গ্যাস ও তেলের খনির সম্ভাবনা, মজুত মিললে খনন হবে রিলিফ কূপ

জাতীয় ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী এলাকায় মাটির নিচ থেকে নির্গত গ্যাসের আগুনে নতুন খনিজসম্পদ পাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি একটি বাড়িতে নলকূপ স্থাপনের সময় গভীর পাইপ বসানোর পর সেখান থেকে প্রাকৃতিকভাবে গ্যাস বের হতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে আগুন ধরে যায়। টানা কয়েক দিন ধরে এই আগুন জ্বলতে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ভূতত্ত্ববিদদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে, এই গ্যাসের সঙ্গে মূল্যবান তেল বা কনডেনসেট থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড তথা বাপেক্স এবং পেট্রোবাংলার উচ্চপর্যায়ের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এটি একটি অগভীর গ্যাসের মজুত হতে পারে, যা সাধারণত ভূগর্ভের তুলনামূলক কম গভীরে পাওয়া যায়। গ্যাসের উৎস, ধরন এবং প্রকৃত মজুতের পরিমাণ সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আগামী পনেরো দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আগুনের তীব্রতা ও গ্যাসের নির্গমনের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষণের এই সময় শেষে যদি আগুনের তীব্রতা না কমে, তবে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিকল্প বা রিলিফ কূপ খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্যাসের নির্গমন বন্ধ করার চেষ্টা চালানো হবে। পাশাপাশি, এই উৎস থেকে উৎপাদনে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক জ্বালানি পাওয়া গেলে এটি দেশের এক নতুন খনিজ কূপ হিসেবে যুক্ত হতে পারে। পরবর্তীতে ওই এলাকায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ চালিয়ে আশপাশের ভূগর্ভস্থ স্তরের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হবে।

এদিকে গ্যাসের অব্যাহত আগুন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এলাকায় মাইকিং ও নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হলেও উৎসুক জনতার ভিড় পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে আগুন জ্বলতে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং যাতায়াতেও নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *