ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo দ্বিতীয়বার মাস সেরা মুশফিক Logo মেসিকে অভিনন্দন জানালেন ক্লোসা Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র সাক্ষাৎ Logo হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন নামঞ্জ Logo মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা Logo শিরোনাম: স্টিল শিল্পে অতিরিক্ত ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি বিএসএমএ’র, উন্নয়ন বাজেট দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ Logo শিরোনাম: শিক্ষা বাজেট নিয়ে ‘কেমন হলো শিক্ষা বাজেট: বাস্তবতা ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত Logo মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী Logo ইউএইতে গ্রেফতার বেনজীর, দ্রুত দে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

বনানী এফ আর ভবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে -গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০১৯
  • ১০৩ বার পঠিত হয়েছে

এফ এম আনসারী : গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিম বলেছেন, ‘গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকান্ড ঘটেছে। যারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। যত প্রভাবশালীই হোন, বিত্তে, ক্ষমতায়, পদ-পদবীতে তিনি যেই হোন না কেনো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এবং আমরা সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি অতীতের মতো করে নয়, কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।

আজ সকালে রাজধানীর বনানীর বহুতল ভবন এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অগ্নিকান্ডের ঘটনা অবহিত হবার পর থেকে সরাসরি বিষয়টি তদারকী করছেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা, দফতরসহ সকলের সাথে যোগাযোগ রেখে তাৎক্ষণিকভাবে যেখানে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিচ্ছেন’।

মন্ত্রী বলেন, এফ আর টাওয়ার ভবনটিকে ১৮তলা ইমারত নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে ১৯৯৬ সালে। ২০০৫ সালে এসে রাজউকে একটা কপি দাখিল করে বলা হয় এটা ২৩ তলা হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, যে কপি ভবন কর্তৃপক্ষ দাখিল করেছে তার সমর্থনে রাজউকের রেকর্ডে কোথাও কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। এতে তদন্তে রিপোর্টে ধরে নেয়া হয় ২৩ তলার যে নকশা ভবন কর্তৃপক্ষ দাখিল করেছে তা সঠিক নয় এবং মূল অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। সে সময়ে রাজউক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যারা ছিলেন, তাদেরকে আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি’।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ০৬ (ছয়) সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছি, তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেবেন। রাজউক এর পক্ষ থেকেও একইরকম একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে’।

তদন্ত কমিটির কার্যপরিধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত কমিটি এই ভবনের প্লান অনুমোদনের প্রক্রিয়ার ভেতরে কোনো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে কিনা, অনুমোদিত প্লানের বাইরে বির্ল্ডিং নির্মাণ হয়েছে কিনা, হয়ে থাকলে এর সাথে কারা কারা জড়িত, ডেভেলপার, ভবন মালিক এমনকি আমাদের সংস্থার কেউ জড়িত থাকলে তার সম্পর্কে প্রতিবেদন দেবেন। প্রতিবেদন পাওয়ার সাথে সাথে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেই হোন না কেনো, যত শক্তিশালীই হোন না কেনো, এরকম মর্মান্তিক ঘটনা যারা টাকার লোভে ঘটায়, সেই নরপিশাচদের সর্বোচ্চ আইনী আওতায় এনে যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার, দ্রুতগতিতে আমরা সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবো’।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা অনুমোদনের বাইরে এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ ফৌজদারী মামলা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনে তাদের নির্মিত ভবনের বেআইনী অংশ ভেঙ্গে ফেলা হবে’।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন ‘ঢাকা শহরে একেবারে অনুমোদনহীন বা অনুমোদনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অনেক ইমারত নির্মাণ করা হয়েছে, আমি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ বিষয়গুলো বিশদভাবে খতিয়ে দেখছি এবং আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা আইনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। অতীতের ঘটনাগুলোও খতিয়ে দেখবো, অতীতের দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে কমিটি কেনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, কারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাদেরকেও ব্যবস্থা গ্রহণের আওতায় আনা হবে’।

