ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo দিনভর প্রশাসনের তৎপরতা, জলাবদ্ধতায় থামেনি নগরবাসীর দুর্ভোগ Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন কতজন Logo জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান Logo ওসির পর এবার সরানো হলো গুলশানের ডিসিকে: গুলশান মিছিলের পর প্রশাসনে নড়াচড়া Logo ৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার করেছে পল্লবী থানা পুলিশ Logo রাজধানীতে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন হত্যা: ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার, মোটরসাইকেল ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার Logo আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের ফাঁসির আদেশ Logo মানবতাবিরোধী মামলায় সাদ্দাম-ইনানের মৃত্যুদণ্ড Logo গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার, কিশোর গ্রেফতার Logo যাত্রাবাড়ীতে সিটিটিসির অভিযানে ছিনতাইকারী চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

বিএনপির ‘দুর্বলতা’য় হতবাক কাদের

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জানুয়ারী ২০১৯
  • ১৩৯ বার পঠিত হয়েছে

রবিবারের ভোটকে বিএনপি কারচুপি বললেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন জনজোয়ার। বলেছেন, ১৯৫৪ এবং ১৯৭০ সালে যেমন জোয়ার ছিল আওয়ামী লীগের, এবারও ছিল তাই।
মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে কাদের লড়াই করেন নোয়াখালী-৫ আসন থেকে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও পরে বিএনপির আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ। তিনি জামানত হারান কাদেরের কাছে।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৯৭৩ সালের চেয়েও বেশি হারে ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষে ভোট পড়েছে অবিশ্বাস্য রকম কম। আওয়ামী লীগ যেখানে ৭৭ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে, সেখানে বিএনপির পক্ষে পড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশের মতো।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি অবাক হয়েছি, এত বড় দল বিএনপি যার কোন সাংগঠনিক অবকাঠামোই নেই। তারা যে আন্দোলন করতে পারেনি, সাংগঠনিক কাঠামোতে দুর্বলতা, এটাই ছিল বড় কারণ। এবারকার নির্বাচনে দেখা গেছে, তারা তাদের সেই সাংগঠনিক শক্তিটা প্রদর্শন করতে পারেনি।’

‘তাদের (বিএনপি) অবস্থা এতই দুর্বল, নড়বড়ে সংগঠন, যে তারা বিভিন্ন কেন্দ্রে, তাদের মধ্যে যাদেরকে হেভিওয়েট বলা হয় তারাও নিজেদের কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারেনি।’

‘আপনি এজেন্ট  দিবেন না, তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কী প্রয়োজন ছিল? আপনি ব্যানার পোস্টার করবেন না কেন? যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তাহলে প্রচারে পিছিয়ে ছিলেন কেন।’

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘সারা দেশে যে গণজোয়ার, ৭০ সালের পর আমরা এমন জোয়ার দেখিনি। ৭০ সাল, ৫৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলটা যেমনটা নৌকার পক্ষে হয়েছিল এবারও সেরকমটাই হয়েছে।’

বিএনপির অভিযোগ, তাদের এজেন্টদেরকে কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়নি। তবে কাদের বলেন, তারা এজেন্ট দিতেই পারেনি। বলেন, ‘এজেন্ট না দিতে পারলে ভোটের ফলাফলের প্রতিক্রিয়া তো এমন হবেই। আমরা তো তাদেরকে অনুরোধ করেও এজেন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারিনি। কোথাও তাদের পোস্টার নেই, ব্যানার নেই। এগুলো কিসের লক্ষণ? নির্বাচনে হারার আগেই তারা হাল ছেড়ে দিয়েছেন, তাহলে নির্বাচন করবে কেমন করে?’

নির্বাচন করার মতো কোন প্রস্তুতিই বিএনপির মধ্যে ছিল না বলেও মনে করেন কাদের। বলেন, ‘তবে মওদুদ আহমেদ সাহেরে সঙ্গে এমন জয় আমি আশা করিনি। আমি ভাবছিলাম তিনি থাকবেন, উনার এজেন্টরা থাকবেন, তাহলে তো ভোটের ব্যবধানটা অনেক কমে যেত। এত ব্যবধান হতো না।’

‘জন রায়কে অসম্মান করবেন না’

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জেতা নেতাদেরকে শপথ নেওয়ারও আহ্বান জানান কাদের। বলেন, ‘আমি এখনও মনে করি তারা জনগণের রায়কে অপমান করবে না। … যে কয়জন নির্বাচিত হয়েছে তারা জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়েছেন।’
বিএনপি আন্দোলন করার মতো অবস্থানে নেই বলেও মনে করেন কাদের। বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) সংবাদ সম্মেলনে তাদের নেতাদের চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখেছেন? এত নার্ভাস, তারা হতাশায় ভেঙে পরেছেন। নেতারাই হতাশায় ভেঙে পরেছেন, কর্মীরা কীভাবে আশাবাদী হবে? কর্মীদের মধ্যে কীভাবে গতি পাবে?’

