Newsvob.com.: অনলাইন ডেস্কঃ সোমবার বিকালে ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।এর আগে সোমবার দুপুরে এলডিপির পক্ষ থেকেও অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।
২৮ অক্টোবর রাজনৈতিক সংঘাতের পর এটি বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর তৃতীয় বারের মতো অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা করে। অবরোধ কর্মসূচি সফলের জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান রিজভী।
রিজভী অভিযোগ করেন, বাড়িতে বাড়িতে গ্রেফতার অভিযান চলছে। এখন নারী নেতাকর্মীরাও গ্রেফতার থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। নারীদেরকে পুরুষ পুলিশ সদস্যরা গ্রেফতার করছেন, যা কোনো আইনে নেই। র্যাবকে আবারও বিরোধী দল দমনে নামানো হয়েছে।
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, ক্ষমতাসীনরা বাসে আগুন দিয়ে দায় চাপায় বিরোধীদের। বাসে আগুন দিয়ে ধরা পড়ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, যা ইতোমধ্যে প্রমানিত। অথচ তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছেনা। মিডিয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আদালত সরকারের কব্জায়। তাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অগ্নিসন্ত্রাস করলেও মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীরা করছে। এটি একটি সরকারের মাস্টারপ্লানেরও অংশ। যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন জনগণ এবার আর একদলীয় নির্বাচন করতে দেবে না।
পতনের আগে শেষ তাণ্ডব শুরু করেছে সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভাষা বুঝলে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। কোনভাবেই এই গণজোয়ার ঠেকানো যাবে না। আন্দোলন সফল হবেই, জনগণের বিজয় হবেই।
গ্রেফতারের তথ্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, রোববার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ২৭৫’র বেশি নেতাকর্মীকে। মামলা হয়েছে ১০টি, আসামী ৯৯৫ জনের অধিক নেতাকর্মী।
এর আগে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির দ্বিতীয় দফা অবরোধের শেষ দিনে ঢাকা, গাজীপুর এবং চট্টগ্রামে যাত্রীবাহী বাসসহ অন্তত পাঁচটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, আটক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ২৮শে অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে, অবরোধের প্রথম দিনের মতো সোমবারেও ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর, সায়েদাবাদ এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি বলে খবর পাওয়া গেছে।
ঢাকার রাস্তায়ও সকালে তুলনামূলকভাবে কম যান চলাচল করতে দেখা গেছে, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা বেড়েছে। এছাড়া ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশদ্বার গুলোতে পুলিশের পাশাপাশি সরকার সমর্থকদের অবস্থান চোখে পড়েছে। তবে বিএনপি তেমন কোন তৎপরতা দেখা যায়নি।