২৪ শিক্ষক পড়ান ৩৪ শিক্ষার্থীকে, পাস করেছেন মাত্র ৪ জন

শিক্ষা ডেস্ক: ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যার অনুপাতে এক অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য চিত্র সামনে এসেছে। উপজেলার দক্ষিণ গফরগাঁও এলাকায় অবস্থিত চারবাড়ীয়া সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজটিতে কর্মরত ২৪ জন শিক্ষক পাঠদান করাচ্ছেন মাত্র ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে। শিক্ষক সংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা অত্যন্ত কম থাকা এই প্রতিষ্ঠানে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র চারজন শিক্ষার্থী। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র এগারো শতাংশের কিছু বেশি, যা গত বছরও মাত্র একজন শিক্ষার্থীর পাসে সীমাবদ্ধ ছিল। সম্প্রতি প্রকাশিত এই পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় শিক্ষা মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই হাজার সাত সালের আগস্ট মাসে চারবাড়ীয়া এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাবে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করেছিল এবং পরবর্তী সময়ে একুশ সালের জুন মাসে এটিকে সরকারি করা হয়। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখায় কোনো শিক্ষার্থী সংকট না থাকলেও শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন দীর্ঘ চৌবিশ জন শিক্ষক। অথচ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এই কলেজ থেকে মাত্র ৩৪ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি প্রকৃত শিক্ষার আলো ছড়ানোর পরিবর্তে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নানা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো। এমনকি বিগত দিনে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ না নিলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ধরে এনে এই চত্বরে মারধরসহ নানামুখী নির্যাতন চালানো হতো বলেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কোনো ধরনের যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদেরই ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বহু নেতাকর্মী এই কলেজের শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদের অনেকেই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তা সত্ত্বেও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও ওই অভিযুক্ত শিক্ষকেরা হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কয়েকজন শিক্ষক প্রক্সি বা বিকল্প স্বাক্ষরের মাধ্যমে নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা তুলে নিচ্ছেন বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন। এমন চরম অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে পড়াশোনার পরিবেশ সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে।

এই কলেজটিতে এমন কিছু প্রভাষকও কর্মরত রয়েছেন যাদের নিজ পদের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো শিক্ষার্থীই ভর্তি নেই। বহু শিক্ষার্থীই কখনো নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হয় না, যা প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক দুর্বলতাকেই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। গোয়ালঘরসদৃশ একটি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারি সুবিধা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে চারবাড়ীয়া সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ইসরাত জাহান ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে এই সার্বিক অনিয়ম ও নাজুক পরিস্থিতি সম্পর্কে কলেজ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *