ঢাকা , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

রোহিঙ্গাদের জন্য চতুর্থবারের বারের মতো ত্রাণ সামগ্রী পাঠাল ভারত সরকার।

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০১:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮
  • ২০২ বার পঠিত হয়েছে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য চতুর্থবারের বারের মতো ত্রাণ সামগ্রী পাঠাল ভারত সরকার। এবার দুই লাখ ২৫ হাজার কম্বল, দুই লাখ উলের সোয়েটার ও পাঁচশ সৌর সড়কবাতি দিয়েছে প্রতিবেশী দেশটি।

আজ সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) থেকে বাংলাদেশের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের মাধ্যমে কক্সবাজারের ক্যাম্পে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ সহায়তা বাংলাদেশের প্রতি ভারতের চলমান অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার অংশ। বিশেষ করে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিপুল সংখ্যক বাস্তুহারা মানুষের ঢলে বাংলাদেশের ওপর যে বোঝা আরোপিত হয়েছে সেটি ভাগ করে নেয়ার ক্ষেত্রে।

ভারত কক্সবাজারে স্থানীয় সম্প্রদায়ের অরক্ষিত অংশের জন্যও কম্বল এবং সোয়েটারের একটি অংশ সরবরাহ করছে বলে জানানো হয়।

ভারতের হাইকমিশন জানায়, সাম্প্রতিক ত্রাণ সামগ্রীগুলো বাস্তুচ্যুত মানুষদের শীতে সাহায্য করবে, আর সৌর সড়ক বাতিগুলো ক্যাম্পের জন্য পরিবেশবান্ধব আলোকব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ‘অপারেশন ইনসানিয়াতের’ অধীনে কক্সবাজার এলাকায় মানবিক সহায়তার প্রথম চালান সরবরাহ করেছিল ভারত সরকার।

প্রথম চালানে ৯৮১ মেট্রিক টনের ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, চিনি, লবণ, রান্নার তেল, চা, নুডলস, বিস্কুট, মশারি ইত্যাদি।

এ বছরের মে মাসে দ্বিতীয় চালানে ভারত ৩৭৩ মেট্রিক টন ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করে। যার মধ্যে ছিল ১০৪ মেট্রিক টন গুঁড়ো দুধ, ১০২ মেট্রিক টন শুঁটকি, ৬১ মেট্রিক টন শিশুখাদ্য এবং বর্ষা মৌসুমে ব্যবহারের জন্য ৫০ হাজার রেইন কোট ও ৫০ হাজার জোড়া গামবুট।

সেপ্টেম্বর মাসে দেয়া তৃতীয় চালানে ভারত ১.১ মিলিয়ন লিটার সুপার কেরোসিন তেল এবং ২০ হাজার কেরোসিন স্টোভ হস্তান্তর করেছিল।

হাইকমিশন জানায়, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের ঘনিষ্ঠ বন্ধন রক্ষার্থে বাংলাদেশের যেকোনো সঙ্কটে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিতে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ। মিয়ানমার থেকে উৎখাত হওয়া মানুষের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখতে ভারত প্রস্তুত রয়েছে। এ সহায়তা হবে টেকসই, জনগণকেন্দ্রীক এবং আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের জন্য উপকারী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

রোহিঙ্গাদের জন্য চতুর্থবারের বারের মতো ত্রাণ সামগ্রী পাঠাল ভারত সরকার।

আপডেট এর সময় : ০১:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য চতুর্থবারের বারের মতো ত্রাণ সামগ্রী পাঠাল ভারত সরকার। এবার দুই লাখ ২৫ হাজার কম্বল, দুই লাখ উলের সোয়েটার ও পাঁচশ সৌর সড়কবাতি দিয়েছে প্রতিবেশী দেশটি।

আজ সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) থেকে বাংলাদেশের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের মাধ্যমে কক্সবাজারের ক্যাম্পে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ সহায়তা বাংলাদেশের প্রতি ভারতের চলমান অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার অংশ। বিশেষ করে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিপুল সংখ্যক বাস্তুহারা মানুষের ঢলে বাংলাদেশের ওপর যে বোঝা আরোপিত হয়েছে সেটি ভাগ করে নেয়ার ক্ষেত্রে।

ভারত কক্সবাজারে স্থানীয় সম্প্রদায়ের অরক্ষিত অংশের জন্যও কম্বল এবং সোয়েটারের একটি অংশ সরবরাহ করছে বলে জানানো হয়।

ভারতের হাইকমিশন জানায়, সাম্প্রতিক ত্রাণ সামগ্রীগুলো বাস্তুচ্যুত মানুষদের শীতে সাহায্য করবে, আর সৌর সড়ক বাতিগুলো ক্যাম্পের জন্য পরিবেশবান্ধব আলোকব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ‘অপারেশন ইনসানিয়াতের’ অধীনে কক্সবাজার এলাকায় মানবিক সহায়তার প্রথম চালান সরবরাহ করেছিল ভারত সরকার।

প্রথম চালানে ৯৮১ মেট্রিক টনের ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, চিনি, লবণ, রান্নার তেল, চা, নুডলস, বিস্কুট, মশারি ইত্যাদি।

এ বছরের মে মাসে দ্বিতীয় চালানে ভারত ৩৭৩ মেট্রিক টন ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করে। যার মধ্যে ছিল ১০৪ মেট্রিক টন গুঁড়ো দুধ, ১০২ মেট্রিক টন শুঁটকি, ৬১ মেট্রিক টন শিশুখাদ্য এবং বর্ষা মৌসুমে ব্যবহারের জন্য ৫০ হাজার রেইন কোট ও ৫০ হাজার জোড়া গামবুট।

সেপ্টেম্বর মাসে দেয়া তৃতীয় চালানে ভারত ১.১ মিলিয়ন লিটার সুপার কেরোসিন তেল এবং ২০ হাজার কেরোসিন স্টোভ হস্তান্তর করেছিল।

হাইকমিশন জানায়, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের ঘনিষ্ঠ বন্ধন রক্ষার্থে বাংলাদেশের যেকোনো সঙ্কটে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিতে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ। মিয়ানমার থেকে উৎখাত হওয়া মানুষের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখতে ভারত প্রস্তুত রয়েছে। এ সহায়তা হবে টেকসই, জনগণকেন্দ্রীক এবং আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের জন্য উপকারী।