নার্স ও সাংবাদিক থেকে প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বুলগেরিয়ায় সার্বজনীন ভোটাধিকার অর্জনের দীর্ঘ আট দশকেরও বেশি সময় পর দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইলিয়ানা ইয়োতোভা। এর আগে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভের অধীনে দীর্ঘদিন ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সংসদে যোগ দেওয়ার জন্য রাদেভ পদত্যাগ করলে তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে নির্বাচনে জয়লাভ করে আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষ পদে আসীন হন।

রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হওয়ার আগে আশির দশকে রাজধানী সোফিয়ার একটি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ইলিয়ানা। পরবর্তীতে তিনি সাংবাদিকতার পেশায় যুক্ত হন এবং বুলগেরিয়ান ন্যাশনাল টেলিভিশনে রিপোর্টার ও প্রযোজক হিসেবে সুনামের সঙ্গে কাজ করেন। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে একটি রাজনৈতিক দলের প্রেস সেন্টারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে তিনি সরাসরি রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রবেশ করেন।

সাংবাদিকতা ও নার্সিংয়ের পাট চুকিয়ে ইলিয়ানা সংসদ সদস্য এবং টানা এক দশক ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সাল থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত তিনি সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান রুমেন রাদেভের রানিং মেট হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন। বর্ণাঢ্য এই রাজনৈতিক পথ পরিক্রমা পেরিয়ে তিনি আজ বুলগেরিয়ার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।

রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার পর থেকেই ইলিয়ানা ইয়োতোভা তার স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান এবং দৃঢ় সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি ইউক্রেনে যেকোনো ধরনের সামরিক সহায়তার তীব্র বিরোধিতা করে রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া প্রবাসীদের ভোটাধিকার সীমিত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি সম্প্রতি একটি নির্বাচনী আইন সংশোধনী বাতিলের উদ্দেশ্যে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *