ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo দ্বিতীয়বার মাস সেরা মুশফিক Logo মেসিকে অভিনন্দন জানালেন ক্লোসা Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র সাক্ষাৎ Logo হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন নামঞ্জ Logo মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা Logo শিরোনাম: স্টিল শিল্পে অতিরিক্ত ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি বিএসএমএ’র, উন্নয়ন বাজেট দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ Logo শিরোনাম: শিক্ষা বাজেট নিয়ে ‘কেমন হলো শিক্ষা বাজেট: বাস্তবতা ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত Logo মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী Logo ইউএইতে গ্রেফতার বেনজীর, দ্রুত দে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

সৈয়দ আশরাফের কথা বলতে গিয়ে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ১১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৯
  • ১০৬ বার পঠিত হয়েছে

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে নিজের ভাইয়ের মতো দেখতেন বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ নেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (৩০ জানুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদের প্রধান অধিবেশনের প্রথম দিনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ওপর আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সৈয়দ আশরাফের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আবেগজড়িত কণ্ঠে কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে তার গলা ধরে যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হচ্ছে’।

শেখ হাসিনা বলেন, সৈয়দ আশরাফ অত্যন্ত সৎ ও মেধাবী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। আমার পরিবারের সদস্যদের মতো ছিলো, আমাকে বড় বোনের মতো শ্রদ্ধা করতো। প্রতিটি ক্ষেত্রে সে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। রাজনৈতিক জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অসাধারণ মেধাসম্পন্ন নেতা ছিলো সৈয়দ আশরাফ। পৃথিবীর যেকোনো রাজনৈতিক দর্শন ওর নখদর্পণে ছিলো। ভাবতেই পারিনি ও এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবে।

তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে বলিষ্ট ভূমিকা রেখেছিল সৈয়দ আশরাফ। আজ আমরা যে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি সেক্ষেত্রে সৈয়দ আশরাফেরও বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিলো। অসম্ভব সহজ সরল ছিলো সে। ভাইদের হারিয়ে যে ক’জনকে ভাইয়ের মতো পেয়েছিলাম, সৈয়দ আশরাফ তাদের একজন। তার বাবা দেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন, সৈয়দ আশরাফও দীর্ঘদিন মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু সবসময় অসম্ভব সৎ জীবন-যাপন করেছে। ওর টাকা নেই, পয়সা নেই। কষ্ট করে চলতে হতো। তার চিকিৎসার জন্য যা যা করার আমি করেছি। তার মতো একজন প্রজ্ঞাবান ও জ্ঞানী রাজনীতিকের চলে যাওয়ার ক্ষতি কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। তার মৃত্যু দল হিসেবে আওয়ামী লীগের এবং দেশের জন্য চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

কিশোরগঞ্জবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আজ আশরাফের মতো একজন জ্ঞানী লোক, তাকে হারানো আমাদের দলের জন্য ও দেশের জন্য ক্ষতিকর। অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসায় থাকা অবস্থাতেই সৈয়দ আশরাফকে মনোনয়ন দেই। ওকে আমি বাদ দিতে পারিনি। ও বিদেশে চিকিৎসায় ছিলো কিন্তু প্রার্থী কেন নেই একটিবারের জন্যও তার এলাকার লোক প্রশ্ন করেনি। তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছি। যেদিন আমরা শপথ নেই সেদিনই ওর মৃত্যুর খবর পেলাম। এটা অনেক কষ্টকর যে সৈয়দ আশরাফ শপথ নিতে পারলো না। ওর বোন ডা. লিপিকে উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছি। সৈয়দ আশরাফের স্মৃতি ধরে রাখতে ডা. লিপিকে ভোট দিয়ে কিশোরগঞ্জবাসী নির্বাচিত করবেন।

শোক প্রস্তাবের ওপর আরও আলোচনা করেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এবং সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয়বার মাস সেরা মুশফিক

সৈয়দ আশরাফের কথা বলতে গিয়ে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট এর সময় : ১১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৯

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে নিজের ভাইয়ের মতো দেখতেন বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ নেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (৩০ জানুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদের প্রধান অধিবেশনের প্রথম দিনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ওপর আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সৈয়দ আশরাফের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আবেগজড়িত কণ্ঠে কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে তার গলা ধরে যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হচ্ছে’।

শেখ হাসিনা বলেন, সৈয়দ আশরাফ অত্যন্ত সৎ ও মেধাবী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। আমার পরিবারের সদস্যদের মতো ছিলো, আমাকে বড় বোনের মতো শ্রদ্ধা করতো। প্রতিটি ক্ষেত্রে সে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। রাজনৈতিক জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অসাধারণ মেধাসম্পন্ন নেতা ছিলো সৈয়দ আশরাফ। পৃথিবীর যেকোনো রাজনৈতিক দর্শন ওর নখদর্পণে ছিলো। ভাবতেই পারিনি ও এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবে।

তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে বলিষ্ট ভূমিকা রেখেছিল সৈয়দ আশরাফ। আজ আমরা যে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি সেক্ষেত্রে সৈয়দ আশরাফেরও বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিলো। অসম্ভব সহজ সরল ছিলো সে। ভাইদের হারিয়ে যে ক’জনকে ভাইয়ের মতো পেয়েছিলাম, সৈয়দ আশরাফ তাদের একজন। তার বাবা দেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন, সৈয়দ আশরাফও দীর্ঘদিন মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু সবসময় অসম্ভব সৎ জীবন-যাপন করেছে। ওর টাকা নেই, পয়সা নেই। কষ্ট করে চলতে হতো। তার চিকিৎসার জন্য যা যা করার আমি করেছি। তার মতো একজন প্রজ্ঞাবান ও জ্ঞানী রাজনীতিকের চলে যাওয়ার ক্ষতি কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। তার মৃত্যু দল হিসেবে আওয়ামী লীগের এবং দেশের জন্য চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

কিশোরগঞ্জবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আজ আশরাফের মতো একজন জ্ঞানী লোক, তাকে হারানো আমাদের দলের জন্য ও দেশের জন্য ক্ষতিকর। অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসায় থাকা অবস্থাতেই সৈয়দ আশরাফকে মনোনয়ন দেই। ওকে আমি বাদ দিতে পারিনি। ও বিদেশে চিকিৎসায় ছিলো কিন্তু প্রার্থী কেন নেই একটিবারের জন্যও তার এলাকার লোক প্রশ্ন করেনি। তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছি। যেদিন আমরা শপথ নেই সেদিনই ওর মৃত্যুর খবর পেলাম। এটা অনেক কষ্টকর যে সৈয়দ আশরাফ শপথ নিতে পারলো না। ওর বোন ডা. লিপিকে উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছি। সৈয়দ আশরাফের স্মৃতি ধরে রাখতে ডা. লিপিকে ভোট দিয়ে কিশোরগঞ্জবাসী নির্বাচিত করবেন।

শোক প্রস্তাবের ওপর আরও আলোচনা করেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এবং সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ।