Newsvob.com.: প্রতিনিধি আহমেদ হ্নদয় ঃ চট্টগ্রামে মিতু হত্যা মামলা হারিয়ে যেতে যেতে, বহুবছর পর হলেও একটুখানি আলোতে এসেছে। কুমিল্লার তনু’র আত্বা আজও বন জঙ্গলে কেঁদে মরছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনির কথা লিখে আর তাদের আত্বাকে কষ্ট দিতে চাই না। মুনিয়া আত্মহত্যা করছে আজ ঠিক এক মাস। মুনিয়া আত্মহত্যা পরোচনা মামলার বয়স ও এক মাস, আসামিও এক। কিন্তু এই একমাস সময়ে এক নাম এজাহার ভুক্ত এই মামলার দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি আজও দেখা যায় নি। মামলার আইনি অগ্রগতি দুরে থাক এনিয়ে পত্র পত্রিকায় লেখালেখিও একেবারে বন্ধ। মুনিয়া মৃত্যুর শুরুতে দু/একটা পত্রিকা সামান্য লেখা লেখি করলেও এই মামলার একমাত্র আসামির নাম কোনও সাংবাদিক মুখে আনেনি। বিষয়টা এমন যেনো ভাসুরের নাম মুখে আনতে মানা। প্রিয় পাঠক, অনেক বছর আগের “খুকু মনিরের”পরকীয়ার কাহিনীমনে আছে আপনাদের! যার বলী হয়েছিলেন মনিরের স্ত্রী রিমি। মনির প্রভাবশালী,স্বনামধন্য ডাক্তার পরিবারের সন্তান হওয়ায় প্রায় সবাই ধরে নিয়েছিল স্ত্রী রিমি হত্যা মামলায় মনিরের কিছুই হবেনা। হতোও না, যদিনা সে সময় পত্রিকাগুলোতে রিমি হত্যায় সাংবাদিকদের লেখনীতে বিষ্ফোরণ না ঘটতো। মুনীয়ার বেলায় ও এমনটি আশা করেছিল সকলে। কিন্তু না। মুনিয়ার মৃত্যুতে বাংলার তাবত বাঘা বাঘা সাংবাদিক একেবারে মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে, যেনো মুনিয়া নামে কোনো মেয়েকে নিয়ে কোনও কিছুই হয়নি, মুনিয়া নামে কোনো মেয়ের নামও কখনও তারা শোনেনি। এর একমাত্র এবং একমাত্র কারণ, মুনিয়া আত্মহত্যা পরোচনা মামলার একমাত্র এজাহার নামীয় আসামি আনভির, বাংলাদেশের বিখ্যাত একটি শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরার মালিক। মূনিয়ার মৃত্যুর এক মাস পর আজ মনে হচ্ছে ক্ষমতা আর টাকার কাছে কলম বড় অসহায়। না, কলম অসহায় না। কলম আরো অনেক বেশি শক্তিশালী সম্পদশালীদের কাছে। তানাহলে সেই সাংবাদিকের কলমে এখন উল্টো সুর লেখে? যেখানে মুনিয়ার আত্মহত্যার মদদ দাতাদের খুঁজবে সাংবাদিকের কলম। সেখানে কিছু কিছু সাংবাদিক মহানন্দে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মৃত মুনিয়ার চরিত্রের পোষ্টমর্টেম করতে। কি জঘন্য ভাবে তার অতীত চরিত্রের খুঁটি নাটি, তার পরিবারের সদস্যদের চরিত্র নিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে কি লেখনী-পড়তেই গা গুলিয়ে যাই। একজন মৃতাকে নিয়ে এ রকম নিউজ করতে কি বিবেকে বাধে না!। হায়রে সাংবাদিকতা, যাদের লেখার জেরে অপরাধীদের জীবিত পোষ্টমর্টেম হয়। আর সেই সাংবাদিকের কলমে একজন মৃতার চরিত্রের পোষ্টমর্টেম? কি সেলুকাস। মুনিয়াকে আর হয়তো বাঁচানো গেল না। বাঁচানো সম্ভব হতো, যদি লেখা লেখির মাধ্যমে তার আত্মহত্যার মামলাটির গতি বাড়ানো যেতো।
মুনিয়া এখন প্রায় বিস্মৃতির অন্তরালে। ভুলে গেছে সবাই, ভুলে গেছি আমরা, শেষপর্যন্ত মুনিয়াকে আমরা মেরেই ফেললাম-অনেক নাম না জানা তনু’ র মত। ভালো থেকো মুনিয়া ওপারে, আনভিররা ভালো থাক এপারে।