ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo দ্বিতীয়বার মাস সেরা মুশফিক Logo মেসিকে অভিনন্দন জানালেন ক্লোসা Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র সাক্ষাৎ Logo হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন নামঞ্জ Logo মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা Logo শিরোনাম: স্টিল শিল্পে অতিরিক্ত ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি বিএসএমএ’র, উন্নয়ন বাজেট দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ Logo শিরোনাম: শিক্ষা বাজেট নিয়ে ‘কেমন হলো শিক্ষা বাজেট: বাস্তবতা ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত Logo মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী Logo ইউএইতে গ্রেফতার বেনজীর, দ্রুত দে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

কিয়েভের দখল নিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছে

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ৩৬৮ বার পঠিত হয়েছে

Newsvob.com.: আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ    ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের বাহিনীর মধ্যে শনিবার লড়াই চলছে এবং সেখানে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যাচ্ছে।শহরটির কর্মকর্তারা বিকাল ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছেন।    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে যে ইউক্রেন আক্রমণের মাধ্যমে রাশিয়া সম্ভবতঃ যুদ্ধাপরাধ করেছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব, অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, “ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য বিস্ফোরক অস্ত্রের মত, বিস্তৃত এলাকা ধ্বংসকারী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে, রাশিয়ার সেনাবাহিনী বেসামরিক মানুষের জীবনের মূল্যকে নির্লজ্জভাবে উপেক্ষা করেছে।” তিনি আরও বলেন, “এসব আক্রমণের কোন কোনটি যুদ্ধাপরাধ হয়ে থাকতে পারে। রাশিয়ার সরকার মিথ্যা দাবি করেছে যে, লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম শুধুমাত্র এমন অস্ত্রই তারা ব্যবহার করেছে ,তাদের নিজেদের কর্মকান্ডের জন্য দায়ভার নেওয়া উচিৎ।”

পশ্চিমা কর্মকর্তারা ইউক্রেনের বাহিনীর প্রশংসা করলেও, সতর্ক করেছেন যে পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে। তারা এও বলেন যে, পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে, বিশেষ করে এই কারণে যে ইউক্রেন সীমান্তে জড়ো হওয়া রাশিয়ার ১,৯০,০০০ সৈন্যের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই এখনও যুদ্ধে অংশগ্রহণই করেনি।

তারা এ বিষয়েও সতর্ক করেন যে, রাশিয়া মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করার চেষ্টা করে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে এবং ইউক্রেনের বাহিনীকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা শুক্রবার বলেন, “আমাদের তথ্যে এ রকম ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ইউক্রেনের সৈন্যদের ব্যাপক আত্মসমর্পণের মিথ্যা খবর প্রচার করে রাশিয়া একটি গুজব ভিত্তিক অপপ্রচারমূলক অভিযান চালাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের তথ্য এটিও নির্দেশ করছে যে, ইউক্রেনের সৈন্যরা আত্মসমর্পণ না করলে রাশিয়া তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।”

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ইউক্রেনকে ৩৫ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা প্রদানের জন্য পররাষ্ট্র দফতরকে অনুমোদন প্রদান করেন।

রাশিয়ার সৈন্যদের বিরুদ্ধে কিয়েভের প্রতিরক্ষায় সহায়তার জন্য, ইউক্রেনের কর্মকর্তারা দেশটির নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। রাজধানীর একটি সামরিক ঘাটিতে হামলা চালানো হলেও, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে আক্রমণটি প্রতিহত করা হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে, শনিবার কিয়েভের উপর হামলা আরও তীব্র হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, “কিয়েভের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। আমরা রাজধানী হাতছাড়া হতে দিতে পারি না।”

জেলেন্সকি শনিবার টুইটারের মাধ্যমে জানান যে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাঁক্রোর সাথে তার আলাপ হয়েছে। টুইটারে তিনি লিখেন, “আমাদের সহযোগীদের পাঠানো অস্ত্র ও সরঞ্জাম ইউক্রেনের পথে রয়েছে। যুদ্ধবিরোধী জোটটি কাজ করছে।”

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শনিবার জানায় যে, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের মেলিটোপোল শহরটি রাশিয়ার সৈন্যরা দখলে নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা শুক্রবার জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনের সরকারকে “শিরশ্ছেদ” করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, কিয়েভ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের দিকে অগ্রসরমান রাশিয়ার বাহিনীর গতিবেগ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের লড়াইয়ের সাথে তাল মিলিয়ে, পশ্চিমা দেশগুলো ও রাশিয়া নিজেদের তথ্য প্রচারের লড়াইও বৃদ্ধি করেছে।

গোয়েন্দা তথ্য আলোচনার জন্য নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে, সংবাদকর্মীদের সাথে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, আক্রমণ আরম্ভ হওয়ার পর থেকে রাশিয়ার বাহিনী ২০০টিরও বেশী ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এগুলোর বেশিরভাগেরই লক্ষ্যবস্তু ছিল ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।

তবে ঐ কর্মকর্তা আরও জানান, গোয়েন্দা তথ্য থেকে অনুমান করা যাচ্ছে যে, সামরিক অভিযানটি রাশিয়ার সামরিক কমান্ডারদের আশানুরূপ গতিতে চলছে না।

