ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী Logo টানা ভারি বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী Logo সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo আলী খামেনির জানাজায় কেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ছিলেন না Logo আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় তিন ছেলে, আসতে পারলেন না মোজতবা খামেনি Logo ৩৪ সচিবের পদোন্নতিতে জনপ্রশাসন সচিবকে কৃতজ্ঞতা জানালো সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস এসোসিয়েশন Logo ইকরার আত্মহত্যা: রিমান্ডে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ জানিয়েছেন আলভী Logo উত্তাপ ছড়াচ্ছেন নুসরাত ফারিয়া Logo প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন কাল Logo দ্বিতীয়বার মাস সেরা মুশফিক

নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে, নৌকার জয় হবে

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ১১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৮
  • ১৪০ বার পঠিত হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশবাসীর কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে, নির্বাচনে নৌকার জয় হবে। আমরা আবারও সরকার গঠন করে আপনাদের সেবা করবো।

তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে এবং আওয়ামী লীগের সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে আরও বলেছেন, ধানের শীষ মানেই দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, অর্থপাচার, এতিমের টাকা আত্মসাৎ। আর নৌকা মানেই স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি, জনগণের ভাগ্যবদল ও কল্যাণ, যার শুভফল মানুষ ভোগ করছে।

শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের ইয়ুথ ক্লাব মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংস কায়দায় হত্যার মাধ্যমে জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার চক্রান্তের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর ৬ বছর আমাকে জিয়াউর রহমান দেশে ফিরতে দেয়নি। পরে আওয়ামী লীগ আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে। দেশে ফিরে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু করি। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নিলেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকারে এসে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়। পিছিয়ে দেওয়া হয় দেশকে।

তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করে দেশের উন্নয়নে মনোযোগ দেয় বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ-দুর্ভিক্ষের দেশ নয়, উন্নয়নের রোল মডেল। আজকে কারও কাছে আমাদের হাত পেতে চলতে হয় না। বাজেট বাড়িয়েছি ৭ দশমিক ৬ ভাগ। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়ে এসে দেখি এই ঢাকা শহরেই পানির অভাব, বিদ্যুৎ নাই, লোডশেডিং, রাস্তাঘাট নাই। ছিনতাই-জঙ্গিবাদতো ছিলই। সব কিছু কাটিয়ে উঠেছি আমরা। ২০০৮ সালে যেখানে আমাদের বিদ্যুৎ ছিল ৩২০০ মেগাওয়াট, এখন আমরা ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছি।

দেশে এখন কোনো লোডশেডিং নেই উল্লেখ করে জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, নিজেদের ভাগ্যবদল নয়, জনগণের ভাগ্যোন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য। আগে চিকিৎসার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ওই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হতো। আজকে প্রত্যেকটি এলাকায় হাসপাতাল করে দিয়েছি।

আওয়ামী লীগ কেবল বিত্তশালীদের দিকে তাকায় না, নিম্নবিত্তের লোকজনের জীবনমান উন্নয়নের জন্যও কাজ করে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষ যেন ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা করবো। যেন কেউ দৈনিক হারে, সাপ্তাহিক হারে বা মাসিক হারে ভাড়া দিতে পারে। স্বল্প-নিম্ন আয়ের সব মানুষ যেন সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারে সেজন্য আমরা কাজ করছি।

ডিজিটালাইজেশনে সরকারের নানা কর্মকাণ্ড তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে এই ডিজিটাল বাংলাদেশ। প্রত্যেকের হাতে হাতে এখন মোবাইল ফোন। বিএনপির একজন মন্ত্রী ছিলেন, মোবাইল ব্যবসা করতেন। তখন একটা মোবাইল ফোন কিনতে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লাগতো। কল করলেও ১০ টাকা, ধরলেও ১০ টাকা। এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন, আমরা এই সুযোগ করে দিয়েছি।

শিক্ষার হার বাড়াতে স্কুল-কলেজ করে দিয়ে সেসব প্রতিষ্ঠানের মানও উন্নত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার করে দিয়েছি। ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ হচ্ছে। পাতাল ট্রেনের ব্যবস্থা করবো। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করবো। রাজধানীর আশপাশে অনেক ইউনিয়ন ছিল, সেগুলোকে সিটি করপোরেশনের আওতায় এনে দিয়েছি, যেন মানুষ নাগরিক সুবিধা পায়। আমাদের লক্ষ্যই এ দেশের মানুষের উন্নয়ন করা।

এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের স্থান বাংলাদেশে নেই। এই গুলশানেই হলি আর্টিজানে হামলা হয়েছিল। অনেকে ভেবেছিল এই অবস্থা থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা দ্রুত সেই অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছি। কঠোর হাতে জঙ্গিবাদ দমন করেছি। মাদক নির্মূলে অভিযান শুরু করেছি।

শেখ হাসিনা দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন, নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। জীবনমান উন্নত হয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ পেয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, বেতন-ভাতা বেড়েছে সবার। আয়-রোজগারও বেড়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জনসেবা করার সুযোগ দেওয়ায় ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করি না। এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন (বিএনপি প্রধান) খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিল তারই পছন্দের ইয়াজউদ্দিন আহমেদ-ফখরুদ্দিন আহমেদ-মইন ইউ আহমেদের সরকার। সেই মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে। এতিমের টাকা চুরি করলেতো শাস্তি  ভোগ করতেই হবে, এটা কোরআনেরও বিধান।

খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো (প্রয়াত) অর্থপাচার করে ধরা পড়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, তার এক ছেলের অর্থ আমরা দেশে ফেরত এনেছি। যত অপকর্ম করা যায়, তা-ই তারা করেছে। আসলে ধানের শীষ মানেই দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, অর্থপাচার, এতিমের টাকা আত্মসাৎ। আর নৌকা মানেই স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি, জনগণের ভাগ্যবদল ও কল্যাণ, যার শুভফল মানুষ ভোগ করছে।

