প্রতিপক্ষের জালে ৪ গোল দিয়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। ফুটবল বিশ্বে এমন ম্যাচ খুব কমই দেখা যায়, যেখানে প্রতিপক্ষের জালে ৪ গোল দিলেও জয় ছাড়া মাঠ ছাড়তে হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এস্তাদিও ডি লা সেরামিকায় স্বাগতিক ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে ৪-৪ গোলের রোমাঞ্চকর ড্র করেছে বার্সেলোনা। মেসি এবং সুয়ারেজের শেষ মুহূর্তের গোলে ভিয়ারিয়ালের সাথে নিশ্চিত হারা ম্যাচ কমরকম ড্র করে মাঠ ছেড়ে সম্মান বাঁচিয়েছে বার্সেলোনা। ম্যাচের শেষ তিন মিনিটে দুই গোল করেছেন মেসি এবং সুয়ারেজ।
ডিসেম্বরে লিগের প্রথম পর্বে ঘরের মাঠে দলটিকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল বার্সেলোনা। শিরোপা ধরে রাখতে এগিয়ে চলা বার্সেলোনা ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল পেতে পারতো। তবে কৌতিনহোর পাস পেয়ে লুইস সুয়ারেজের কোনাকুনি শট পা বাড়িয়ে ঠেকান গোলরক্ষক। খানিক পর স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ভিসেন্তে ইবোরার শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান বার্সেলোনা গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন।
দ্বাদশ মিনিটে ডান দিক দিয়ে রক্ষণ ভেঙে ডি-বক্সে ঢুকে গোলমুখে বল বাড়ান ম্যালকম। অনায়াসে আলতো টোকায় গোল করে দলকে লিড এনে দেন কৌতিনহো। চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন প্রথম গোলে ম্যালকম। আর্তুরো ভিদালের ক্রসে হেডে বল ঠিকানায় পাঠান এই ব্রাজিলিয়ান।
দু্ই গোলে এগিয়ে থাকার স্বস্তি অবশ্য বেশিক্ষণ থাকেনি বার্সেলোনার। খেলার ২৩তম মিনিটে ব্যবধান কমান সামুয়েল। সতীর্থের থ্রু পাস পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে তার নেওয়া শট পোস্টে বাধা পায়। তবে ফিরতি বল কোনাকুনি শটে জালে পাঠান নাইজেরিয়ার এই মিডফিল্ডার।
দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে একাম্বির গোলে সমতায় ফেরে ভিয়ারিয়াল। সতীর্থের থ্রু পাস ডান দিকের সাইডলাইনের উপর থেকে ধরে দ্রুত ছুটে ডি-বক্সে ঢুকে দুরূহ কোণ থেকে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন ক্যামেরুনের এই ফরোয়ার্ড। টের স্টেগেন একটু সামনে এগিয়ে থাকায় ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি।
আক্রমণের ধার বাড়াতে ৬১তম মিনিটে কৌতিনহোকে তুলে মেসিকে মাঠে নামান কোচ। এর পরের মিনেটেই তৃতীয় গোল হজম করে তারা। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের রক্ষণচেরা পাস ডি-বক্সে পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জাল খুঁজে নেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ভিসেন্তে ইবোরা।
৮০তম মিনিটে আরেকটি প্রতি-আক্রমণে স্কোরলাইন ৪-২ করেন কার্লোস বাক্কা। মাঝমাঠের অনেক আগে থেকে সতীর্থের লম্বা করে বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে কাটিয়ে গোলটি করেন কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ফ্রি-কিক পায় বার্সেলোনা, গোল করে ব্যবধান কমান ফ্রি-কিক মাস্টার মেসি। হারের শঙ্কায় পড়ে যাওয়া বার্সেলোনা শিবিরে নতুন করে আশা জাগে। চলতি লিগে আর্জেন্টাইন তারকার এটি ষষ্ঠ ফ্রি-কিক গোল। আর আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতার মোট গোল হলো ৩২টি।
আর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে স্বাগতিকদের হতাশায় ডুবিয়ে স্কোরলাইন ৪-৪ করেন সুয়ারেস। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ডিফেন্ডাররা ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে ফাঁকায় পেয়ে নিচু জোরালো শটে জালে পাঠান উরুগুয়ের স্ট্রাইকার।
৩০ ম্যাচে ২১ জয় ও সাত ড্রয়ে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার পয়েন্ট ৭০ যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা এটলেটিকো মাদ্রিদের চেয়ে ৮ পয়েন্ট বেশি।