নিজের উপার্জনে নিজের জায়গা

জাতীয় ডেস্ক: পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় জীবনসংগ্রামে লিপ্ত মানুষের আত্মত্যাগের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ননতা নামের এক নারী। নিজের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তিনি স্বপ্ন দেখেন তাঁর সন্তানরা একদিন আলো ছড়াবে শিক্ষার আলোয়। জীবনযাত্রার নানামুখী সংকট ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও তিনি সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি।

পরিবারের দৈনন্দিন খরচ ও সন্তানদের পড়ালেখার জোগান দিতে তাঁকে চরম পরিশ্রম করতে হয়। পাহাড়ি অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জুমচাষের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত কাজ করেন। দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যা সামান্য আয় হয়, তার পুরোটাই তিনি ব্যয় করেন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের পেছনে।

নিজের শিক্ষাবঞ্চিত হওয়ার কষ্ট থেকেই মূলত সন্তানদের মানুষ করার এই তীব্র জেদ তৈরি হয়েছে তাঁর মনে। ননতা মনে করেন, প্রথাগত শিক্ষার আলো ছাড়া আগামী প্রজন্ম অন্ধকার থেকে মুক্ত হতে পারবে না। তাই শত অভাবের মধ্যেও তিনি তাঁর এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অবিচলভাবে।

স্থানীয় সমাজে ননতার এই সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। নিজের উপার্জনে জমি কিনে সেখানে স্থায়ী ঠিকানা গড়ার পাশাপাশি সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করার এই প্রচেষ্টা গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *