ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারে চাঞ্চল্যকর তথ্য, উঠে এলো ১১ জনের নাম Logo প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন কাল Logo জুলাই যোদ্ধাদের পাশে প্রধানমন্ত্রী, উপহার দিলেন অটোরিকশা-রিকশা Logo মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে : ডা. জুবাইদা রহমান Logo ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য: প্রধানমন্ত্রী Logo মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি চক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেফতার; বিপুল আলামত উদ্ধার Logo জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী Logo মিরপুর মডেল থানার অভিযানে ৯০ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার Logo ২৮ লাখ টাকার জাল নোটসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে গুলশান থানা পুলিশ Logo যেকোনো সময় বেনজীরের প্রত্যাবর্তন

শিলংয়ে কাল থেকে রাজীবের জেরা শুরু

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
  • ১১৯ বার পঠিত হয়েছে

ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে আগামীকাল শনিবার থেকে জেরা শুরু করছে। শিলংয়ের সিবিআই দপ্তরে জেরা হবে। জেরা করবে সিবিআইয়ের দুটি দল। একটি দিল্লি থেকে আসবে। অন্যটি দিল্লির নির্দেশে বিশেষ কর্মকর্তাদের নিয়ে তৈরি। প্রতিটি দলে থাকছেন সিবিআইয়ের একজন পুলিশ সুপার, তিনজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, দুজন ডেপুটি সুপার এবং চারজন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদের পর দুটি দল সিবিআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবেদন দেবে।

এসপি জগরূপ এস গুসিনহার নেতৃত্বে দলটি প্রথম রাজীব কুমারকে জেরা শুরু করবে। গতকালই সিবিআই শিলংয়ে হাজির হওয়ার জন্য রাজীব কুমারকে সমন পাঠিয়েছে।

গত রোববার বিকেলে কলকাতার সিবিআই কর্মকর্তারা পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ড দুর্নীতি মামলার তদন্তে সেখানকার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাসভবনে যান। সেখানে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। কলকাতা পুলিশ জোর করে সিবিআই কর্মকর্তাদের গাড়িতে তুলে শেক্‌সপিয়ার সরণি থানায় নিয়ে যায়। রাতে অবশ্য ছেড়ে দেয়।

এই ঘটনার পর গত সোমবার সিবিআই আদালতে মামলা করে। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে গড়া ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, সিবিআই রাজীব কুমারকে জেরা করতে পারবে। তবে জেরার সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না। সুপ্রিম কোর্ট আরও নির্দেশ দেন, রাজীব কুমারকে শিলংয়ে সিবিআই দপ্তরে জেরা করা হবে।

সিবিআই গত রোববার শিলংয়ে তৃণমূলের সাবেক সাংসদ ও সারদার সাবেক মিডিয়া সেলের প্রধান কুনাল ঘোষকেও তলব করেছে। ২০১৩ সালের এপ্রিলে ১৪ হাজার কোটি রুপির সারদা দুর্নীতির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর কুনাল ঘোষ দাবি করেছিলেন, সারদার বিভিন্ন নথি রাজ্য পুলিশের কর্মকর্তারা নষ্ট করেছেন। তাই সারদার বিভিন্ন নথি নিয়ে যাঁরা ওয়াকিবহাল, সিবিআই তাঁদেরও ডাকার উদ্যোগ নিয়েছে।

সিবিআই বলছে, পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে জেরা করার জন্য সিবিআই শতাধিক প্রশ্নের একটি প্রশ্নমালা তৈরি করেছে। এই প্রশ্ন নিয়ে সিবিআই কর্মকর্তারা তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন।

গত রোববার কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে মমতার ধরনা মঞ্চে যোগ দেওয়া পাঁচজন আইপিএস পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিবকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, নিয়ম ভেঙে পুলিশ কর্মকর্তারা মমতার সঙ্গে ধরনায় বসেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতেও বলা হয় ওই চিঠিতে। সরকারি পদক কেড়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন শাস্তির কথা বলা হয়েছে এতে।

পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজি) বীরেন্দ্র, অতিরিক্ত ডিজি বীনিত গোয়েল (নিরাপত্তা), অতিরিক্ত ডিজি (আইনশৃঙ্খলা) অনুজ শর্মা, বিধানগরের (সল্টলেক) পুলিশ কমিশনার জ্ঞানবন্ত সিং এবং কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সুপ্রতীম সরকার। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী এক প্রতিবেদনে ধরনায় রাজীব কুমার ছাড়া আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকার কথা বলেছেন।

তবে তৃণমূল দাবি করেছে, মমতার ধরনায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যোগ দেননি। গত রোববার রাতে মমতা রাস্তায় ধরনা দিতে বসেছিলেন। নিরাপত্তার জন্য তাঁকে ঘিরে রেখেছিলেন পুলিশের কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারে চাঞ্চল্যকর তথ্য, উঠে এলো ১১ জনের নাম

শিলংয়ে কাল থেকে রাজীবের জেরা শুরু

আপডেট এর সময় : ০৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে আগামীকাল শনিবার থেকে জেরা শুরু করছে। শিলংয়ের সিবিআই দপ্তরে জেরা হবে। জেরা করবে সিবিআইয়ের দুটি দল। একটি দিল্লি থেকে আসবে। অন্যটি দিল্লির নির্দেশে বিশেষ কর্মকর্তাদের নিয়ে তৈরি। প্রতিটি দলে থাকছেন সিবিআইয়ের একজন পুলিশ সুপার, তিনজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, দুজন ডেপুটি সুপার এবং চারজন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদের পর দুটি দল সিবিআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবেদন দেবে।

এসপি জগরূপ এস গুসিনহার নেতৃত্বে দলটি প্রথম রাজীব কুমারকে জেরা শুরু করবে। গতকালই সিবিআই শিলংয়ে হাজির হওয়ার জন্য রাজীব কুমারকে সমন পাঠিয়েছে।

গত রোববার বিকেলে কলকাতার সিবিআই কর্মকর্তারা পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ড দুর্নীতি মামলার তদন্তে সেখানকার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাসভবনে যান। সেখানে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। কলকাতা পুলিশ জোর করে সিবিআই কর্মকর্তাদের গাড়িতে তুলে শেক্‌সপিয়ার সরণি থানায় নিয়ে যায়। রাতে অবশ্য ছেড়ে দেয়।

এই ঘটনার পর গত সোমবার সিবিআই আদালতে মামলা করে। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে গড়া ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, সিবিআই রাজীব কুমারকে জেরা করতে পারবে। তবে জেরার সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না। সুপ্রিম কোর্ট আরও নির্দেশ দেন, রাজীব কুমারকে শিলংয়ে সিবিআই দপ্তরে জেরা করা হবে।

সিবিআই গত রোববার শিলংয়ে তৃণমূলের সাবেক সাংসদ ও সারদার সাবেক মিডিয়া সেলের প্রধান কুনাল ঘোষকেও তলব করেছে। ২০১৩ সালের এপ্রিলে ১৪ হাজার কোটি রুপির সারদা দুর্নীতির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর কুনাল ঘোষ দাবি করেছিলেন, সারদার বিভিন্ন নথি রাজ্য পুলিশের কর্মকর্তারা নষ্ট করেছেন। তাই সারদার বিভিন্ন নথি নিয়ে যাঁরা ওয়াকিবহাল, সিবিআই তাঁদেরও ডাকার উদ্যোগ নিয়েছে।

সিবিআই বলছে, পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে জেরা করার জন্য সিবিআই শতাধিক প্রশ্নের একটি প্রশ্নমালা তৈরি করেছে। এই প্রশ্ন নিয়ে সিবিআই কর্মকর্তারা তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন।

গত রোববার কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে মমতার ধরনা মঞ্চে যোগ দেওয়া পাঁচজন আইপিএস পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিবকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, নিয়ম ভেঙে পুলিশ কর্মকর্তারা মমতার সঙ্গে ধরনায় বসেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতেও বলা হয় ওই চিঠিতে। সরকারি পদক কেড়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন শাস্তির কথা বলা হয়েছে এতে।

পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজি) বীরেন্দ্র, অতিরিক্ত ডিজি বীনিত গোয়েল (নিরাপত্তা), অতিরিক্ত ডিজি (আইনশৃঙ্খলা) অনুজ শর্মা, বিধানগরের (সল্টলেক) পুলিশ কমিশনার জ্ঞানবন্ত সিং এবং কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সুপ্রতীম সরকার। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী এক প্রতিবেদনে ধরনায় রাজীব কুমার ছাড়া আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকার কথা বলেছেন।

তবে তৃণমূল দাবি করেছে, মমতার ধরনায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যোগ দেননি। গত রোববার রাতে মমতা রাস্তায় ধরনা দিতে বসেছিলেন। নিরাপত্তার জন্য তাঁকে ঘিরে রেখেছিলেন পুলিশের কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা।