দেশেই ভ্যানিলার চাষ শুরু, বিশ্ববাজারে এক কেজির দাম ৩০ হাজার টাকা

অর্থনীতি ডেস্ক: আইসক্রিম, কেক কিংবা পারফিউমে পরিচিত সুবাস ছড়ানো ভ্যানিলা এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম একটি পরিচিত উপাদান। সুগন্ধি ও মসলাপণ্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা থাকলেও, এর সিংহভাগই আসলে পরীক্ষাগারে তৈরি কৃত্রিম ভ্যানিলিন। তবে বিশ্ববাজারে প্রতি কেজি প্রাকৃতিক ভ্যানিলার দাম আকাশছোঁয়া থাকায় এখন দেশের মাটিতেই এর বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে এক কেজি ভ্যানিলা প্রায় ২৫০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হচ্ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ হাজার টাকার সমান।

বাংলাদেশে প্রথম ভ্যানিলা চাষের সফল পরীক্ষা শুরু হয় বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্রে। ইন্দোনেশিয়া থেকে সংগৃহীত একটি চারা দিয়ে শুরু হওয়া সেই পরীক্ষামূলক চাষের সাফল্য দেখে পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসেন। বর্তমানে ঝিনাইদহ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, রংপুর, দিনাজপুর, সিলেট এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বেশ কিছু এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে ভ্যানিলা চাষের চেষ্টা চলছে। এছাড়া ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও এই অর্কিড–জাতীয় লতানো গাছটি নিয়ে নিবিড় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভ্যানিলা চাষ বেশ শ্রমসাধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া হওয়ায় এটি সাধারণ মাটিতে জন্মায় না। এর জন্য অর্গানিক উপাদান ও ছায়াযুক্ত বিশেষ পরিবেশের পাশাপাশি কৃত্রিম শেডের প্রয়োজন হয়। চারা রোপণের দুই থেকে তিন বছর পর গাছে ফুল আসে এবং অত্যন্ত সীমিত সময়ের মধ্যে নিখুঁত পরাগায়ন নিশ্চিত করতে হয়। পরাগায়নের পর ফল পরিপক্ব হতে প্রায় আট মাস সময় লাগে এবং পরবর্তীতে তা সুগন্ধি মসলায় রূপান্তর করতে দীর্ঘ সময় ধরে তাপদ ও গাঁজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের আবহাওয়া ভ্যানিলা চাষের জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী হলেও বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে বড় অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবে স্থানীয় উদ্যোক্তারা মনে করেন, কৃষকদের যথাযথ সহায়তা ও কাটিং সরবরাহ করা গেলে আগামীতে বাংলাদেশ থেকেও বিপুল পরিমাণ ভ্যানিলা বিন রপ্তানি করা সম্ভব হবে। বৈশ্বিক বাজারে ভ্যানিলার বিশাল চাহিদা রয়েছে এবং এর বাজারমূল্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যা পেলে এই লাভজনক মসলাপণ্য দেশের কৃষির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *