Newsvob.com. বিশেষ প্রতিবেদক: সম্প্রতি শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার ধনাকুশা নদীর পাড়ে কাচারাস্তার উপর থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ। পরবর্তিতে নিহতের পিতা বাদি হয়ে স্থানীয় থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করে। আর ওই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা যায় সিআইডির হাতে। অবশেষে সিআইডি ক্লুলেস মামলার রহস্যের উন্মোচন উদঘাটন করতে সক্ষম হয় এবং অত্যন্ত দক্ষতা ও দুরদর্শিতার সাথে খুনের সংগে জড়িত ৩ আসামিকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করে।
সিআইডি সুত্রে জানা যায় , গত ১২/১২/২০২১ইং রবিবার শেরপুরের নকলা উপজেলার ধনাকুশা নদীরপাড়ের কাচাঁরাস্তার উপর থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে জানা যায় যে, ভিকটিমের নাম মুনছুর আলী ফকির(৩৬), পিতা- মোঃ হানিফউদ্দিন, সাং- কাচিহারা, থানা- ইসলামপুর, জেলা- জামালপুর। ভিকটিম মুনছুর বিভিন্ন যানবাহনে হেলপারের কাজ করতো। উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনায় মৃতের পিতা- হানিফ উদ্দিন (৬১) কর্তৃক অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে শেরপুর জেলার নকলা থানার মামলা নং- ১৪, তারিখঃ ১৩/১২/২০২১ খ্রিঃ, ধারাঃ ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড- ১৮৬০ রুজু হয়। উক্ত ঘটনাটি দেশজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে সিআইডি ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর পিপিএম এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় উক্ত হত্যার ঘটনাটি কেন এবং কিভাবে সংগঠিত হয়েছে, ঘটনায় কে বা কারা জড়িত, কারো সাথে পারিবারিক/ব্যবসায়িক পূর্ব কোন বিরোধ ছিল কিনা ইত্যাদি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ভিকটিমের পরিবার, ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকার বিভিন্ন উৎস হতে সরেজমিনে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত বিচার বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে ১। মোঃ মুনছুর আলী (৪০), পিতা- কালাচান মিয়া, সাং- অনারামপুর, থানা+জেলাঃ জামালপুর, ২। মোঃ আশিক মিয়া(২৫), পিতা- সাইদুল ইসলাম, সাং- অবদা, থানা- শ্রীপুর জেলা- গাজীপুর, ৩। মোঃ আমির হোসেন (৩৫), পিতা- মোঃ ওমর আলী, সাং- ধনাকুশা, থানা- নকলা, জেলা- শেরপুর উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। পরবর্তীতে এলআইসির একাধিক চৌকস টীম উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের জন্য সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় আসামী ১। মোঃ মুনছুর আলী (৪০), পিতা- কালাচান মিয়া, সাং- অনারামপুর, থানা+জেলাঃ জামালপুর, ২। মোঃ আশিক মিয়া(২৫), পিতা- সাইদুল ইসলাম, সাং- অবদা, থানা- শ্রীপুর জেলা- গাজীপুর, ৩। মোঃ আমির হোসেন (৩৫), পিতা- মোঃ ওমর আলী, সাং- ধনাকুশা, থানা- নকলা, জেলা- শেরপুরকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্দিরগঞ্জ এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা জানায় যে, নিহত মুনছুর গ্রেফতারকৃতদের নিকট পাওনা টাকা আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে আসামীদের সাথে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে ডেকে নিয়ে গলা কেটে নির্মম ভাবে হত্যা করে।
এরূপ মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার অজ্ঞাতনামা আসামীকে চিহ্নিতপূর্বক গ্রেফতার সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য।