Blog

  • আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার

    আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার

    নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ  ১৮ জুলাই, ২০২৬  : আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’-এর পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার। প্রথম পর্যায়ে প্রবাসী ডেবিট কার্ড চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড সম্পর্কিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

    তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড বিষয়ক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কার্ডে থাকবে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিশেষ সুবিধা। এই কার্ড প্রদানে সরকারের উদ্দেশ্যে হচ্ছে, প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান, ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়া।

    নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। প্রবাসী কার্ডও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। তারই অংশ হিসেবে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

    উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হচ্ছে— দেশে-বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার ও বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট এন্ড গ্রিট সেবা, বিমানের টিকেট ও হোটেল বুকিংয়ে ডিসকাউন্ট, দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূলে গাড়ি বুকিং ও সিগনেচার কার্ডে এয়ারপোর্ট পিক এন্ড ড্রপ সেবা, সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ ও বেসরকারিতে ডিসকাউন্ট সুবিধা, কার্ডধারীর মৃত্যুতে বিনা খরচে লাশ পরিবহন, প্রবাস ফেরতদের পুনর্বাসনের সুযোগ ও বীমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া। এছাড়া, রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণ সুবিধা, কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানোসহ সহজে লেনদেন। এনআইডি, পাসপোর্ট ও কুনস্যুলার সেবায় অগ্রাধিকার, ব্যাংক ও সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সুবিধা দেওয়া।

    শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, প্রবাসী কার্ড পরীক্ষামূলভাবে উদ্বোধন হবে আগামী মাসের মাঝামাঝিতে। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

    দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

    উপ-প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

    একই সঙ্গে বিশ্বে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছে, তারা যাতে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আসে সেজন্যও প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে বলেছেন বলে জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বাসস

  • তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৩ জন গ্রেফতার

    তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৩ জন গ্রেফতার

    নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ , জে.রশীদ    ১৪ জুলাই ২০২৬ খ্রি. ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। মোঃ হাসান (২৭) ২। মোঃ সাইদুর রহমান সজিব (২১) ৩। মোঃ হাবিবুর রহমান লিয়ন (২১) ৪। মোছাঃ শাপলা আক্তার (৩০) ৫। মোঃ আরাফাত ৬। মোঃ বেলাল হোসেন বেপারী (২৬) ৭। মোঃ জামিল শিকদার (৩০) ৮। ইয়াসিন আরাফাত (২৪) ৯। মোঃ রুবেল (৩৩) ১০। মোঃ লুৎফর রহমান (৩৬) ১১। সালমান (২৪) ১২। মোঃ রাশেদুল হাসান (৩৭) ১৩। মোঃ রাসেল (২৫) ১৪। মোঃ আসাদুল ইসলাম (২২) ১৫। ইব্রাহিম ওরফে সৌরভ (২৫) ১৬। মোঃ সাইদুল ইসলাম (২২) ১৭। মোঃ সালমান (২১) ১৮। মোঃ জনি ওরফে মুরগী জনি ১৯। মোঃ জাহিদ হাসান (২১) ২০। মোঃ মাহিম (২০) ২১। মোঃ মাহাবুব আলম (৪৫) ২২। মোঃ সেলিম মিয়া (৩০) ২৩। মোঃ ইউসুফ (২২) ২৪। মোঃ আমজাদ (৩০) ২৫। মোঃ রুহুল আমিন (২১) ২৬। সুমন (২৭) ২৭। স্বাপন (২৫) ২৮। মোঃ সুলেমান (৪৮) ২৯। মোঃ ইমন (২০) ৩০। মোঃ দেলোয়ার হোসেন হৃদয় (২২) ৩১। মোঃ সিরাজুল ইসলাম (৪৮) ৩২। তাফহীমুল তছলিম হিমেল (২৪) ৩৩। সাদিয়া আরফিন (২৪) ৩৪। মোঃ ইয়াছিন (৩০) ৩৫। মোসাঃ রোজিনা ওরফে রোজি ওরফে সালেহা (৪১) ৩৬। মোঃ সোহাগ আহম্মদ (২২) ৩৭। সেলিম মিয়া (২৮) ৩৮। আল আমিন (৩৪) ৩৯। মোঃ আরিফ (২৮) ৪০। মোঃ শুভ (১৮) ৪১। মোঃ রিপন (২৬) ৪২। মোঃ হৃদয় হোসেন ওরফে ইয়াছিন (১৮) ও ৪৩। মোঃ সাইফুল ইসলাম।

