালিয়া খাল সংলগ্ন আশিয়ান হাউজিং প্রজেক্টের বালুর চড়ে মেছের আলীর মৃতদেহ পড়ে আছে। উক্ত স্থানে উপস্থিত হয়ে ভিকটিম মেছের আলীর স্ত্রী তার স্বামীর আংশিক পচনশীল মৃতদেহ সনাক্ত করেন। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায়, মেছের আলীর কারো সাথে শত্রæতা না থাকায় এবং একইসাথে ভিকটিম স্বেচ্ছায় বাসা থেকে বের হওয়ায় যে কোনোভাবে ভিকটিমের মৃত্যু হতে পারে চিন্তা করে ভিকটিমের ছেলে আল আমিন বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকালে পরবর্তী সময়ে এডিসি ক্যান্টনমেন্ট ইফতেখায়রুল ইসলাম পিপিএম তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ পুনরায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যান। পরিদর্শনকালে ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যাগের উপস্থিতি সনাক্ত করা হয়। ঘটনাস্থলের সেই ব্যাগের ভিতর থেকে কাস্তে, কম্বলসহ কিছু নতুন-পুরনো কাপড় ও মিনা নামে একজনের জন্ম নিবন্ধন ও টিকা কার্ড পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের উক্ত ব্যাগ পাওয়ার প্রেক্ষিতে এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সকল সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেন।
ব্যাগের ভিতর থেকে প্রাপ্ত জন্ম সনদ এর প্রেক্ষিতে মিনাকে এবং তার স্বামী শাহাবুদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। মিনা এবং তার স্বামী শাহাবুদ্দিন হাজির হলে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন পূর্বে মিনার স্বামী শাহাবুদ্দিন তাদের গ্রামের বাড়ী নেত্রকোনার দিকে যেতে চাচ্ছিলেন সেই একই সময়ে যখন তিনি নারায়নগঞ্জ থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত হন, তখন এক বয়স্ক লোক তাকে বলেন, ভাতিজা আমিও নেত্রকোনায় যাব, চল আমরা একসাথেই যাই। আমরা যদি এখানে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করি তাহলে আমাদের অনেক সময় লেগে যাবে। সেইক্ষেত্রে বয়স্ক লোকটি একটি বিকল্প রাস্তার কথা বলেন এবং সেটি হল কারওয়ান বাজার থেকে বাসে করে যাওয়া।
কমলাপুর থেকে সরল বিশ্বাসে শাহাবুদ্দিন সেই বয়স্ক লোকটির সাথে যার নাম পরবর্তীতে জানা যায় রমজান আলী, তার সাথে করে কারওয়ান বাজার গিয়ে উপস্থিত হন। কারওয়ান বাজার উপস্থিত হয়ে বয়স্ক রমজান আলী, শাহাবুদ্দিনকে চা পান করার প্রস্তাব দেয়। চা পান করার পর বয়স্ক রজমান আলী, শাহাবুদ্দিনকে জানায় তোমার কাছে যে ব্যাগটা রয়েছে, ব্যাগটি তুমি আমার কাছে দিয়ে দাও, এটা মানুষজন নিয়ে নিতে পারে তোমার কাছ থেকে। তাছাড়া তার কাছে কোনো টাকা থাকলে তাও রমজান আলী কাছে দিয়ে দিতে বলেন। এই কথা বলে শাহাবুদ্দিন এর কাছে থাকা ৪০০ (চারশত) টাকা এবং তার ব্যাগটি এই বয়স্ক রমজান আলী তার নিজের কাছে রাখে। তখন শাহাবুদ্দিন বয়স্ক রমজান আলীর মোবাইল ফোন থেকে তার স্ত্রী মিনাকে কল দিয়ে জানান তিনি এই চাচার সাথে তার গ্রামের বাড়ীতে যাচ্ছেন, এই চাচাও একই এলাকায় যাবেন । কিন্তু যখন শাহাবুদ্দিন উক্ত স্থানে একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হন তখনি বয়স্ক রমজান আলী তার ব্যাগ ও টাকা নিয়ে উক্ত স্থান থেকে চলে যান।
