ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় ১১.২৫ লাখ ইউরোর প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি করলো বাংলাদেশ-আইওএম Logo রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার Logo আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার Logo তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৩ জন গ্রেফতার Logo সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পৃথক অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার Logo ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৭ জন গ্রেফতার, মামলা ৪১ Logo ডিবির পৃথক অভিযানে অস্ত্র, এস্কাফ সিরাপ ও ইয়াবাসহ ৭ মাদক-অস্ত্র কারবারিকে গ্রেফতার Logo ফটিকছড়িতে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী Logo আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী Logo টানা ভারি বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী

সাংবাদিকরা লড়াই করে অধিকার আদায় করে: সূর্য

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ মে ২০১৯
  • ১৪৩ বার পঠিত হয়েছে

NEWSVOb:  সাংবাদিকদের যতো অধিকার তা লড়াই করে আদায় করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য।

তিনি বলেন, সরকারি বিজ্ঞাপনের ১০৪ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয় সংবাদপত্রের জন্য। বাকি ৯০০ টাকা পর্যন্ত যেটা দেওয়া হয় সেটা দেয় সাংবাদিক- কর্মচারিদের কল্যাণের জন্য। আমাদের বেতন বোনাসের জন্য। কিন্তু মালিকপক্ষ পুরো টাকা আত্মসাৎ করে তাদের ভাগ্য পাল্টায়। সাংবাদিকদের অবস্থার পরিবর্তন হয় না। এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সিনিয়র সাংবাদিক নেতা সূর্য। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।

এসময় গণমাধ্যমে ঢালাওভাবে ছাঁটাই বন্ধ বন্ধ করা, নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট প্রকাশ ও সংসদ অধিবেশনে গণমাধ্যম কর্মী আইন পাশ না হলে আগামী ১৫ মে থেকে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করবে সাংবাদিকরা। এমন ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর সভাপতি মোল্লা জালাল।

গণমাধামে ঢালাইভাবে ছাঁটাই বন্ধ করা, নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট প্রকাশ করা, সংসদ অধিবেশনে গণমাধ্যম কর্মী আইন পাশ করা, ঈদের আগে বেতন বোনাস প্রদানসহ চৌদ্দ দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতি, বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারি ফেডারেশন, বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপেপার প্রেস ওয়ার্কার্স, ঢাকা সাবএডিটরস কাউন্সিল, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন।

বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, গণমাধ্যমে একটি মাফিয়া চক্রের জন্ম হয়েছে। তারা চায় নিরঙ্কুশভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে। সংবাদপত্র মালিকদের হুঁশিয়ার করে মোল্লা জালাল বলেন, সাংবাদিকদের ঘামে ভেজা শ্রমের বিনিময়ে আপনাদের পত্রিকা বের হয়। আপনারা সে পত্রিকায় সরকারি বিজ্ঞাপন পান। নানা সুযোগ সুবিধা নেন। সমাজে আপনাদের ফেসভ্যালু বাড়ে। অথচ সাংবাদিকদের ভাগ্য পরিবর্তন হয় না। যখন তখন সাংবাদিক ছাঁটাই করা হয়। বছরের পর বছর যায়। কিন্তু সাংবাদিকদের বেতন বাড়ে না। ওয়েজ বোর্ড ঘোষিত হয় না।

মোল্লা জালাল বলেন, সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে মাফিয়াদের দালাল ঢুকে গেছে। তাদের হুঁশিয়ার করে বলছি, এমন কিছু করবেন না যাতে আপনাদেরকে প্রেসক্লাব অঙ্গনে অবাঞ্চিত ঘোষণা করতে বাধ্য হই।

সংবাদপত্র মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা পত্রিকা কত কপি বের করেন আর সরকারকে কত কপির হিসাব দেন তা আমাদের জানা আছে। সব গোমর ফাঁস করে দেব।

উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যদি এক থাকি তাহলে এমন আন্দোলন করব সব মাফিয়া মালিকরা কোনঠাসা হয়ে যাবে। দিশা পাবে না।

বক্তারা এ সময় আরও বলেন, গণমাধ্যমগুলো আজ সমস্যার পাহাড়। অনেক প্রতিষ্ঠানে মাসের পর মাস বেতন হয় না। যেখানে বেতন হয় সেখানে ইনক্রিমেন্ট হয় না, যেখানে ইনক্রিমেন্ট হয় সেখানে কোনও নীতিমালা ছাড়া বেপরোয়াভাবে ছাঁটাই চলছে। যা কোনভাবে মেনে নেওয়া হবে না।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কবীর আহমেদ খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুক্কুর আলী শুভ, নারী সাংবাদিক সমিতির প্রেসিডেন্ট নাসিমা আক্তার, মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর, বাংলাদেশ ক্যামেরা জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ফারুক বিপ্লব, ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মুক্তাদির রহমান, সংবাদপত্র কর্মচারি ফেডারেশনের সভাপতি মতিউর রহমান তালুকদার, প্রেস ফেডারেশনের সভাপতি আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব প্রেস ওয়ার্কার্সের মহাসচিব কামাল হোসেন, প্রেস ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ তোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News VOB

