Newsvob.com.: অনলাইন ডেস্ক : মানুষ তার শেষ পদচিহ্ন দিয়ে
এঁকে দিয়ে যায় একটি সীমান্ত রেখা।
এ রেখা পেরিয়ে কোথায় যায় সে ?
এ নিয়ে রচিত হয়েছে কত ধর্ম, কত বিজ্ঞান, কত দর্শন।
সে সব অবতার, দার্শনিকের কিম্বা বৈজ্ঞানিকের তত্ত্ব।
কিন্তু আমি জানি, মানুষের শেষ পদচিহ্ন পৃথিবীর গা থেকে মুছে গেলে
সীমান্ত রেখাটি পেরিয়ে
এক না ফেরার দেশে সে চলে যায়।
কোন পাসপোর্ট ভিসা বা পোর্ট এন্ট্রিতে সে আর ফিরে
আসেনা তার রূপে – না ফেরার দেশ থেকে।
শুধু রেখার এপাড়ে পড়ে থাকে তার শৈশব, যৌবন, সংসার, শাখাপ্রশাখা আর বার্ধক্যের সুখ দুঃখগুলোর নানা রঙবেরঙের চিত্রশালা।
তার আপন মানুষগুলো এগুলো দেখে দেখে
চোখ ঝাপসা করে,ভিজায় হৃদয়।
তারপর একদিন নির্দয় সময়
সেগুলো চাপা দেয় অন্ধ গহ্বরে।
ধূসর হয়ে যায় সে সব স্মৃতি,
পৌষের কুয়াশার মত।
আন্দোলিত ঢেউ যেমন থেমে যায় নির্জন পুকুরের জলে
ঢিল ছোঁড়া থামার পর!
মানুষের জন্ম মৃত্যু কি তাহলে কেবলই
একটি রূপান্তর মাত্র?
অসীম থেকে সসীমে কিম্বা সসীম থেকে অসীমে!
বিজ্ঞান বলে পদার্থের তিন রূপান্তরঃ কঠিন, তরল, বায়বীয়।
তাহলে পদার্থের মৃত্যু কই ?
বিজ্ঞান আরো বলে-
শক্তির মৃত্যু নেই, রূপান্তর হয় শুধু,
এক শক্তি থেকে আরেক শক্তিতে?
তাহলে শক্তির মৃত্যু কই?
পবিত্র গীতায় বলে, “ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে”।
অর্থাৎ আত্মাকে হত্যা করা যায়না?
তাহলে আত্মার মৃত্যু কই?
শরীরের মৃত্যু নেই, আত্মার মৃত্যু নেই।
শুধু একটি অদৃশ্য রেখার উপর দিয়ে
কেবলই যাওয়া আসা।
নানারূপে, ভিন্ন অবয়বে।
রবীঠাকুর যেমন বলে গেছেন,
“শুধু যাওয়া আসা, শুধু স্রোতে ভাসা
শুধু আলো আঁধারে, কাঁদা হাসা। ”