    তেজগাঁও বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১২ জুলাই) বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এসব ব্যক্তিদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানা ০২ জন, শেরেবাংলা নগর থানা ১০ জন, মোহাম্মদপুর থানা ১৯ জন, আদাবর থানা ০৩ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ০৩ জন ও হাতিরঝিল থানা ০৬ জন।

    গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পৃথক অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার

    সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পৃথক অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার

    নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ , জে.রশীদ :১৪ জুলাই ২০২৬ খ্রি.যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদ পুলিশ ফাঁড়ি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ১ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা, ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধারসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলো-১। মোঃ শুভ (২৬) ২। মোঃ ইব্রাহিম (৩৬) ও ৩। মো: সেলিম (৩০)।

    যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ) রাত আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকায় সায়েদাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির একটি টিম যাত্রাবাড়ী থানাধীন সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের বরিশাল কাউন্টারের সামনের অভিযান পরিচালনা করে শুভকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার হেফাজত হতে ১ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    অপরদিকে, সোমবার (১৩ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০:০০ ঘটিকায় একই স্থানে পরিচালিত আরেকটি অভিযানে ইব্রাহিম ও সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ৫০ পিস ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির ২ হাজার ৬২০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

  • ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৭ জন গ্রেফতার, মামলা ৪১

    ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৭ জন গ্রেফতার, মামলা ৪১

    নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ , জে.রশীদ : , ১৪ জুলাই ২০২৬ খ্রি. রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৭ জন গ্রেফতার হয়েছে। একই সময়ে ৪১ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ কর্তৃক ৪০ জন, লালবাগ বিভাগ কর্তৃক ২৬ জন, ওয়ারী বিভাগ কর্তৃক ৫৫ জন, মতিঝিল বিভাগ কর্তৃক ২৫ জন, তেজগাঁও বিভাগ কর্তৃক ৬৪ জন, মিরপুর বিভাগ কর্তৃক ৮৫ জন, গুলশান বিভাগ কর্তৃক ৩২ জন, উত্তরা বিভাগ ৪৩ জন ও গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃক ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের হেফাজত হতে ৩ হাজার ৩০ পিস ইয়াবা, ৫৫ কেজি ২৩০ গ্রাম গাঁজা, ১২০০ বোতল ফেন্সিডিল, ১টি প্রাইভেটকার, ২টি মাইক্রোবাস, ১টি তালা কাটার মেশিন, ৬টি মোবাইল,৩৩০ টাকা ও ১ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

    রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।
    গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

  • ডিবির পৃথক অভিযানে অস্ত্র, এস্কাফ সিরাপ ও ইয়াবাসহ ৭ মাদক-অস্ত্র কারবারিকে গ্রেফতার

    ডিবির পৃথক অভিযানে অস্ত্র, এস্কাফ সিরাপ ও ইয়াবাসহ ৭ মাদক-অস্ত্র কারবারিকে গ্রেফতার

    নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ  :  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পৃথক অভিযানে দুইটি বিদেশি বন্দুক, একটি বিদেশি এলজি, ১৫ রাউন্ড লিড বল কার্তুজ, ১ হাজার ৭৫০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ (Eskuf) সিরাপ, ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একাধিক যানবাহনসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে।

    গ্র্রেফতারকৃতরা হলো- ১। মোঃ জয়নাল (৪২) ২। মোঃ সামিউল হক (৪৩) ৩। নুর ইসলাম সুরুজ (৪৪) ৪। মোঃ হাফিজুর রহমান ওরফে লালমিয়া (৪৫) ৫। সোহান চৌধুরী (৩০) ৬। মোঃ রবিউল ইসলাম মুন্না (২৪) ও ৭। মোঃ কাশেম (৩৫)।

