নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ নিজস্ব প্রতিবেদক বিনোদন : বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর দায়ের হওয়া হত্যা মামলাকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর ঢাকার রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে নাম থাকা ১১ আসামি হলেন—সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, তাঁর মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু এবং রিজভি আহমেদ ওরফে ফারহাদ।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সালমান শাহকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং পরস্পরের যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতের চূড়ান্ত বিচারে প্রমাণিত হয়নি।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় অস্বাভাবিকভাবে মারা যান সালমান শাহ। তাঁর মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়। প্রথম পর্যায়ে ঘটনাটি অপমৃত্যু মামলা হিসেবে তদন্ত করা হয়েছিল।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতের নির্দেশে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডিকে।
নতুন মামলায় ১১ জনের নাম আসার পর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা আবারও জাতীয় আলোচনায় উঠে আসে। বিশেষ করে তাঁর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি এবং ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের নাম এজাহারে থাকায় বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
এজাহারে চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ ডেভিড, জাভেদ ও ফারুকের নামও রয়েছে। এ ছাড়া রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রিজভি আহমেদ ওরফে ফারহাদকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্তে আসামিদের প্রত্যেকের ভূমিকা, ঘটনার সময় তাদের অবস্থান এবং সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে তাদের কথিত সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এদিকে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ একাধিকবার পিছিয়েছে। সর্বশেষ ২৩ জুলাই ২০২৬ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও তা জমা দেওয়া হয়নি। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আগামী ৩০ আগস্ট ২০২৬ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অষ্টমবারের মতো সময় বাড়ানো হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলে মামলায় এজাহারে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তকারীদের অবস্থান স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে কার বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং কার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি—সেসব বিষয়ও আদালতের সামনে আসতে পারে।
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে তাঁর পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে প্রশ্ন রয়েছে, নতুন মামলার তদন্ত সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আগ্রহের বিষয়।
তবে মামলার এজাহারে কারও নাম থাকা মানেই তিনি অপরাধী—এমনটি আইনগতভাবে বলা যায় না। তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
প্রায় ৩০ বছর ধরে রহস্য ও বিতর্কে ঘেরা সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় এখন তাই সবার নজর তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে। আগামী ৩০ আগস্ট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হলে মামলাটির পরবর্তী গতিপথ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারে চাঞ্চল্যকর তথ্য, উঠে এলো ১১ জনের নাম
প্রতিনিধির নাম : 















