ঢাকা , সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার Logo তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৩ জন গ্রেফতার Logo সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পৃথক অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার Logo ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৭ জন গ্রেফতার, মামলা ৪১ Logo ডিবির পৃথক অভিযানে অস্ত্র, এস্কাফ সিরাপ ও ইয়াবাসহ ৭ মাদক-অস্ত্র কারবারিকে গ্রেফতার Logo ফটিকছড়িতে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী Logo আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী Logo টানা ভারি বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী Logo সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo আলী খামেনির জানাজায় কেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ছিলেন না

‘মাসিক কুঁড়েঘরে’ এবার তরুণীর মৃত্যু

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ১১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
  • ১১২ বার পঠিত হয়েছে

নেপালের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে ঋতুমতী নারীদের মূল বাড়ির বাইরে বানানো হয় এসব কুঁড়েঘর। যেগুলোর ছোট্ট একটি দরজা ছাড়া কোনো জানালা থাকে না। ফাইল ছবি: রয়টার্স

নেপালের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে ঋতুমতী নারীদের মূল বাড়ির বাইরে বানানো হয় এসব কুঁড়েঘর। যেগুলোর ছোট্ট একটি দরজা ছাড়া কোনো জানালা থাকে না। ফাইল ছবি: রয়টার্সনেপালে ঋতুমতী নারীদের জন্য তৈরি জানালাবিহীন ‘মাসিক কুঁড়েঘরে’ দমবন্ধ হয়ে মারা গেছেন ২১ বছরের এক তরুণী। তাঁর নাম পার্বতী বোগাতি। নেপালের দোতি জেলায় এ ঘটনা ঘটে।

পার্বতীর শাশুড়ি লক্ষ্মী বোগাতি বউকে দেখতে গিয়ে তাঁর লাশ পান। লক্ষ্মী কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, ‘এক দিন পরই তাঁর ঋতুস্রাব শেষ হবে, এ নিয়ে সে খুব খুশি ছিল। কিন্তু অভাগী চিরতরেই চোখ বুজল।’

নেপালে প্রাচীন ‘চৌপাদি’ প্রথা অনুযায়ী মাসিকের সময় বা সন্তান জন্মদানের পরপর নারীদের ‘অশুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সময় নারীরা দুর্ভাগ্য বয়ে আনতে পারেন বলে মনে করা হয়। তাই মাসিকের সময় নারীদের কুঁড়েঘরে বা গোয়ালঘরে থাকতে বাধ্য করা হয়।

ঋতুস্রাবের সময় মেয়েদের কিছু কিছু খাবারও খেতে দেওয়া হয় না। অনেক কিছু স্পর্শ করতে দেওয়া হয় না। তখন অন্যরা দূর থেকে তাদের পাতে খাবার ঢেলে দেয়। ফাইল ছবি: এএফপি

ঋতুস্রাবের সময় মেয়েদের কিছু কিছু খাবারও খেতে দেওয়া হয় না। অনেক কিছু স্পর্শ করতে দেওয়া হয় না। তখন অন্যরা দূর থেকে তাদের পাতে খাবার ঢেলে দেয়। ফাইল ছবি: এএফপিওই সময়ে নারীদের পুরুষ ও গরু-ছাগল স্পর্শ করাও নিষিদ্ধ। কিছু খাবার ও দেবতার মূর্তি স্পর্শ করতে দেওয়া হয় না। বাড়ির শৌচাগার ব্যবহার ও কোনো কিছু ধোয়ার সুবিধা দেওয়া হয় না। গ্রামে দূরত্ব রেখে হাঁটাচলা করতে বলা হয়। কিশোরীরা স্কুলে যেতে পারে না। প্রচণ্ড শীতেও মেয়েদের বাড়ির বাইরে রাখা হয়। অনেক সময় ওই মেয়েদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও ঘটে।

মাসিকের সময় বা প্রসূতি মাকে বাড়ির বাইরে পাঠানোর ওপর ২০০৫ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নেপাল সরকার। ২০১৭ সালে এটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এখনো এই কুসংস্কার চালু রয়েছে।