    ডিবি মিরপুর বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ৬:৩০ ঘটিকায় দারুস সালাম থানাধীন গাবতলী ব্রিজ এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় অস্ত্র ও মাদক বহনকারী দুটি প্রাইভেটকার রাজধানীতে প্রবেশের চেষ্টা করলে একটি গাড়ির চালক পুলিশের সংকেত অমান্য করে ব্যারিকেড ভেঙে পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে মোঃ জয়নালকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জয়নালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ি তল্লাশি করে দুইটি বিদেশি বন্দুক, একটি বিদেশি এলজি, ১৫ রাউন্ড লিড বল কার্তুজ এবং ১০০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই সময় অপর একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করে আরও ৪৫০ বোতল ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে অস্ত্র ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুইটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ রাজধানীতে এনে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে সরবরাহ করে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা অস্ত্রবাহী এস্কর্ট গাড়ি ব্যবহার করত। এ ঘটনায় দারুস সালাম থানায় অস্ত্র আইনে ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    অন্যদিকে, সোমবার সকাল আনুমানিক ১১:১৫ ঘটিকায় ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডেমরা জোনাল টিম উত্তরা পূর্ব থানাধীন আজমপুর বিডিআর বাজার ও সমবায় মার্কেটের সামনে অভিযান পরিচালনা করে ১ হাজার ২০০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপসহ সামিউল, নুর ইসলাম ও হাফিজুর রহমান ওরফে লালমিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    অপরদিকে, ডিবির উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর জোনাল টিম রবিবার (১২ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় কাফরুল থানাধীন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ সোহান, রবিউল ও কাশেমকে গ্রেফতার করে। এসময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি এক্স নোয়া (X Noah) মডেলের গাড়ি জব্দ করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন পণ্যবাহী পার্সেলের আড়ালে ইয়াবা ঢাকায় এনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতো। গ্রেফতারকৃত সোহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে কাফরুল ও খিলক্ষেত থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় কাফরুল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

  • ফটিকছড়িতে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

    ফটিকছড়িতে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

    নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ  অনলাইন ডেস্ক :    টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে শত শত পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
    শনিবার (১১ জুলাই) অধীন লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর, হারুয়ালছড়ি ও আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন গুইমারা রিজিয়নের সদস্যরা।
    সেনাবাহিনী শুরুতে নৌযান ও বিভিন্ন উপায়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চিহ্নিত করেন। পরে পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, লবণ, শুকনো খাদ্যসহ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে নিরাপদে অবস্থান, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
    সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং খাদ্যসংকট মোকাবিলায় গুইমারা রিজিয়নের সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে তাদের।
    সেনাবাহিনীর পক্ষ হতে জানানো হয়, যেকোনও দুর্যোগ, দুর্বিপাক ও সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের জানমাল রক্ষা এবং মানবিক সহায়তা প্রদানে সর্বদা সেনা সদস্যরা অঙ্গীকারবদ্ধ। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্গত ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে করে যাবে। চলমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
    দুর্গত এলাকার সুবিধাভোগীরা জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশ এবং জাতির সেবা করে আসছে। বন্যার মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে তারা উদ্ধার, ত্রাণ, বিতরণ কিংবা বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে সর্বদা অগ্রগামী ভূমিকায় বার বার প্রশংসিত। দেশের নানান ক্রান্তিকালে ভরসার জায়গা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
  • আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী

    আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী

    নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ   ৭ জুলাই, ২০২৬  ৯ জুলাই, ২০২৬  : বাংলাদেশকে একটি ‘সবুজ বসতি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তিনি বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলেই আমরা সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বসতি গড়ে তুলতে পারব।’

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই পরিবেশ মেলা বা বৃক্ষমেলার আয়োজন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ। এই আয়োজন কেবল একটি বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত হবে না।’

    তিনি বলেন, ‘আমি একটি কথাই বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই- দেশ হোক সকল প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।’

    বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর এ অনুষ্ঠান হয়। এ বছর জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য বিষয়- ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

    অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বনায়ন অংশীজনদের মধ্যে লভ্যাংশের চেকও বিতরণ করেন তিনি।

    সবাইকে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ বা সবুজের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি অবগত আছি। আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন ঢাকা শহরকে যতটা গ্রিন (সবুজ) দেখতাম, এখন বোধহয় দেখি না। এ জন্য আমাদের ভিন্ন কিছু করতে হবে। পরিবারে নতুন সন্তান জন্ম নিলে- তা আমাদের নিজেদের হোক বা আত্মীয়স্বজনের, আমরা যদি সেই সন্তানকে স্মরণ করে একটি গাছ রোপণ করি, তাহলে ভালো হয়।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা যদি প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি ও স্মরণ রাখি, তাহলে নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠবে। এভাবেই সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলন সফল হবে।’

    সবুজায়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবুজের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও আমরা অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। সরকার গঠনের পর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম’ চালুর পদক্ষেপ নিয়েছি। কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছেন, পত্রপত্রিকায় এসেছে, স্কুলগুলোতে একটি কর্মসূচির আওতায় একসঙ্গে প্রায় ৯০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। এই উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে অবশ্যই আমরা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠনে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোতে (ইশতেহারে) অনুযায়ী, আমরা পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছি। তবে ইচ্ছেমতো গাছ লাগালে এই লক্ষ্য পূরণ হবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, কোন পরিবেশে, কোন মাটিতে, কেমন আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ লাগানো উচিত- এ বিষয়ে আমাদের কমবেশি ধারণা থাকতে হবে এবং এটিকে প্রাধান্য দিয়েই গাছ লাগাতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গাছগুলোকে অবশ্যই পরিহার করা উচিত। একই সাথে নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ- যেমন ঔষধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয় বনজ, ফলদ, অর্থকরী বা বিপন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো খুবই দরকার।’

    বৃক্ষ রোপণের পর তার পরিচর্যার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গাছপালা, প্রাণী, মাটি, পানি ও বায়ু- পরিবেশের সবকিছু যেন স্বাভাবিকভাবে মিলেমিশে থাকতে পারে, বনায়নের মাধ্যমে এমন একটি ইকোসিস্টেম বজায় রাখার চেষ্টা করছি আমরা। বর্তমান সরকারের কাজের লক্ষ্য এই পুরো পরিবেশটাকে ঠিকঠাক রাখা।’

    তিনি বলেন, ‘শুধু গাছ লাগানো বা প্লাস্টিক সরানোই যথেষ্ট নয়। আরও অনেক ইন্টিগ্রেটেড (সমন্বিত) বিষয় আছে, যেগুলোর দিকে আমরা খেয়াল রাখার চেষ্টা করছি। নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপণ করা গাছটি নিরাপদে বেড়ে উঠছে কি না, সেটি নিশ্চিত করাও খুব বেশি জরুরি।’

    ইকোসিস্টেম রক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে স্থানীয় ইকোসিস্টেমের অংশ হয়ে থাকা গাছ, যেগুলোকে আমরা ‘মাদার ট্রি’ বলি, সেগুলো যেন রক্ষা পায়, কেটে ফেলা না হয়, এই বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আজ এখানে বন বিভাগের বড় কর্মকর্তারা আছেন, আমি আশা করব তারা এই বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।’

    তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও যতটা সম্ভব কঠোর অবস্থান নিতে আমরা চেষ্টা করছি। বহুদিনের অভ্যাসের মাইন্ডসেট পরিবর্তন করা খুবই কষ্টসাধ্য একটি কাজ, এটি মানুষকে বুঝিয়ে করাতে হবে। তাই আমি বলেছিলাম, এই বিষয়টি সমাধান করতে প্রত্যেক মানুষকে যার যতটুকু সম্ভব, যেই পরিবেশে সম্ভব, সেভাবেই পশুপাখি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।

    দেশের নদী বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি নদীগুলো বাঁচাতে না পারি, তাহলে আগামীতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে। নদী বাঁচাতে না পারলে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পানি নিরাপত্তা- কোনোটিই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাই ইকোসিস্টেম রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়ন ও পরিবেশকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে, প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি রেখে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি গড়ে উঠুক- এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।’

    তিনি বলেন, ‘ছাদবাগান, নগর বনায়ন, জিআইএস-ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ, নদী তীর ও খালের দু’পাশে সবুজায়ন এবং ইকোট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় বর্তমান সরকার।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদী ভাঙন ও লবণাক্ততা আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং সর্বোপরি জনজীবনকে প্রতিদিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে আলাদা কোনো খাত নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। সরকারের লক্ষ্য একটা সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।’

    বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা জরুরি বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন-পুনঃখননের যে কর্মসূচি শুরু করেছে, তা কৃষকদের বছরজুড়ে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশ উন্নয়ন কেবল বৃক্ষরোপণ বা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না- এসব সহায়ক পদক্ষেপ (সাপ্লিমেন্ট) মাত্র।’

    তিনি বলেন, ‘রাজধানীসহ দেশের সব নগর, বন্দর ও শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে পরিবেশ নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের অসম্ভব সহযোগিতা আমার প্রয়োজন, সরকারের প্রয়োজন।’

    যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সরকার কাজ শুরু করেছে বা করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং ‘রিডিউস, রি-ইউজ, রিসাইকেল’ বা ‘থ্রি আর’ নীতি জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।’

    তিনি বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হলে তা কেবল নগর প্রশাসন বা পুলিশের মাধ্যমে সম্ভব নয়। সচেতনতার মাধ্যমেই এটি করতে হবে। এ জন্য প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। আমি সবার কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাই, অনুগ্রহ করে যেখানে-সেখানে বর্জ্য বা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না। আসুন আমরা চেষ্টা করি পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের মধ্যে সুযোগ পেলেই যেন বিষয়টি তুলে ধরি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি আমাদের একটু সতর্ক থাকা প্রয়োজন- জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী ও জলাভূমি ভরাট এবং বন উজাড়সহ নানা কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। এসব কারণে বন্যপ্রাণী, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। ওদের যেকোনো উপায়ে বাঁচাতে হবে।’

    সবশেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আয়োজনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম প্রমুখ।

    বাসস :

  • টানা ভারি বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী

    টানা ভারি বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী

      নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ  অনলাইন ডেস্ক :বৃষ্টির কারণে নগরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল কমে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরের বিভিন্ন জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

    পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে চট্টগ্রামে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।

    আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান বলেন, সাম্প্রতিক মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাব যুক্ত হওয়ায় বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। নিম্নচাপটি ঝাড়খণ্ড ও ওডিশার দিকে সরে গেলেও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে আরও কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

    টানা বৃষ্টিতে নগরের আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাপাসগোলা, ফরিদার পাড়া, চান্দগাঁও, হালিশহর, পতেঙ্গা, আকমল আলী রোড, কুয়াইশসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নিচতলার বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গৃহস্থালি সামগ্রী।

    বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা আহমেদ রেজা জানান, সকালে বৃষ্টির পর তার বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে। বাধ্য হয়ে আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ঘর থেকে বের হতেও সমস্যায় পড়েছেন তিনি।

    এদিকে টানা বর্ষণের মধ্যে নগরের পতেঙ্গা এলাকায় একটি বাইপাস সড়কের অংশ ভেঙে গেছে। উড়ালসড়ক নির্মাণের জন্য তৈরি করা ওই সড়কটি ভারি বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল জানান, পতেঙ্গায় আউটার রিং রোডের সঙ্গে উড়ালসড়ক নির্মাণকাজ চলছে। এ জন্য তৈরি করা বাইপাস সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে তা দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে।

    এদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন সময়সূচি জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

    সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

     নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ   ৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করেছেন।

    দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান।

    তিনি আজ সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন। এরপর পুরো মহড়া এলাকা পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

    তিনি জানান, মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন।

    প্রধানমন্ত্রী একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা (Verbal Order) মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি ‘রেইড’ (Raid) মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

    এছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন।

    এমনকি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়েও তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন বলেও জানান জাহিদুল ইসলাম রনি।

    একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন। মাঠপর্যায়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে সরকারপ্রধান দীর্ঘ সময় কাটানোয় উপস্থিত সেনাসদস্যরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

    জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, পরে সেনা সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তারেক রহমান।

    সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে।’

    জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    বাসস

  • আলী খামেনির জানাজায় কেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ছিলেন না

    আলী খামেনির জানাজায় কেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ছিলেন না

       নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ   আন্তরর্জাতিক ডেস্ক:    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার পিতার জানাজায় রহস্যজনকভাবে অনুপস্থিত ছিলেন। দেশটির সিনিয়র কর্মকর্তারা এবং লাখো মানুষ রোববার প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

    আলী খামেনির অন্য তিন ছেলে- মাসউদ, মোস্তফা ও মেইসাম- রোববারের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং বিপ্লবী গার্ডের প্রধান আহমাদ বাহিদিসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

    মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে। এই গুজবও আছে যে, তার বাবাকে হত্যা করা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনিও আহত হয়েছিলেন।

    মার্চের শুরুতে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

    আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার সরকারি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুক্রবার শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী এক সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইরাকজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

    ইরান কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অনুষ্ঠানে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নেবেন। তারা একে ‘শতাব্দীর সেরা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’ বলে অভিহিত করছে।