Newsvob.com.: নিজেস প্রতিদেক : গত ইং ০৩/০৯/২০২১ তারিখ বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ০২.৩০ ঘটিকায় ফেনী পৌরসভার পশ্চিম বিজয়সিংহ লুদ্দারপাড় গ্রামের হাজী ফরিদ মিয়ার টিনসেট কলোনিতে একজন ব্যবসায়ী নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয়। ভিকটিম আল আমিন (২৫) নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটী গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।
আল আমিন, তার বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেন (২৭) ও আসামী মোঃ ডায়মন্ড (২৮) হাজী ফরিদ মিয়ার কলোনির একটি কক্ষে ভাড়া থাকতো। তারা তিনজনই ফেনী শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় হরেক রকমের জিনিসপত্র বিক্রি করতো। জানা যায় যে, আসামী ডায়মন্ডের সাথে তার গ্রামের কুমারী পপি মন্ডল (১৫) এর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে তাদের ঐ সম্পর্ক ভেঙে যায়।
এর কিছুদিন পর ১৬-০৬-২০২১ তারিখ কুমারী পপি মন্ডল (১৫) বিষ পান করে আত্মহত্যা করে। পরবর্তীতে নেশাগ্রস্থ হয়ে আল আমিন স্বীকার করে যে, সে ইচ্ছা করে সুকৌশলে ডায়মন্ডের ফোন ব্যবহার করে পপি মন্ডলকে বলে যে, ডায়মন্ড তাকে ভালবাসে না। যার পরিপ্রেক্ষিতেই পপি আত্মহত্যা করেছে।
এছাড়াও আল আমিন আরো জানায় যে, রুবেল মন্ডল (২২), হাসিবুর রহমান (২৩), আবু বক্কর (২৩) এবং সে কিছুদিন আগে রাতের বেলায় পপির রুমে ঢুকে পপিকে যৌন নিপীড়ন করে। উক্ত ঘটনা জানার পরে ডায়মন্ড আল আমিনকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং গত ০৩-০৯-২০২১ তারিখ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ছুরি নিয়ে আল আমিনের ওপর হামলা করে এবং তার বুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে।
এ সময় আল আমিনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আল-আমিনের বড় ভাই তোফাজ্জলকেও আসামী ডায়মন্ড ছুরিকাঘাত করে। তাদের চিৎকারে কলোনির অন্যান্য বাসিন্দারা এগিয়ে এলে ডায়মন্ড দৌড়ে পালিয়ে যায়।
উপরোক্ত ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে, সিআইডির এলআইসি শাখা ছায়া তদন্ত শুরু করে। বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর পিপিএম এর সংশ্লিষ্ট তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষন করে আসামীর সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকার সকল স্থানে অভিযান পরিচালনা করে অবশেষে দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া এলাকা হতে আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। অতি অল্প সময়ের মধ্যে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার একমাত্র এজাহারনামীয় আসামীকে গ্রেফতার সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
জেআর/ ভব