পরবর্তীতে সে জনসাধারনের সাহায্য নিয়ে ট্রেনে করে তার গ্রামের বাড়ীতে পৌছায় এবং গ্রামের বাড়ী পৌছে সে তার স্ত্রী মিনাকে ফোন করে জানায় সে ঠিক মত গ্রামের বাড়ীতে পৌছেছে। তখন সে তার স্ত্রীকে জানায় বয়স্ক রমজান আলী নামক চাচা তার ব্যাগ ও টাকা নিয়ে চলে গেছে। মিনা তখন তাকে বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠায়। উক্ত ঘটনার পর আরো একটি নাম্বার থেকে মিনাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা পয়সা চাওয়া হয়েছিল কিন্তু মিনা টাকা প্রদান করেননি। যেহেতু মিনার স্বামী সুস্থ অবস্থায় গ্রামের বাড়ীতে পৌছেছিলেন তাই সে এই বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করেননি। ঘটনাস্থলের প্রাপ্ত ব্যাগটি শাহাবুদ্দিনকে দেখানো হলে সে তার ব্যাগটি সনাক্ত করে।
বয়স্ক রজমান আলী শাহাবুদ্দিনকে চায়ের সাথে চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে এই ব্যাগটি নিয়েছিল বলে জানায়। শাহাবুদ্দিন এর জবানবন্দির প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি পর্যালোচনা করে দেখতে পাই যেদিন মেছের আলী বাসা থেকে চলে যান ঐ একই দিনে একটি বয়স্ক লোক অটোরিকসা যোগে ভিকটিমের সাথে বড়ুয়া এলাকায় উপস্থিত হয় এবং তখন বয়স্ক লোকের পিছনে একটি রেক্সিনের ব্যাগ ঝুলানো ছিল। ঐ রেক্সিনের ব্যাগের ভিতরেই শাহাবুদ্দিনের নিকট হতে নেয়া ব্যাগটি ছিল। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির সহয়তায় এবং সিসিটিভি পর্যালোচনান্তে বুঝতে পারি রমজান আলী নামের একজন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত। উক্ত রমজান আলীকে আজ মধ্য রাত ১২.৩০ ঘটিকার সময় শ্রীপুরের মাওনা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতার পূর্বক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, উক্ত দিনে তিনি ভিকটিম মেছের আলীকে নিয়ে রেলগেটের সামনে এক জায়গাতে এসে চা পান করেন। চা পান করার সময় রমজান আলী চায়ের মধ্যে চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়ে দেন।
ভিকটিমের কাছে থাকা ৪০০০ টাকা নেয়াই রমজান আলীর মূল উদ্দেশ্য ছিল। ভিকটিম ও রমজান আলী চা পান করার পর যখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় তার কিছুক্ষণ পর ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে গেলে রমজান আলী ভিকটিমকে একটু দূরে বড় বড় ঘাসযুক্ত জায়গায় রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। কিন্তু ভুলবশত রমজান আলী উক্ত ব্যাগটি ঘটনাস্থলে রেখে চলে যান এবং এই ব্যাগ প্রাপ্তির ভিত্তিতেই আমরা অপরাধীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হই। আসামীকে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের নিমিত্তে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি প্রদানকালে ভিকটিম ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেছেন।
ডিসি গুলশান জনাব মোঃ শহিদুল্লাহ বিপিএম, পিপিএম স্যারের নির্দেশনায়, এডিসি ক্যান্টনমেন্টের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও এসি ক্যান্টনমেন্টের সহায়তায় তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ খিলক্ষেত থানার একটি চৌকস টিম ঘটনার বিশ্লেষণ করে ঘটনার সাথে জড়িত আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
জে.রশিদ