ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দিন আজ Logo সারাদেশে ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু কাল, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo যেকোনো সময় বেনজীরের প্রত্যাবর্তন Logo নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের মূর্তমান প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া : তথ্যমন্ত্রী Logo যে ভাবে ডেভিড ইমনের কাছে মিলল ভারতীয় আধার কার্ড, নাম ‘আজহার খান’ Logo অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের চার শিশু আটক Logo ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ Logo বিজ্ঞাপনের চুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে শারিরীক নির্যাতন, মামলা করতে থানায় মডেল স্নিগ্ধা Logo জরুরি সতর্কবার্তা দিল পুলিশ Logo তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬১ জন গ্রেফতার

MTFE প্রতারণা: বিদেশে পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকার অধিক সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার করলো সিআইডি

নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ   নিজস্ব প্রতিবেদক   জে রশিদ খান:   ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম MTFE (Metaverse Foreign Exchange)-এর বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিদেশে পাচারকৃত অর্থের একটি অংশ প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ৪৪ কোটি ১৪ লক্ষ ৬২ হাজার ৩০৩ টাকা) সমমূল্যের অর্থ উদ্ধার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বাংলাদেশ পুলিশ।

“MTFE Ponzi Scheme” এর প্রতারণার শিকার হয়ে জনৈক ভুক্তভোগী খিলগাঁও (ডিএমপি) থানার মামলা নং- ৭১, তারিখ- ২৮/০৮/২০২৩ খ্রি., ধারা- মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এর ২৪/২৬/৩৪/৩৭ তৎসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ২৩(২)/৩০(২)/৩১(২) রুজু করেন। মামলার এজাহারে বাদী MTFE (Metaverse Foreign Exchange) নামক একটি বিনিয়োগ অ্যাপে প্রলুদ্ধ হয়ে প্রায় ০২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারণার শিকার হয়েছেন মর্মে উল্লেখ করেন। তবে সিআইডির তদন্তে অসংখ্য বিনিয়োগকারী কোটি কোটি টাকা প্রতারণার শিকার হন মর্মে তথ্য পাওয়া যায়।

মামলাটির তদন্তে আরও জানা যায়, MTFE  একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, যা দ্রুততম সময়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতো। ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এটি। তখন ঘরে বসে সহজে অর্থ উপার্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফেসবুক ও ইউটিউবে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। ভিডিও ও বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই বিনিয়োগে আগ্রহী হন। ২০২৩ সালের শুরুতে প্ল্যাটফর্মটির বিস্তার দ্রুত বেড়ে যায়। ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট দেওয়া হতো, যেখানে জমা অর্থ ডিজিটাল ডলার হিসেবে প্রদর্শিত হতো। তবে এটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া বা অস্তিত্বহীন। লাভ-ক্ষতির তথ্য কৃত্রিমভাবে তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা হতো।

MTFE স্কিম প্রাথমিকভাবে কিছু অর্থ পরিশোধ করে ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে এমটিএফই হঠাৎ সামগ্রিক কার্যক্রম বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত ভার্চুয়াল মুদ্রা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ছিল। পক্ষান্তরে বিনিয়োগকারীদের অর্থ এমটিএফই এর মূল ওয়ালেটে জমা হয়ে সেখান থেকে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এভাবে বাংলাদেশের থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয় মর্মে তদন্তে উঠে আসে।

প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া অর্থের একটি অংশ প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন USDT (Tether) আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ OKX-এ সংরক্ষিত রয়েছে মর্মে সিআইডির তদন্তে উঠে আসে। পরবর্তীতে ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল Chainalysis Reactor ব্যবহার করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে উক্ত অর্থ এমটিএফই প্রতারণা চক্রের সাথে সংশ্লিষ্ট। এ বিষয়ে OKX এক্সচেঞ্জের লিগ্যাল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উক্ত অর্থ ফেরত প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের তৎপরতায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিজ্ঞ আদালতের শরনাপন্ন হলে বিজ্ঞ আদালত পাচারকৃত উক্ত অর্থ ফেরত আনতে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি, মালিবাগ শাখায় যৌথ ব্যাংক একাউন্ট খুলে উক্ত অর্থ গ্রহণ ও সংরক্ষণ করার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি-তে “CID, Bangladesh Police” নামীয় একটি সরকারি হিসাব খোলা হয়। একই সঙ্গে বিজ্ঞ আদালতের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক পাচারকৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর ও হস্তান্তরের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক Asset Reality Limited এর সাথে সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশের লিখিত চুক্তি সম্পাদিত হয়।

অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেড এর মাধ্যমে এভাবে প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করে উক্ত অর্থ সোনালী ব্যাংকের সরকারি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। সার্বিক প্রক্রিয়া শেষে সিআইডির হিসাব নম্বরে ৩৬ লক্ষ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লক্ষ ৬২ হাজার ৩০৩ টাকা জমা হয়। এ কাজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশ-মার্কিন পারস্পরিক কূটনৈতিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মামলা রুজুর ০৩ বছরেরও কম সময়ে বিদেশে পাচার হওয়া এ পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এখনো অনেক প্রতারক অসহায় মানুষের টাকা অত্যাসাদ করে গাডাকা দিয়ে আছে, সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমটিএফই পনজি স্কিমের মাধ্যমে প্রতারণা করে পাচার করা বাকি অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধার করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News VOB