এর আগে মন্ত্রী বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের বিভিন্ন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউক এর চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রহমান, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসীর ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ ইয়াকুব আলী পাটওয়ারী সহ সংশ্লিষ্ট দফতর/সংস্থার কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয়বার মাস সেরা মুশফিক

বনানী এফ আর ভবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে -গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী

আপডেট এর সময় : ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০১৯

এফ এম আনসারী : গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিম বলেছেন, ‘গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকান্ড ঘটেছে। যারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। যত প্রভাবশালীই হোন, বিত্তে, ক্ষমতায়, পদ-পদবীতে তিনি যেই হোন না কেনো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এবং আমরা সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি অতীতের মতো করে নয়, কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।

আজ সকালে রাজধানীর বনানীর বহুতল ভবন এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অগ্নিকান্ডের ঘটনা অবহিত হবার পর থেকে সরাসরি বিষয়টি তদারকী করছেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা, দফতরসহ সকলের সাথে যোগাযোগ রেখে তাৎক্ষণিকভাবে যেখানে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিচ্ছেন’।

মন্ত্রী বলেন, এফ আর টাওয়ার ভবনটিকে ১৮তলা ইমারত নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে ১৯৯৬ সালে। ২০০৫ সালে এসে রাজউকে একটা কপি দাখিল করে বলা হয় এটা ২৩ তলা হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, যে কপি ভবন কর্তৃপক্ষ দাখিল করেছে তার সমর্থনে রাজউকের রেকর্ডে কোথাও কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। এতে তদন্তে রিপোর্টে ধরে নেয়া হয় ২৩ তলার যে নকশা ভবন কর্তৃপক্ষ দাখিল করেছে তা সঠিক নয় এবং মূল অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। সে সময়ে রাজউক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যারা ছিলেন, তাদেরকে আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি’।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ০৬ (ছয়) সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছি, তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেবেন। রাজউক এর পক্ষ থেকেও একইরকম একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে’।

তদন্ত কমিটির কার্যপরিধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত কমিটি এই ভবনের প্লান অনুমোদনের প্রক্রিয়ার ভেতরে কোনো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে কিনা, অনুমোদিত প্লানের বাইরে বির্ল্ডিং নির্মাণ হয়েছে কিনা, হয়ে থাকলে এর সাথে কারা কারা জড়িত, ডেভেলপার, ভবন মালিক এমনকি আমাদের সংস্থার কেউ জড়িত থাকলে তার সম্পর্কে প্রতিবেদন দেবেন। প্রতিবেদন পাওয়ার সাথে সাথে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেই হোন না কেনো, যত শক্তিশালীই হোন না কেনো, এরকম মর্মান্তিক ঘটনা যারা টাকার লোভে ঘটায়, সেই নরপিশাচদের সর্বোচ্চ আইনী আওতায় এনে যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার, দ্রুতগতিতে আমরা সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবো’।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা অনুমোদনের বাইরে এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ ফৌজদারী মামলা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনে তাদের নির্মিত ভবনের বেআইনী অংশ ভেঙ্গে ফেলা হবে’।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন ‘ঢাকা শহরে একেবারে অনুমোদনহীন বা অনুমোদনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অনেক ইমারত নির্মাণ করা হয়েছে, আমি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ বিষয়গুলো বিশদভাবে খতিয়ে দেখছি এবং আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা আইনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। অতীতের ঘটনাগুলোও খতিয়ে দেখবো, অতীতের দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে কমিটি কেনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, কারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাদেরকেও ব্যবস্থা গ্রহণের আওতায় আনা হবে’।

এর আগে মন্ত্রী বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের বিভিন্ন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউক এর চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রহমান, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসীর ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ ইয়াকুব আলী পাটওয়ারী সহ সংশ্লিষ্ট দফতর/সংস্থার কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।