এসময় ঢাকার বিভিন্ন আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আসন্ন নির্বাচনে তাদের জন্য ভোট চান। উপস্থিত জনতাও হাত তুলে নৌকায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী

নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে, নৌকার জয় হবে

আপডেট এর সময় : ১১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৮

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশবাসীর কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে, নির্বাচনে নৌকার জয় হবে। আমরা আবারও সরকার গঠন করে আপনাদের সেবা করবো।

তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে এবং আওয়ামী লীগের সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে আরও বলেছেন, ধানের শীষ মানেই দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, অর্থপাচার, এতিমের টাকা আত্মসাৎ। আর নৌকা মানেই স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি, জনগণের ভাগ্যবদল ও কল্যাণ, যার শুভফল মানুষ ভোগ করছে।

শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের ইয়ুথ ক্লাব মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংস কায়দায় হত্যার মাধ্যমে জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার চক্রান্তের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর ৬ বছর আমাকে জিয়াউর রহমান দেশে ফিরতে দেয়নি। পরে আওয়ামী লীগ আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে। দেশে ফিরে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু করি। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নিলেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকারে এসে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়। পিছিয়ে দেওয়া হয় দেশকে।

তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করে দেশের উন্নয়নে মনোযোগ দেয় বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ-দুর্ভিক্ষের দেশ নয়, উন্নয়নের রোল মডেল। আজকে কারও কাছে আমাদের হাত পেতে চলতে হয় না। বাজেট বাড়িয়েছি ৭ দশমিক ৬ ভাগ। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়ে এসে দেখি এই ঢাকা শহরেই পানির অভাব, বিদ্যুৎ নাই, লোডশেডিং, রাস্তাঘাট নাই। ছিনতাই-জঙ্গিবাদতো ছিলই। সব কিছু কাটিয়ে উঠেছি আমরা। ২০০৮ সালে যেখানে আমাদের বিদ্যুৎ ছিল ৩২০০ মেগাওয়াট, এখন আমরা ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছি।

দেশে এখন কোনো লোডশেডিং নেই উল্লেখ করে জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, নিজেদের ভাগ্যবদল নয়, জনগণের ভাগ্যোন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য। আগে চিকিৎসার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ওই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হতো। আজকে প্রত্যেকটি এলাকায় হাসপাতাল করে দিয়েছি।

আওয়ামী লীগ কেবল বিত্তশালীদের দিকে তাকায় না, নিম্নবিত্তের লোকজনের জীবনমান উন্নয়নের জন্যও কাজ করে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষ যেন ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা করবো। যেন কেউ দৈনিক হারে, সাপ্তাহিক হারে বা মাসিক হারে ভাড়া দিতে পারে। স্বল্প-নিম্ন আয়ের সব মানুষ যেন সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারে সেজন্য আমরা কাজ করছি।

ডিজিটালাইজেশনে সরকারের নানা কর্মকাণ্ড তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে এই ডিজিটাল বাংলাদেশ। প্রত্যেকের হাতে হাতে এখন মোবাইল ফোন। বিএনপির একজন মন্ত্রী ছিলেন, মোবাইল ব্যবসা করতেন। তখন একটা মোবাইল ফোন কিনতে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লাগতো। কল করলেও ১০ টাকা, ধরলেও ১০ টাকা। এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন, আমরা এই সুযোগ করে দিয়েছি।

শিক্ষার হার বাড়াতে স্কুল-কলেজ করে দিয়ে সেসব প্রতিষ্ঠানের মানও উন্নত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার করে দিয়েছি। ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ হচ্ছে। পাতাল ট্রেনের ব্যবস্থা করবো। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করবো। রাজধানীর আশপাশে অনেক ইউনিয়ন ছিল, সেগুলোকে সিটি করপোরেশনের আওতায় এনে দিয়েছি, যেন মানুষ নাগরিক সুবিধা পায়। আমাদের লক্ষ্যই এ দেশের মানুষের উন্নয়ন করা।

এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের স্থান বাংলাদেশে নেই। এই গুলশানেই হলি আর্টিজানে হামলা হয়েছিল। অনেকে ভেবেছিল এই অবস্থা থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা দ্রুত সেই অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছি। কঠোর হাতে জঙ্গিবাদ দমন করেছি। মাদক নির্মূলে অভিযান শুরু করেছি।

শেখ হাসিনা দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন, নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। জীবনমান উন্নত হয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ পেয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, বেতন-ভাতা বেড়েছে সবার। আয়-রোজগারও বেড়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জনসেবা করার সুযোগ দেওয়ায় ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করি না। এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন (বিএনপি প্রধান) খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিল তারই পছন্দের ইয়াজউদ্দিন আহমেদ-ফখরুদ্দিন আহমেদ-মইন ইউ আহমেদের সরকার। সেই মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে। এতিমের টাকা চুরি করলেতো শাস্তি  ভোগ করতেই হবে, এটা কোরআনেরও বিধান।

খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো (প্রয়াত) অর্থপাচার করে ধরা পড়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, তার এক ছেলের অর্থ আমরা দেশে ফেরত এনেছি। যত অপকর্ম করা যায়, তা-ই তারা করেছে। আসলে ধানের শীষ মানেই দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, অর্থপাচার, এতিমের টাকা আত্মসাৎ। আর নৌকা মানেই স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি, জনগণের ভাগ্যবদল ও কল্যাণ, যার শুভফল মানুষ ভোগ করছে।

এসময় ঢাকার বিভিন্ন আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আসন্ন নির্বাচনে তাদের জন্য ভোট চান। উপস্থিত জনতাও হাত তুলে নৌকায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।