জনপ্রিয় সংবাদ

বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দিন আজ

MTFE প্রতারণা: বিদেশে পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকার অধিক সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার করলো সিআইডি

আপডেট এর সময় : ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ   নিজস্ব প্রতিবেদক   জে রশিদ খান:   ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম MTFE (Metaverse Foreign Exchange)-এর বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিদেশে পাচারকৃত অর্থের একটি অংশ প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ৪৪ কোটি ১৪ লক্ষ ৬২ হাজার ৩০৩ টাকা) সমমূল্যের অর্থ উদ্ধার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বাংলাদেশ পুলিশ।

“MTFE Ponzi Scheme” এর প্রতারণার শিকার হয়ে জনৈক ভুক্তভোগী খিলগাঁও (ডিএমপি) থানার মামলা নং- ৭১, তারিখ- ২৮/০৮/২০২৩ খ্রি., ধারা- মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এর ২৪/২৬/৩৪/৩৭ তৎসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ২৩(২)/৩০(২)/৩১(২) রুজু করেন। মামলার এজাহারে বাদী MTFE (Metaverse Foreign Exchange) নামক একটি বিনিয়োগ অ্যাপে প্রলুদ্ধ হয়ে প্রায় ০২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারণার শিকার হয়েছেন মর্মে উল্লেখ করেন। তবে সিআইডির তদন্তে অসংখ্য বিনিয়োগকারী কোটি কোটি টাকা প্রতারণার শিকার হন মর্মে তথ্য পাওয়া যায়।

মামলাটির তদন্তে আরও জানা যায়, MTFE  একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, যা দ্রুততম সময়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতো। ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এটি। তখন ঘরে বসে সহজে অর্থ উপার্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফেসবুক ও ইউটিউবে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। ভিডিও ও বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই বিনিয়োগে আগ্রহী হন। ২০২৩ সালের শুরুতে প্ল্যাটফর্মটির বিস্তার দ্রুত বেড়ে যায়। ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট দেওয়া হতো, যেখানে জমা অর্থ ডিজিটাল ডলার হিসেবে প্রদর্শিত হতো। তবে এটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া বা অস্তিত্বহীন। লাভ-ক্ষতির তথ্য কৃত্রিমভাবে তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা হতো।

MTFE স্কিম প্রাথমিকভাবে কিছু অর্থ পরিশোধ করে ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে এমটিএফই হঠাৎ সামগ্রিক কার্যক্রম বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত ভার্চুয়াল মুদ্রা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ছিল। পক্ষান্তরে বিনিয়োগকারীদের অর্থ এমটিএফই এর মূল ওয়ালেটে জমা হয়ে সেখান থেকে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এভাবে বাংলাদেশের থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয় মর্মে তদন্তে উঠে আসে।

প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া অর্থের একটি অংশ প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন USDT (Tether) আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ OKX-এ সংরক্ষিত রয়েছে মর্মে সিআইডির তদন্তে উঠে আসে। পরবর্তীতে ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল Chainalysis Reactor ব্যবহার করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে উক্ত অর্থ এমটিএফই প্রতারণা চক্রের সাথে সংশ্লিষ্ট। এ বিষয়ে OKX এক্সচেঞ্জের লিগ্যাল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উক্ত অর্থ ফেরত প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের তৎপরতায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিজ্ঞ আদালতের শরনাপন্ন হলে বিজ্ঞ আদালত পাচারকৃত উক্ত অর্থ ফেরত আনতে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি, মালিবাগ শাখায় যৌথ ব্যাংক একাউন্ট খুলে উক্ত অর্থ গ্রহণ ও সংরক্ষণ করার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি-তে “CID, Bangladesh Police” নামীয় একটি সরকারি হিসাব খোলা হয়। একই সঙ্গে বিজ্ঞ আদালতের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক পাচারকৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর ও হস্তান্তরের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক Asset Reality Limited এর সাথে সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশের লিখিত চুক্তি সম্পাদিত হয়।

অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেড এর মাধ্যমে এভাবে প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করে উক্ত অর্থ সোনালী ব্যাংকের সরকারি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। সার্বিক প্রক্রিয়া শেষে সিআইডির হিসাব নম্বরে ৩৬ লক্ষ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লক্ষ ৬২ হাজার ৩০৩ টাকা জমা হয়। এ কাজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশ-মার্কিন পারস্পরিক কূটনৈতিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মামলা রুজুর ০৩ বছরেরও কম সময়ে বিদেশে পাচার হওয়া এ পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এখনো অনেক প্রতারক অসহায় মানুষের টাকা অত্যাসাদ করে গাডাকা দিয়ে আছে, সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমটিএফই পনজি স্কিমের মাধ্যমে প্রতারণা করে পাচার করা বাকি অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধার করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।