নেপালের আইন অনুসারে, কোনো নারীকে চৌপাদিতে বাধ্য করা হলে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ৩০ ডলার অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। অধিকারকর্মীরা আইনটির কঠোর প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার

‘মাসিক কুঁড়েঘরে’ এবার তরুণীর মৃত্যু

আপডেট এর সময় : ১১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

নেপালের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে ঋতুমতী নারীদের মূল বাড়ির বাইরে বানানো হয় এসব কুঁড়েঘর। যেগুলোর ছোট্ট একটি দরজা ছাড়া কোনো জানালা থাকে না। ফাইল ছবি: রয়টার্স

নেপালের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে ঋতুমতী নারীদের মূল বাড়ির বাইরে বানানো হয় এসব কুঁড়েঘর। যেগুলোর ছোট্ট একটি দরজা ছাড়া কোনো জানালা থাকে না। ফাইল ছবি: রয়টার্সনেপালে ঋতুমতী নারীদের জন্য তৈরি জানালাবিহীন ‘মাসিক কুঁড়েঘরে’ দমবন্ধ হয়ে মারা গেছেন ২১ বছরের এক তরুণী। তাঁর নাম পার্বতী বোগাতি। নেপালের দোতি জেলায় এ ঘটনা ঘটে।

পার্বতীর শাশুড়ি লক্ষ্মী বোগাতি বউকে দেখতে গিয়ে তাঁর লাশ পান। লক্ষ্মী কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, ‘এক দিন পরই তাঁর ঋতুস্রাব শেষ হবে, এ নিয়ে সে খুব খুশি ছিল। কিন্তু অভাগী চিরতরেই চোখ বুজল।’

নেপালে প্রাচীন ‘চৌপাদি’ প্রথা অনুযায়ী মাসিকের সময় বা সন্তান জন্মদানের পরপর নারীদের ‘অশুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সময় নারীরা দুর্ভাগ্য বয়ে আনতে পারেন বলে মনে করা হয়। তাই মাসিকের সময় নারীদের কুঁড়েঘরে বা গোয়ালঘরে থাকতে বাধ্য করা হয়।

ঋতুস্রাবের সময় মেয়েদের কিছু কিছু খাবারও খেতে দেওয়া হয় না। অনেক কিছু স্পর্শ করতে দেওয়া হয় না। তখন অন্যরা দূর থেকে তাদের পাতে খাবার ঢেলে দেয়। ফাইল ছবি: এএফপি

ঋতুস্রাবের সময় মেয়েদের কিছু কিছু খাবারও খেতে দেওয়া হয় না। অনেক কিছু স্পর্শ করতে দেওয়া হয় না। তখন অন্যরা দূর থেকে তাদের পাতে খাবার ঢেলে দেয়। ফাইল ছবি: এএফপিওই সময়ে নারীদের পুরুষ ও গরু-ছাগল স্পর্শ করাও নিষিদ্ধ। কিছু খাবার ও দেবতার মূর্তি স্পর্শ করতে দেওয়া হয় না। বাড়ির শৌচাগার ব্যবহার ও কোনো কিছু ধোয়ার সুবিধা দেওয়া হয় না। গ্রামে দূরত্ব রেখে হাঁটাচলা করতে বলা হয়। কিশোরীরা স্কুলে যেতে পারে না। প্রচণ্ড শীতেও মেয়েদের বাড়ির বাইরে রাখা হয়। অনেক সময় ওই মেয়েদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও ঘটে।

মাসিকের সময় বা প্রসূতি মাকে বাড়ির বাইরে পাঠানোর ওপর ২০০৫ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নেপাল সরকার। ২০১৭ সালে এটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এখনো এই কুসংস্কার চালু রয়েছে।

নেপালের আইন অনুসারে, কোনো নারীকে চৌপাদিতে বাধ্য করা হলে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ৩০ ডলার অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। অধিকারকর্মীরা আইনটির কঠোর প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।