বিশেষ করে কিয়েভে রাশিয়ার বাহিনীর আগ্রাসনটি বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঐ কর্মকর্তা আরও বলেন যে, ইউক্রেনের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা “অক্ষত রয়েছে”।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News VOB

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয়বার মাস সেরা মুশফিক

কিয়েভের দখল নিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছে

আপডেট এর সময় : ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২

Newsvob.com.: আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ    ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের বাহিনীর মধ্যে শনিবার লড়াই চলছে এবং সেখানে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যাচ্ছে।শহরটির কর্মকর্তারা বিকাল ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছেন।    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে যে ইউক্রেন আক্রমণের মাধ্যমে রাশিয়া সম্ভবতঃ যুদ্ধাপরাধ করেছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব, অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, “ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য বিস্ফোরক অস্ত্রের মত, বিস্তৃত এলাকা ধ্বংসকারী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে, রাশিয়ার সেনাবাহিনী বেসামরিক মানুষের জীবনের মূল্যকে নির্লজ্জভাবে উপেক্ষা করেছে।” তিনি আরও বলেন, “এসব আক্রমণের কোন কোনটি যুদ্ধাপরাধ হয়ে থাকতে পারে। রাশিয়ার সরকার মিথ্যা দাবি করেছে যে, লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম শুধুমাত্র এমন অস্ত্রই তারা ব্যবহার করেছে ,তাদের নিজেদের কর্মকান্ডের জন্য দায়ভার নেওয়া উচিৎ।”

পশ্চিমা কর্মকর্তারা ইউক্রেনের বাহিনীর প্রশংসা করলেও, সতর্ক করেছেন যে পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে। তারা এও বলেন যে, পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে, বিশেষ করে এই কারণে যে ইউক্রেন সীমান্তে জড়ো হওয়া রাশিয়ার ১,৯০,০০০ সৈন্যের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই এখনও যুদ্ধে অংশগ্রহণই করেনি।

তারা এ বিষয়েও সতর্ক করেন যে, রাশিয়া মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করার চেষ্টা করে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে এবং ইউক্রেনের বাহিনীকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা শুক্রবার বলেন, “আমাদের তথ্যে এ রকম ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ইউক্রেনের সৈন্যদের ব্যাপক আত্মসমর্পণের মিথ্যা খবর প্রচার করে রাশিয়া একটি গুজব ভিত্তিক অপপ্রচারমূলক অভিযান চালাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের তথ্য এটিও নির্দেশ করছে যে, ইউক্রেনের সৈন্যরা আত্মসমর্পণ না করলে রাশিয়া তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।”

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ইউক্রেনকে ৩৫ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা প্রদানের জন্য পররাষ্ট্র দফতরকে অনুমোদন প্রদান করেন।

রাশিয়ার সৈন্যদের বিরুদ্ধে কিয়েভের প্রতিরক্ষায় সহায়তার জন্য, ইউক্রেনের কর্মকর্তারা দেশটির নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। রাজধানীর একটি সামরিক ঘাটিতে হামলা চালানো হলেও, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে আক্রমণটি প্রতিহত করা হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে, শনিবার কিয়েভের উপর হামলা আরও তীব্র হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, “কিয়েভের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। আমরা রাজধানী হাতছাড়া হতে দিতে পারি না।”

জেলেন্সকি শনিবার টুইটারের মাধ্যমে জানান যে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাঁক্রোর সাথে তার আলাপ হয়েছে। টুইটারে তিনি লিখেন, “আমাদের সহযোগীদের পাঠানো অস্ত্র ও সরঞ্জাম ইউক্রেনের পথে রয়েছে। যুদ্ধবিরোধী জোটটি কাজ করছে।”

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শনিবার জানায় যে, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের মেলিটোপোল শহরটি রাশিয়ার সৈন্যরা দখলে নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা শুক্রবার জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনের সরকারকে “শিরশ্ছেদ” করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, কিয়েভ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের দিকে অগ্রসরমান রাশিয়ার বাহিনীর গতিবেগ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের লড়াইয়ের সাথে তাল মিলিয়ে, পশ্চিমা দেশগুলো ও রাশিয়া নিজেদের তথ্য প্রচারের লড়াইও বৃদ্ধি করেছে।

গোয়েন্দা তথ্য আলোচনার জন্য নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে, সংবাদকর্মীদের সাথে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, আক্রমণ আরম্ভ হওয়ার পর থেকে রাশিয়ার বাহিনী ২০০টিরও বেশী ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এগুলোর বেশিরভাগেরই লক্ষ্যবস্তু ছিল ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।

তবে ঐ কর্মকর্তা আরও জানান, গোয়েন্দা তথ্য থেকে অনুমান করা যাচ্ছে যে, সামরিক অভিযানটি রাশিয়ার সামরিক কমান্ডারদের আশানুরূপ গতিতে চলছে না।

বিশেষ করে কিয়েভে রাশিয়ার বাহিনীর আগ্রাসনটি বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঐ কর্মকর্তা আরও বলেন যে, ইউক্রেনের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা “অক্ষত রয়েছে”।