যাকেই দেখছেন তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে মেয়ে হত্যার বিচার চাইছেন নুসরাত জাহান রাফির বাবা একেএম মানিক।
তিনি বলেন, এখন আমার আর কিছুই চাওয়ার নাই। আমি আমার মেয়ের হত্যার দ্রুত বিচার চাই। আমার মেয়ে হত্যার বিচারটা যেন দ্রুত হয়। যারা অপরাধী তারা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে যখন নুসরাতের লাশের ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল চলছিল তখন বাইরে অপেক্ষমাণ বাবা এই কথা বলেন। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নুসরাত মারা যান।
এদিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ইন্সপেক্টর মোস্তফা কামাল ঢামেকে উপস্থিত হয়ে বলেন, আমরা ঢাকা পিবিআই অফিস থেকে এসেছি। এখানে সুরতহাল ও পোস্ট মর্টেম হবে। মামলাটা যেহেতু ফেনীতে, পিবিআই ফেনী এই মামলার তদন্ত করবে।
নুসরাতের মরদেহ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় শাহবাগ থানায় জিডি করা হয়েছে। মরদেহ গ্রহণ করতে নুসরাতের বাবা একেএম মানিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জেনারেল মাসুদ চৌধুরী ও সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন। শাহবাগ থানা সুরতহাল রিপোর্ট লেখা শেষে ময়নাতদন্ত করবেন ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা।
প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা এর আগে তাকে যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে আটক করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়।
তাকে মামলা তুলে নেওয়া কথা বলে ভয় দেখানো হয়। পরে সেখানে বোরকা পরিহিত ৪/৫ ব্যক্তি নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৭৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।