নিজস্ব প্রতিবেদক : অদ্য ১৬/০৩/২০২২ইং তারিখে ডিবি মিডিয়া প্রেস ব্রিফিং এ জানান হয় সেভেন সার্কেল বাংলাদেশ লিমিটেড, গুলশান-২, ঢাকায় কর্মরত এমআইএস ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ম্যানেজার আফরোজা সুলতানা গত ১৩/০৩/২০২২ খ্রিঃ তারিখ বিকাল অনুমান ০৫.৪৫ ঘটিকা হইতে সন্ধা ০৭.২৬ ঘটিকার মধ্যে তার বাসা নং জ-৪২/১, ২য় তলা, রোড-১০, গুদারাঘাট, মধ্য বাড্ডা এলাকার ভাড়া বাসায় অজ্ঞাতনামা আসামীরা গলা কেটে হত্যা করে মর্মে সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে সিআইডি, পিবিআই, থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা একত্রিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
উক্ত হত্যাকান্ড সংক্রান্তে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা (গুলশান) বিভাগের এর গুলশান জোনাল টিমও ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালীন তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। সেই তথ্য উপাত্য বিশ্লেষন করে সে তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকারীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং গত ইং ১৫/০৩/২০২২খ্রিঃ ১৬.১০ ঘটিকায় গুলশান জোনাল টিম কর্তৃক রাজধানীর মধ্যবাড্ডা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসামী ভিকটিমের গাড়ীচালক মোঃ হৃদয় বেপারী(৩৪), পিতা-মৃত সৈয়দ বেপারী, মাতা-সুফিয়া খাতুন, সাং-ডিপুর, থানা-গোসাইরহাট, জেলা-শরিয়তপুর বর্তমানে বাসা-৮০৩, পোষ্ট অফিস গলি, মধ্যবাড্ডা, থানা-বাড্ডা, ঢাকাকে গ্রেফতার করা হয়। অতঃপর গ্রেফতারকৃত উক্ত আসামীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়। উক্ত আসামী ঘটনাস্থলে গিয়ে কিভাবে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে এবং হত্যাকান্ডের পর স্বর্ণালংকার চুরি করেছে তা দেখিয়ে দেয়।
উক্ত সময়ে তার দেখানো মতে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের পার্শ্ববর্তী খালি জায়গা হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়। অতঃপর তার বাসার পাশের বালুর নিচ হতে তার দেখানো মতে চোরাইকৃত স্বর্ণালংকার সহ সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ড্রাইভার মোঃ হৃদয় বেপারী(৩৪) ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিল। বর্তমানে ৩ ছেলের পিতা, যাদের বয়স ১ জনের বয়স ১২ বৎসর এবং অপর ২ জন যমজ, বয়স ১৬ মাস। সে ২০০৫ সালে ড্রাইভিং শিখে বিভিন্ন জায়গায় ড্রাইভার হিসেবে কাজ করে। সর্বশেষ ২০১৫ হতে সেভেন সার্কেল বাংলাদেশ লিমিটেড, গুলশান-২, ঢাকায় ভিকটিম আফরোজা সুলতানা ড্রাইভার হিসেবে কাজ করে। সে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে।
ইতোমধ্যে তার তিনমাসের বাসা ভাড়া বাকি পড়ে যায়। উক্তরুপ কারণে অভাবে পড়ায় সে চিন্তা করে বেশ কিছু টাকা হলে সে দুরে কোথাও গিয়ে অন্য ব্যবসা করে সংসার চালাবে। সে ধারনা করে তার ম্যাডামের নিকট অনেক টাকা ও স্বর্ণালংকার আছে। কারণ সে প্রায়ই দেখত আসামী হৃদয় ব্যাপারীর গাড়ী করে ভিকটিম আফরোজা সুলতানা বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা জমা দিত। এতে তার ধারনা হয় সে তাকে হত্যা করে ভিকটিমের বাসা থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিতে পারবে। মুলত অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্যেই আসামী হৃদয় ব্যাপারী উক্ত হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে।
উক্ত অভিযানটি গোয়েন্দা (গুলশান) বিভাগ এর উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মশিউর রহমান বিপিএম, পিপিএম-সেবা এর নির্দেশনায় এডিসি জনাব মোঃ কামরুজ্জামান সরদার এর তত্ত্বাবধানে, এডিসি (টিম লিডার) মোঃ মাহবুবুল হক সজীব এর নেতৃত্বে গুলশান জোনাল টিম কর্তৃক পরিচালিত হয়।
নিউজ ভয়েস অফ বাংলাশে- জে/ রশীদ