নিজস্ব প্রতিবেদক : অদ্য ০৩/০৩/২০২২ইং তারিখে সিআইডি এক প্রেস ব্রিফিং এ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্ত ধর বলেন, গত ২৫ ফেব্রয়ারী ২০২২ তারিখ ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন ১ নং শিমুলিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি এলাকার সড়কের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কাঁথা দিয়ে মোড়ানো এক অজ্ঞাতনামা নারী (৩০) এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
উক্ত ঘটনাটি বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়।
উক্ত ঘটনা সংগঠিত হওয়ার সাথে সাথেই বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার পাশাপাশি সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার, জনাব মুক্তা ধর পিপিএম (বার) এর সার্বিক তত্বধানে ও নির্দেশনায় সিআইডির এলআইসি শাখা ছায়া তদন্ত শুরু করে।
ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকার বিভিন্ন উৎস হতে প্রয়োজনীয় তথ্য সরেজমিনে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ভিকটিমের নাম- আখিঁ আক্তার নাজনীন (৩০) পিতা- মৃত তোতা মিয়া, মাতা- দেলোয়ারা বেগম, সাং- জামুরহাট, থানা- শিবগঞ্জ, জেলা- বগুড়া মর্মে জানা যায় এবং তাকে হত্যার ঘটনার সাথে তার কথিত স্বামী- আব্দুল্লাহ শেখ (২৪) পিতা- আকমল শেখ, মাতা- রোজিনা বেগম, সাং- ধানকোড়া, থানা- কাশিয়ানী, জেলা- গোপালগঞ্জ এর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। এলআইসি’র একটি চৌকস টীম অভিযান পরিচালনা করে ইং ০২/০৩/২০২২ তারিখ দিবাগত রাতে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানাধীন রাতইল এলাকা হতে মামলার ঘটনার সহিত জড়িত আসামী- আব্দুল্লাহ শেখ (২৫) কে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায় যে, আখিঁ আক্তার নাজনীন (৩০) পিতা- মৃত তোতা মিয়া, মাতা- দেলোয়ারা বেগম, সাং- জামুরহাট, থানা- শিবগঞ্জ, জেলা- বগুড়া ও তার স্বামী- মোঃ আলমগীর হোসেন (৩১) পিতা- মোঃ অসিম উদ্দিন, মাতা- মোছাঃ আছমা বেগম, সাং- ধোপাখালী, থানা- ধনবাড়ী, জেলা- টাঙ্গাইল ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন নরসিংহপুরস্থ “শারমীন গ্রুপে” সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করে আসছিল। তাদের ১০ (দশ) বছরের সাংসারিক জীবনে ৬ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
একই ফ্যাক্টরীতে একই পদে কাজ করতো আব্দুল্লাহ শেখ (২৫) পিতা- আকমল শেখ, মাতা- রোজিনা বেগম, সাং- ধানকোড়া, থানা- কাশিয়ানী, জেলা- গোপালগঞ্জ। একই সাথে কাজ করার সুবাদে ভিক্টিম আখি আক্তার নাজনীন ও আব্দুল্লাহ শেখের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে বিয়ের আশ্বাসে প্রায় ১ (এক) বছর যাবৎ তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বসবাস শুরু করে। পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ শেখের পরামর্শে আখি তার স্বামী মোঃ আলমগীর হোসেন আলম এর নিকট হতে প্রায় ৯ মাস পূর্বে ডিভোর্স নিয়ে শ্রীপুর এলাকায় জনৈক আতাউর রহমানের মালিকানাধীন সেমি বিল্ডিং বাসা ৩,৫০০/= টাকায় ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বসবাস করে আসছিল। আখি আক্তার তাদের বিয়ের কথা কাবিন রেজিস্ট্রি করার জন্য আব্দুল্লাহ শেখকে বললে, সে বিভিন্ন অজুহাতে টালবাহানা করতে থাকে। ঘটনার দিন অর্থ্যাৎ ইং ২১/০২/২০২২ তারিখ বিকাল আনুমানিক ০৫:০০ ঘটিকার সময় আখি আক্তার বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করার বিষয়ে বারংবার তাগিদ প্রদান করলে আসামী- আব্দুল্লাহ শেখ (২৫) ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গলায় ওড়না পেচিয়ে হত্যা করে লাশটি ঘরের ভিতর রেখে অপেক্ষা করতে থাকে। রাত গভীর হলে সে সুযোগ বুঝে অপর ব্যক্তির সহযোগীতায় তাকে আশুলিয়া থানাধীন রাঙ্গামাটি এলাকায় সড়কের পাশে কাঁথা মোড়ানো অবস্থায় ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়।
উক্ত ঘটনার বিষয়ে ভিকটিম আখি আক্তার নাজনীন (৩০) এর দুলাভাই মোঃ শফিকুল ইসলাম (৪১) কর্তৃক অজ্ঞাতনামা আসামী/আসামীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার মামলা নং- ৬৮/১২০, তারিখ- ২৭/০২/২০২২ ইং ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ রুজু হয়।
এরুপ নির্মমভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার সহ আসামীকে দ্রুততম সময়ে অবস্থান সনাক্ত পূর্বক গ্রেফতার সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
নিউজ ভয়েস অফ বাংলাশে- জে/ রশীদ