ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হতে মহানবী (সা.) যে উপায় দেখিয়েছেন

ধর্ম ডেস্ক: ইসলাম ধর্মে ঋণ গ্রহণ অত্যন্ত অপছন্দনীয় একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ঋণ মানুষের জন্য একটি বড় দায়িত্ব ও বোঝা। কোনো ব্যক্তি আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার মতো মহান মর্যাদা লাভ করলেও তার ঋণ ক্ষমা করা হয় না। যতক্ষণ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির সমস্ত পাওনা পরিশোধ না করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তার আত্মিক মুক্তি লাভ হয় না।

ঋণের এই ভয়াবহ পরিণতির কথা মাথায় রেখে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে সর্বদা ঋণমুক্ত থাকার তাগিদ দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নিজে প্রায়ই আল্লাহর কাছে ঋণ ও গাবরীর বা অন্যের বোঝা থেকে মুক্তি চেয়ে বিশেষ দোয়া করতেন। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যেন মানসিক চাপ এবং দুনিয়া ও আখেরাতের আজাব থেকে রক্ষা পেতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বারবার সতর্ক করেছেন।

অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো অবস্থাতেই ঋণ না নেওয়ার শিক্ষা দেয় ইসলাম। মানুষ যদি নিতান্ত বাধ্য হয়ে ঋণ গ্রহণ করে, তবে তা সময়মতো পরিশোধ করার দৃঢ় নিয়ত থাকতে হবে। নিয়ত যদি সৎ থাকে, তবে পাওনাদারের হক আদায়ের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ বান্দাকে সাহায্য করেন এবং বিভিন্ন উপায় সহজ করে দেন বলে ইসলামিক নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।

ঋণ পরিশোধের মানসিকতা তৈরির পাশাপাশি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু বিশেষ দোয়া ও আমল শিখিয়েছেন, যা নিয়মিত পাঠ করলে ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়। বিশেষ করে একটি বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যায় যেন তিনি হালাল রিজিকের মাধ্যমে সমস্ত দেনা পরিশোধ করার ব্যবস্থা করে দেন এবং হারাম বা ঋণগ্রস্ততার লাঞ্ছনা থেকে হেফাজত করেন।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *