‘মোদিকে পালাতে দেওয়া হবে না’, বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ বিরোধীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে জোরালো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের আহ্বানে গত রবিবার সকাল থেকেই রামলীলা ময়দানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতে শুরু করে। নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুরের দিকে হুডখোলা গাড়িতে করে সমাবেশে এসে পৌঁছান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুক আবদুল্লাহসহ জোটের অন্যান্য বিশিষ্ট নেতারা। ক্ষমতাসীন সরকারের নানা নীতির প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন বিরোধী নেতারা এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন।

সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন রাহুল গান্ধী। তিনি দেশের যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ করে বলেন যে বর্তমান নির্বাচন কমিশনারকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে এবং তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। রাহুল গান্ধীর মতে, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সহায়তা ছাড়া নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ তাদের ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখতে পারতেন না। বিরোধী দলের এই শীর্ষ নেতা আরও দাবি করেন যে ক্ষমতাসীন প্রশাসনের সহযোগিতাতেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি আক্রমণ করে রাহুল গান্ধী বলেন যে তাদের ক্ষমতার দিন ফুরিয়ে আসছে এবং বর্তমান প্রশাসনের জমানার অবসান ঘটানো হবে। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে প্রধানমন্ত্রী যতই চেষ্টা করুন না কেন, তাকে পার পেতে দেওয়া হবে না এবং আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে সব অনিয়মের হিসাব নেওয়া হবে। দেশের সংবিধানকে কোনোভাবেই ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন কংগ্রেসের এই প্রভাবশালী নেতা। বিরোধী জোটের এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

সাম্প্রতিক এই রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে নিজেদের ঐক্য ও শক্তির প্রদর্শন করল। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মনে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, তা দূর করার দাবি জানান জোটের নেতারা। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বিরোধী শিবিরের এই কঠোর অবস্থানের ফলে দেশটির জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পক্ষ থেকেও এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *