Newsvob.com. নিজস্ব প্রতিবেদক : অনলাইনে এক নারী ক্ষতিগ্রস্হ হওয়ার সংবাদের ফুটেজ ধরে রিপোর্টারের সাথে যোগাযোগ করে প্রতারক কামরুল। নারী নির্যাতন মামলার সেই বাদী র নাম,ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নিজেকে সিআইডি ইন্সপেক্টর মেহেদী হিসাবে পরিচয় দেয়। নিজেকে সিআইডি সাইবার এক্সপার্ট হিসেবে জানায়। মামলায় যাবতীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বাদীর কাছে আবির্ভুত হন ত্রাতা হিসাবে।
মামলার আসামীপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে এবং তাদের ভয়ভীতি দেখায়। আসামীকে মাদকের অন্য একটি মামলা দিতে হবে বলে বাদীকে হোয়াটসআ্যাপে অভিযোগের একটি ড্রাফ্ট পাঠায়, এর জন্য ৫০০০ টাকাও নেয় সে । আরেকজনকে ভুয়া এসপি হিসাবে সাজায় সে। তাকে দিয়ে বাদীর সাথে কথা বলায়। এতসব কার্যক্রম এবং যোগাযোগে বাদীর সাথে বেশ দ্রুততায় বিশ্বস্ততা অর্জন করে সে।
নারী নির্যাতন মামলা প্রমান করার জন্য প্রতারক কামরুল বাদীর কাছ থেকে কৌশলে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও নেয়। সরল বিশ্বাসে বাদী সিআইডি অফিসার ভেবে একান্ত গোপনীয় সকল ফুটেজ শেয়ার করে। ফুটেজ পেয়েই প্রতারকের কথাবার্তার ধরন এবং চেহার পাল্টে যায়। প্রতারক কামরুল এ কাজের বিনিময়ে মেয়েটির কাছে দুলাখ টাকা এবং তার সাথে রাত যাপনের অফার দেয়। মেয়েটি অবশেষে বুঝতে পারে সে প্রতারকের পাল্লায় পড়েছে। ভুয়া আইডি খুলে বাদীর ছবি ভাইরাল করার হুমকি দেয়। রীতিমত চাপে রাখে মেয়েটিকে।
উপায়ন্তর না দেখে মেয়েটি মালিবাগ সিআইডি হেডকোয়ার্টার্সে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে আসে। ইন্সপেক্টর মেহেদী নামের কাউকে খুজে পায়না সে। কান্নায় ভেঙ্গে পরে সে। এ সময় এক সিনিয়র কর্মকর্তার নোটিশে এলে পুরো ঘটনা শুনে অভিযোগ নেয়া হয়। সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টার বিষয়টি অনুসন্ধান করে। আসামীকে শনাক্ত করা হয়। গত ২৮.০২.২২ খ্রী. তারিখে সাইবার টীমের অভিযানে কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তার এ অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতার সকল প্রমাণ পাওয়া যায়। ডিজিটাল আলামতের সুত্র ধরে জানা যায়, দীর্ঘদিন সে নিজেকে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নানাজনের সাথে বিশেষ করে মেয়েদের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। কখনো সে নিজেকে ডিজেএফআই র কর্মকর্তা বলেও অনলাইনে পরিচয় দিত।
তার কাছ থেকে প্রতারনায় ব্যবহ্রত সীল , বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো চিঠির কপি, পাচটি ফেইক ফেসবুক আইডি, বিকাশ একউন্ট ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।প্রতারক কামরুলের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা রুজ্জু করা হয়েছে। দুই দিনের রিমান্ড সে এখন সিআইডি হেফাজতে রয়েছে।
নিউজ ভয়েস অফ বাংলাশে- জে/ রশীদ