নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ: সোমবার (৩ জুন) দুপুরে রমনা ডিসি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রমনা থানার ডিসি মুহাম্মাদ আশরাফ হোসেন। বলেন, আপাতত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।
তিনি জানান, পুলিশের ধারণা, আটককৃতরা নকল হিজড়া। তথাকথিত এসব হিজড়াদের আর ছাড় দেয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
আহত পুলিশ সদস্যের চোখে আলো ফেরাতে পুলিশ সব চেষ্টা করবে বলেও জানান রমনা থানার ডিসি। রাজধানীর পরীবাগ এলাকায় হিজড়াদের আক্রমণে পুলিশ সদস্য আহতের ঘটনায় চারজন তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসামিদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জর করেছেন আদালত।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার পরিবাগ এলাকায় হিজড়াদের একটি দলের আক্রমণে এসআই মো. মোজাহিদুল ইসলামের ডান চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে তিনি জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত হিজড়ারা হলেন- তানিয়া (১৯), তন্নী ওরফে তিথি (২১), কেয়া ২০ এবং সাথী ওরফে পাভেল (২০)।
তিনি বলেন, রাজধানীতে যেসব হিজড়া সড়ক, পরিবহন ও বিভিন্ন বাসাবাড়িতে চাঁদাবাজি করে তাদের বিরুদ্ধে বিগত ছয়মাস ধরে ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে আমরা খুব কঠোর অবস্থানে আছি। ডিএমপির আট বিভাগেই এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টিকারী হিজড়াদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। পরীবাগের ঘটনার পরে হিজড়াদের বিষয়টি আমাদের অবাক করে দিয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ডিসি মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, শুক্রবার রাত ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে এসআই আনোয়ারুল ইসলাম ও এসআই মো. মোজাহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ইস্কাটন গার্ডেনে নেভি কোয়ার্টার্সে ডিউটি করছিলেন। এসময় পাশেই পরীবাগ ফুটওভার ব্রিজের কাছে কয়েকজন রিকশাচালক ও পথচারীর চিৎকার শুনতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কয়েকজন হিজড়া/হিজড়া বেশধারীকে ছিনতাই করতে দেখতে পান। পুলিশের টিমটি তখন হিজড়াদের ছিনতাইয়ে বাধা দিলে তারা অতর্কিতে পুলিশ সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে এবং ইট-পাথর ছুঁড়তে থাকে। একপর্যায়ে হিজড়াদের ছোঁড়া ইট-পাথরের একটি টুকরা এসআই মোজাহিদুল মারাত্মকভাবে জখমপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন হিজড়াদল ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়