‘আন্দোলন করতে হলে সেরকম চেতনা দরকার, মানসিকতা, প্রস্তুতি দরকার। সেই প্রস্তুতিটা তাদের মধ্যে আছে বলে মনে হয় না। যদি থাকতো তাহলে সারা দেশে  তাৎক্ষণিক একটা মিছিল করতে পারত, এরকমটাও দেখলাম না।’
‘বিএনপি নেত্রী জেলে তার পরেও তারা কোন সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারেনি। যা তারা এতদিন করতে পারেনি, এখন তাদের আরও ভাঙাহাট। এই ভাঙাহাট নিয়ে নতুন করে কোনো আন্দোলনের সক্ষমতা অর্জন করবে এটা ভাবার কোন কারণ নেই।’

এর আগে সকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানান কাদের। সেখানে তিনি ঐক্যফ্রন্টের পুনর্নির্বাচনের দাবির প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এটা কি মামা বাড়ির আবদার? যা কখনো পূরণ হবে না।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনভর প্রশাসনের তৎপরতা, জলাবদ্ধতায় থামেনি নগরবাসীর দুর্ভোগ

বিএনপির ‘দুর্বলতা’য় হতবাক কাদের

আপডেট এর সময় : ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জানুয়ারী ২০১৯

রবিবারের ভোটকে বিএনপি কারচুপি বললেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন জনজোয়ার। বলেছেন, ১৯৫৪ এবং ১৯৭০ সালে যেমন জোয়ার ছিল আওয়ামী লীগের, এবারও ছিল তাই।
মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে কাদের লড়াই করেন নোয়াখালী-৫ আসন থেকে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও পরে বিএনপির আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ। তিনি জামানত হারান কাদেরের কাছে।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৯৭৩ সালের চেয়েও বেশি হারে ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষে ভোট পড়েছে অবিশ্বাস্য রকম কম। আওয়ামী লীগ যেখানে ৭৭ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে, সেখানে বিএনপির পক্ষে পড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশের মতো।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি অবাক হয়েছি, এত বড় দল বিএনপি যার কোন সাংগঠনিক অবকাঠামোই নেই। তারা যে আন্দোলন করতে পারেনি, সাংগঠনিক কাঠামোতে দুর্বলতা, এটাই ছিল বড় কারণ। এবারকার নির্বাচনে দেখা গেছে, তারা তাদের সেই সাংগঠনিক শক্তিটা প্রদর্শন করতে পারেনি।’

‘তাদের (বিএনপি) অবস্থা এতই দুর্বল, নড়বড়ে সংগঠন, যে তারা বিভিন্ন কেন্দ্রে, তাদের মধ্যে যাদেরকে হেভিওয়েট বলা হয় তারাও নিজেদের কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারেনি।’

‘আপনি এজেন্ট  দিবেন না, তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কী প্রয়োজন ছিল? আপনি ব্যানার পোস্টার করবেন না কেন? যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তাহলে প্রচারে পিছিয়ে ছিলেন কেন।’

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘সারা দেশে যে গণজোয়ার, ৭০ সালের পর আমরা এমন জোয়ার দেখিনি। ৭০ সাল, ৫৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলটা যেমনটা নৌকার পক্ষে হয়েছিল এবারও সেরকমটাই হয়েছে।’

বিএনপির অভিযোগ, তাদের এজেন্টদেরকে কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়নি। তবে কাদের বলেন, তারা এজেন্ট দিতেই পারেনি। বলেন, ‘এজেন্ট না দিতে পারলে ভোটের ফলাফলের প্রতিক্রিয়া তো এমন হবেই। আমরা তো তাদেরকে অনুরোধ করেও এজেন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারিনি। কোথাও তাদের পোস্টার নেই, ব্যানার নেই। এগুলো কিসের লক্ষণ? নির্বাচনে হারার আগেই তারা হাল ছেড়ে দিয়েছেন, তাহলে নির্বাচন করবে কেমন করে?’

নির্বাচন করার মতো কোন প্রস্তুতিই বিএনপির মধ্যে ছিল না বলেও মনে করেন কাদের। বলেন, ‘তবে মওদুদ আহমেদ সাহেরে সঙ্গে এমন জয় আমি আশা করিনি। আমি ভাবছিলাম তিনি থাকবেন, উনার এজেন্টরা থাকবেন, তাহলে তো ভোটের ব্যবধানটা অনেক কমে যেত। এত ব্যবধান হতো না।’

‘জন রায়কে অসম্মান করবেন না’

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জেতা নেতাদেরকে শপথ নেওয়ারও আহ্বান জানান কাদের। বলেন, ‘আমি এখনও মনে করি তারা জনগণের রায়কে অপমান করবে না। … যে কয়জন নির্বাচিত হয়েছে তারা জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়েছেন।’
বিএনপি আন্দোলন করার মতো অবস্থানে নেই বলেও মনে করেন কাদের। বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) সংবাদ সম্মেলনে তাদের নেতাদের চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখেছেন? এত নার্ভাস, তারা হতাশায় ভেঙে পরেছেন। নেতারাই হতাশায় ভেঙে পরেছেন, কর্মীরা কীভাবে আশাবাদী হবে? কর্মীদের মধ্যে কীভাবে গতি পাবে?’

‘আন্দোলন করতে হলে সেরকম চেতনা দরকার, মানসিকতা, প্রস্তুতি দরকার। সেই প্রস্তুতিটা তাদের মধ্যে আছে বলে মনে হয় না। যদি থাকতো তাহলে সারা দেশে  তাৎক্ষণিক একটা মিছিল করতে পারত, এরকমটাও দেখলাম না।’
‘বিএনপি নেত্রী জেলে তার পরেও তারা কোন সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারেনি। যা তারা এতদিন করতে পারেনি, এখন তাদের আরও ভাঙাহাট। এই ভাঙাহাট নিয়ে নতুন করে কোনো আন্দোলনের সক্ষমতা অর্জন করবে এটা ভাবার কোন কারণ নেই।’

এর আগে সকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানান কাদের। সেখানে তিনি ঐক্যফ্রন্টের পুনর্নির্বাচনের দাবির প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এটা কি মামা বাড়ির আবদার? যা কখনো পূরণ হবে না।’