৭ নভেম্বর ও জুলাই অভ্যুত্থানের একক দাবিদার কেউ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান—কোনো ঐতিহাসিক ঘটনারই একক মালিকানা বা দাবিদার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল কিংবা গোষ্ঠী হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব কেবল কোনো দলের অর্জন নয়, এটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও সর্বস্তরের মুক্তিকামী মানুষের সার্বজনীন সম্পদ। একই সঙ্গে জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাও সমগ্র জাতির সম্মিলিত সংগ্রামের ফসল বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাজধানীতে অফিসার্স ক্লাব ঢাকায় আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেদিন সিপাহী ও জনতা মিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে জাতির নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। জিয়াউর রহমান নিজে কোনো ক্ষমতার মোহে ওই বিপ্লব ঘটাননি, বরং তৎকালীন চরম সংকটে জাতির গভীর প্রয়োজনেই সাধারণ মানুষ তাকে নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছিল। ওই বিপ্লব সফল না হলে বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দি হয়ে পড়তে পারত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও ১৯৭৫ সালের এই বিপ্লব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সফল ভূমিকা রেখেছিল।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন একদিনে বা হুট করে অর্জিত হয়নি। ২০০৯ থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এই বিজয় অর্জিত হয়েছে। তাই কোনো একটি বিশেষ গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক শক্তি একা এই গণ-অভ্যুত্থানের মালিকানা দাবি করতে পারে না। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের এই চেতনা কোনো দলের দলীয় সম্পত্তি নয়, বরং এটি দেশের আপামর জনসাধারণের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের প্রতীক।

সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের যেকোনো রাজনৈতিক প্রভাব, লোভ এবং প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অতীতে রাজনৈতিক চাপ ও ভীতির মুখে প্রশাসনের একটি অংশ ভোটারবিহীন নির্বাচন আয়োজনে সহায়তা করে মারাত্মক ভুল করেছিল, যার চরম মূল্য পুরো সিভিল প্রশাসনকে চুকাতে হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একদলীয় শাসন কায়েম বা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে প্রশাসনকে ব্যবহার করা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এ ছাড়া স্বাগত বক্তব্য ও আলোচনায় অংশ নেন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বর্তমান ও সাবেক ঊর্ধ্বতন সচিবরা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা। আলোচনা সভার শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুরো অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্য জানার সুযোগ দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *