ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারে চাঞ্চল্যকর তথ্য, উঠে এলো ১১ জনের নাম Logo প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন কাল Logo জুলাই যোদ্ধাদের পাশে প্রধানমন্ত্রী, উপহার দিলেন অটোরিকশা-রিকশা Logo মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে : ডা. জুবাইদা রহমান Logo ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য: প্রধানমন্ত্রী Logo মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি চক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেফতার; বিপুল আলামত উদ্ধার Logo জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী Logo মিরপুর মডেল থানার অভিযানে ৯০ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার Logo ২৮ লাখ টাকার জাল নোটসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে গুলশান থানা পুলিশ Logo যেকোনো সময় বেনজীরের প্রত্যাবর্তন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি চক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেফতার; বিপুল আলামত উদ্ধার

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৬ বার পঠিত হয়েছে

,নিউস ভয়েস  অফ বাংলাদেশ   ৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রি.  :     গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণা করে আসা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। মোঃ ফারুক হোসেন (৪১) ২। সাকিব খান (২৫) ৩। মাসুম মুনসী (৪৫) ৪। মীর তৌহিদুল ইসলাম (৩৬) ও ৫। মোঃ বকুল মন্ডল (৩৫)।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবির একটি টিমের ধারাবাহিক অভিযানে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানা এলাকা থেকে মোঃ ফারুক হোসেন ও সাকিব খানকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে মীর তৌহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের চাহিদার প্রেক্ষিতে কালকিনি থানা কর্তৃক গ্রেফতারকৃত মাসুম মুনসীকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। অপরদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা এলাকা থেকে চক্রের আরেক সদস্য মোঃ বকুল মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীপরিষদ সচিবদের অফিসিয়াল লেটারহেড প্যাড ০৪ বান্ডিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও অন্যান্য উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিবর্গের সিল ও স্বাক্ষর সম্বলিত ৪১টি সিল, প্রতারণা ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত ০৮ টি মোবাইল ফোন, প্রতারণা ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত ০২ টি কম্পিউটার ও ০১ টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মোঃ ফারুক হোসেন ২০০৬ সালে তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন সাত টিটিসি স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পে ইলেকট্রিশিয়ান পদে চাকরিতে যোগ দেন। ২০১৪ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর পুনর্বহালের উদ্দেশ্যে তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নেন। নিজের চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে জাল সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে একটি ফাইল প্রস্তুত করেন। একই সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘Priority’ সিলের নকল ব্যবহার করে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তিনি একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র গড়ে তুলে বিভিন্ন প্রতারণামূলক তদবির কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে।

তদন্তে জানা যায়, লিখিত নথি জালিয়াতির পাশাপাশি চক্রটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাকরি পুনর্বহালের জন্য চাপ সৃষ্টি করত। একই কৌশলে মলদোভায় জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত একটি জাল সুপারিশপত্রও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে জাল সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রভাব বিস্তার এবং প্রতারণামূলক তদবির-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছিল। তারা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্যাড, জাল সুপারিশপত্র ও ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা চালাত।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। এ চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News VOB

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারে চাঞ্চল্যকর তথ্য, উঠে এলো ১১ জনের নাম

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি চক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেফতার; বিপুল আলামত উদ্ধার

আপডেট এর সময় : ০৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

,নিউস ভয়েস  অফ বাংলাদেশ   ৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রি.  :     গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণা করে আসা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। মোঃ ফারুক হোসেন (৪১) ২। সাকিব খান (২৫) ৩। মাসুম মুনসী (৪৫) ৪। মীর তৌহিদুল ইসলাম (৩৬) ও ৫। মোঃ বকুল মন্ডল (৩৫)।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবির একটি টিমের ধারাবাহিক অভিযানে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানা এলাকা থেকে মোঃ ফারুক হোসেন ও সাকিব খানকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে মীর তৌহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের চাহিদার প্রেক্ষিতে কালকিনি থানা কর্তৃক গ্রেফতারকৃত মাসুম মুনসীকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। অপরদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা এলাকা থেকে চক্রের আরেক সদস্য মোঃ বকুল মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীপরিষদ সচিবদের অফিসিয়াল লেটারহেড প্যাড ০৪ বান্ডিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও অন্যান্য উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিবর্গের সিল ও স্বাক্ষর সম্বলিত ৪১টি সিল, প্রতারণা ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত ০৮ টি মোবাইল ফোন, প্রতারণা ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত ০২ টি কম্পিউটার ও ০১ টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মোঃ ফারুক হোসেন ২০০৬ সালে তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন সাত টিটিসি স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পে ইলেকট্রিশিয়ান পদে চাকরিতে যোগ দেন। ২০১৪ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর পুনর্বহালের উদ্দেশ্যে তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নেন। নিজের চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে জাল সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে একটি ফাইল প্রস্তুত করেন। একই সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘Priority’ সিলের নকল ব্যবহার করে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তিনি একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র গড়ে তুলে বিভিন্ন প্রতারণামূলক তদবির কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে।

তদন্তে জানা যায়, লিখিত নথি জালিয়াতির পাশাপাশি চক্রটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাকরি পুনর্বহালের জন্য চাপ সৃষ্টি করত। একই কৌশলে মলদোভায় জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত একটি জাল সুপারিশপত্রও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে জাল সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রভাব বিস্তার এবং প্রতারণামূলক তদবির-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছিল। তারা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্যাড, জাল সুপারিশপত্র ও ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা চালাত।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। এ চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।