জনপ্রিয় সংবাদ

জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় ১১.২৫ লাখ ইউরোর প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি করলো বাংলাদেশ-আইওএম

সাংবাদিকরা লড়াই করে অধিকার আদায় করে: সূর্য

আপডেট এর সময় : ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ মে ২০১৯

NEWSVOb:  সাংবাদিকদের যতো অধিকার তা লড়াই করে আদায় করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য।

তিনি বলেন, সরকারি বিজ্ঞাপনের ১০৪ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয় সংবাদপত্রের জন্য। বাকি ৯০০ টাকা পর্যন্ত যেটা দেওয়া হয় সেটা দেয় সাংবাদিক- কর্মচারিদের কল্যাণের জন্য। আমাদের বেতন বোনাসের জন্য। কিন্তু মালিকপক্ষ পুরো টাকা আত্মসাৎ করে তাদের ভাগ্য পাল্টায়। সাংবাদিকদের অবস্থার পরিবর্তন হয় না। এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সিনিয়র সাংবাদিক নেতা সূর্য। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।

এসময় গণমাধ্যমে ঢালাওভাবে ছাঁটাই বন্ধ বন্ধ করা, নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট প্রকাশ ও সংসদ অধিবেশনে গণমাধ্যম কর্মী আইন পাশ না হলে আগামী ১৫ মে থেকে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করবে সাংবাদিকরা। এমন ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর সভাপতি মোল্লা জালাল।

গণমাধামে ঢালাইভাবে ছাঁটাই বন্ধ করা, নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট প্রকাশ করা, সংসদ অধিবেশনে গণমাধ্যম কর্মী আইন পাশ করা, ঈদের আগে বেতন বোনাস প্রদানসহ চৌদ্দ দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতি, বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারি ফেডারেশন, বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপেপার প্রেস ওয়ার্কার্স, ঢাকা সাবএডিটরস কাউন্সিল, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন।

বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, গণমাধ্যমে একটি মাফিয়া চক্রের জন্ম হয়েছে। তারা চায় নিরঙ্কুশভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে। সংবাদপত্র মালিকদের হুঁশিয়ার করে মোল্লা জালাল বলেন, সাংবাদিকদের ঘামে ভেজা শ্রমের বিনিময়ে আপনাদের পত্রিকা বের হয়। আপনারা সে পত্রিকায় সরকারি বিজ্ঞাপন পান। নানা সুযোগ সুবিধা নেন। সমাজে আপনাদের ফেসভ্যালু বাড়ে। অথচ সাংবাদিকদের ভাগ্য পরিবর্তন হয় না। যখন তখন সাংবাদিক ছাঁটাই করা হয়। বছরের পর বছর যায়। কিন্তু সাংবাদিকদের বেতন বাড়ে না। ওয়েজ বোর্ড ঘোষিত হয় না।

মোল্লা জালাল বলেন, সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে মাফিয়াদের দালাল ঢুকে গেছে। তাদের হুঁশিয়ার করে বলছি, এমন কিছু করবেন না যাতে আপনাদেরকে প্রেসক্লাব অঙ্গনে অবাঞ্চিত ঘোষণা করতে বাধ্য হই।

সংবাদপত্র মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা পত্রিকা কত কপি বের করেন আর সরকারকে কত কপির হিসাব দেন তা আমাদের জানা আছে। সব গোমর ফাঁস করে দেব।

উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যদি এক থাকি তাহলে এমন আন্দোলন করব সব মাফিয়া মালিকরা কোনঠাসা হয়ে যাবে। দিশা পাবে না।

বক্তারা এ সময় আরও বলেন, গণমাধ্যমগুলো আজ সমস্যার পাহাড়। অনেক প্রতিষ্ঠানে মাসের পর মাস বেতন হয় না। যেখানে বেতন হয় সেখানে ইনক্রিমেন্ট হয় না, যেখানে ইনক্রিমেন্ট হয় সেখানে কোনও নীতিমালা ছাড়া বেপরোয়াভাবে ছাঁটাই চলছে। যা কোনভাবে মেনে নেওয়া হবে না।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কবীর আহমেদ খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুক্কুর আলী শুভ, নারী সাংবাদিক সমিতির প্রেসিডেন্ট নাসিমা আক্তার, মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর, বাংলাদেশ ক্যামেরা জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ফারুক বিপ্লব, ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মুক্তাদির রহমান, সংবাদপত্র কর্মচারি ফেডারেশনের সভাপতি মতিউর রহমান তালুকদার, প্রেস ফেডারেশনের সভাপতি আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব প্রেস ওয়ার্কার্সের মহাসচিব কামাল হোসেন, প্রেস ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ তোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ।